বাংলাদেশ, , শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

উখিয়ায় আনন্দ স্কুলে ভূঁয়া পরীক্ষার্থী

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-২০ ০৮:৪৬:১৮  

রফিক মাহামুদ (০১৮১২৪২৯২৬৮), কোটবাজার = উখিয়ায় আনন্দ স্কুলের শিক্ষার্থী সাজিয়ে বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও (কেজি স্কুল) কিন্ডার গার্ডেন এর ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে অনুষ্টব্য প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রতœাপালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ২০১৫ মডেল টেস্ট শুরু হওয়ার প্রথম দিনে ৯জন শিক্ষার্থী ভূঁয়া প্রমাণিত হওয়ায় বহিস্কার হয়েছে। জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক সমাপনীর পরীক্ষার প্রথম মডেল টেস্ট শুরু দিনে সকালে ইংরেজী ও বিকেলে বাংলাদেশ বিশ্ব পরিচিতি বিষয়ে পরীক্ষা চালাকালীন কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষকগণ আনন্দ স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভূঁয়া পরীক্ষার্থী হিসাবে সনাক্ত করেন। তৎ মধ্যে উপজেলা রতœাপালং ইউনিয়নের রুহুল্লাডেবা আনন্দ স্কুলের জাহেদা আক্তার নামক একজন যার রোল নং- ১৯৯৫ সে ২০০৭ সালে রুহুল্লাডেবা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পরীক্ষা সম্পন্ন করে। পশ্চিম রতœা কবির আহমদ বাড়ী আনন্দ স্কুল ৪ শিক্ষার্থী জিয়া উল হক যার রোল নং- ২০৮৩, নুরী আক্তার রোল নং- ২০৯১, সামিয়া সোলতানা রোল নং- ২০৯২, এদের মধ্যে একজন সুপাইয়া বেগমের কোন রোল নং নেই এবং (ডি.আর) ছিল না। তারা সবাই পালং পাবলিক স্কুলের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। রতœা ঝাউতলা খুরশিদা আক্তারের বাড়ী আনন্দ স্কুলের ৩ শিক্ষার্থী আব্দুর রুউফ যার রোল নং- ১৮৪১, মুমিনুল ইসলাম যার রোল নং- ১৮৪২, ফারজানা আক্তার শীউলি যার রোল নং- ১৮৫১ এ ৩ শিক্ষার্থী আলহাজ্ব হাকিম আলী কেজি স্কুলের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী বলে অধ্যক্ষ শাহ আলম সাংবাদিকদের জানান। রতœাপালং অমল বড়–য়ার বাড়ী আনন্দ স্কুল খতিজা আক্তার যার রোল নং- ২০২৯ সে গত ২০১২ সালে সমাপনী পরীক্ষায় রতœাপালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পরীক্ষায় সম্পন্ন করে।
এদিকে রতœাপালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার মডেল টেস্ট (ডি.আর) অনুসারে ৭৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন আনন্দ স্কুল থেকে অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও ঝাউতলা খুরশিদার বাড়ী আনন্দ স্কুল থেকে ১৬ জনের মধ্যে ৬ জন অংশগ্রহণ করে, রুহুল্লাডেবা আনন্দ স্কুল থেকে ১৬ জনের মধ্যে ৮ জন, অমল বড়–য়া বাড়ীর আনন্দ স্কুল থেকে ১৮ জনের মধ্যে ৯ জন, পশ্চিম রতœা কবির আহমদ বাড়ী থেকে ১০ জনের মধ্যে ১ জন এবং সাদৃকাটা আনন্দ স্কুল থেকে ১৫ জনের মধ্যে ৭ জন শিক্ষার্থী চলমান সমাপনী মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সচেতন মহলের দাবী সরকার রক্স প্রকল্প (রর) এর আওতায় দেশ ব্যাপী জড়ে পড়া কুমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। যা ২০১৫ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কিছু দুর্নীতিবাজ ও অসাধু শিক্ষাকধারা পরিচালিত আনন্দ স্কুলের আজ বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। শুধু মাত্র লাভবান হয়েছে কয়েকজন হাতে গনা দুর্নীতিবাজ শিক্ষক যার কারণে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার পূর্বেই শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন থেকে জড়ে পড়ে যাচ্ছে। কেন্দ্র সচিব রতœাপালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নোমান জানান, অভিযোক্ত আনন্দ স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীতে অধ্যয়ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ কেন্দ্রে এসে তাদের শিক্ষার্থীদের সনাক্ত করে এর মধ্যে ২ জন পরীক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষা ইতি মধ্যে পাশ করে চলে গেছে। এ ব্যাপারে আনন্দ স্কুলের ট্রেনিং কো-অডিনেটর জহিরুল ইসলামকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী বহিস্কার হওয়ার খবর শুনেছি। সরজমিনে গিয়ে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদককে জানান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামিম ভূঁয়ার নিকট মুটো ফোনে আলাপ কালে বলেন, ট্রেনিং কো-অডিনেটর এর মাধ্যমে যাদের কে ডি.আর ভূক্ত করা হয়ে তাদের কে আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছি। যদি কোন শিক্ষার্থী ভূঁয়া পরীক্ষার্থী হিসাবে অংশগ্রহণ করে থাকে তা তদন্ত পূর্বক শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট মাদার স্কুলের প্রধান শিক্ষক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা