মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ায় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে সেবিকার চাকুরীতে বহাল!

পেকুয়ায় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে সেবিকার চাকুরীতে বহাল!

অনলাইন বিজ্ঞাপন

পেকুয়া প্রতিনিধি:

পেকুয়ায় এক নার্সের বিরুদ্ধে পিতার নামে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেখিয়ে পোষ্য কোটায় চাকুরীতে যোগদানের খবর চাউর হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানাযায়, উপজেলার শিলখালী আলেকদিয়া পাড়ার মৃত আবদুল কুদ্দুসের মেয়ে ইসমত জাকিয়া মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য কোঠায় সরকারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১১.০৭.২০১৩ইং সালের ৪৫.১৫৮.০১১.০০.০০.০২২.২০১১.৬৫৩ সংখ্যক স্মারক আদেশে সেবা পরিদপ্তরের আওতায় দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে নিয়োগ দেয়া হয় এবং এতদ সংক্রান্ত ২৩.১২.২০১৩ ইংরেজীতে প্রকাশিত নিয়োগ প্রাপ্ত ১৪৫জনের তালিকায় তার নাম ১৩৫নং এ জারি করা হয়। এদিকে এলাকার সচেতন লোকজনের মাঝে আবদুল কুদ্দুসের মুক্তিযোদ্ধার কথা শুনে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ মুক্তিযোদ্ধা চলাকালীন তার বয়স হয়েছিল প্রায় ১০/১১বছর কিন্তু মেয়ে ইসমত জাকিয়া প্রায় দেড় বছর ধরে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স হিসেবে চাকুরী করে বর্তমানে কক্সবাজার জেলা হাসপাতালে ট্রেনিং এ আছেন। পেকুয়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের জন্যে ২০০৪সালে নতুন নাম অর্ন্তভূক্তকরণের জন্যে ২৭জনের একটি তালিকা পরবর্তীতে আরো ৩জনের নাম অন্তর্ভূক্তির জন্যে সংযোজন করে আবেদন জমা দেয়া হয় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির কাছে। তালিকাভুক্তির জন্যে আবেদিত ওই তালিকায়ও আবদুল কুদ্দুসের নাম ছিলনা। ২০০৪সালের ৩০জনের মধ্যে মাত্র ১৭জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত হন। আবার চলতি বছরের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর স্মারক নং মুক্তি/পত্র/৮৯৫৬/১৫, তারিখ: ০৯/০৯/১৫খ্রি: সুত্র: ২ সেপ্টেম্বর ১৫ এর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-৪৮.০০.০০০০.০০২.৩৪.০০২.১২.৩৪০ প্রেরিত প্রকৃত ভাতাপ্রাপ্ত ২২ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভূক্ত করে যাচাই বাছাই কমিটির স্বাক্ষরিত চুড়ান্ত তালিকা প্রেরণ করা হয় সেখানেও কথিত মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুসের নাম নেই। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খবর নিয়ে জানা যায়, কেন্দ্র থেকে বা জেলা থেকে প্রেরিত কোন তালিকায় তার নাম নেই এবং তিনি কোন দিনও আবেদন করেননি। পেকুয়ার অনেক মুক্তিযোদ্ধার কাছে আবদুল কুদ্দুসের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবির্ভাব বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। তারা কেউ তাকে চিনেন না। তার মেয়ে ইসমত জাকিয়াকে প্রশ্ন করা হলে তার পিতা কোন ক্যাটাগরির মুক্তিযোদ্ধা কোন সেক্টরে কোথায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ছিলেন জানতে চাইলে কোন উত্তর দিতে পারেনা। অভিযোগ রয়েছে ইসমত জাকিয়ার ভাই রাসেদুল ইসলাম সোহেলও সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করে এখনো চাকুরী করছেন। পেকুয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সিদ্দিক আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবদুল কুদ্দুস নামের কোন মুক্তিযোদ্ধা পেকুয়াতে নেই। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত ইউএইচও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.মুজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ইসমত জাকিয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় নার্স হিসেবে হাসপাতালে চাকুরী করছেন। তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কিনা তিনি জানেনা। দেশব্যাপী সঠিক মুক্তিযোদ্ধার তথ্য যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হলে ইসমত জাকিয়ার ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তর চিঠি পাঠালে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ কি তথ্য দিয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এব্যাপারে কোন চিঠি তাদের কাছে পৌছেনি। পেকুয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছাবের আহমদে কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবদুল কুদ্দুস মুক্তিযোদ্ধা কিনা তার জানা নাই তবে এবার ২৭জন মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তভূক্তির জন্যে আবেদন করেছে সেখানে তার নাম আছে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি হলে এব্যাপারে যাচাই বাছাই করা সম্ভব হয়নি। পেকুয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুর রশিদ খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় তাকে চাকুরী দিয়েছে তারা জানবেন তিনি কোন ক্যাটাগরিতে চাকুরী পেয়েছেন।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM