বাংলাদেশ, , শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

এগিয়ে আসতে হবে পুরুষকে

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-১৯ ১৮:০৩:০৬  

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স:

সোনালী ইসলাম (ছদ্মনাম) একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে কর্মরত আছেন। মাসে তাঁর আয় ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু এই টাকায় তাঁর অধিকার নেই, বেতনের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে স্বামী নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করেন। সোনালীর কাজ শুধু চেক সই করে দেওয়া। এমনকি দৈনন্দিন খরচের টাকা অফিসে যাওয়ার আগে স্বামীর কাছ থেকে চেয়ে নিতে হয় তাঁকে। কোনো দিন বাড়তি টাকার দরকার হলে অনেক কারণ দর্শাতে হয়। তবুও সব সময় মেলে না। প্রায়ই মনে হয়, এই সংসার থেকে বের হয়ে যাবেন। কিন্তু সন্তানের কথা ভেবে সব মেনে নেন তিনি।
জেরিন হোসাইনের বিয়ে হয় স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময়। এরপর স্বামীর সহযোগিতা ও আগ্রহে স্নাতক, স্নাতকোত্তর শেষ করে এখন একটি ব্যাংকে চাকরি করছেন। তাঁদের একমাত্র সন্তানের পড়ালেখা থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া, দেখভালের বিষয়টি দুজনে মিলে করেন। এ ছাড়া ঘরের অনেক কাজই দুজনে মিলে করেন। সংসারের যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন জেরিন। তিনি বলেন, ‘ওর (স্বামীর) পূর্ণ সহযোগিতা না পেলে কখনোই আমার পক্ষে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব ছিল না।’
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নারীর ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত নারীর অধিকার নিশ্চিত করে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা করা। আর এ জন্য পুরুষকে অবশ্যই নারী সহায়ক হতে হবে। পুরুষের সহযোগিতামূলক মনোভাবের মাধ্যমেই নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য বন্ধ করে নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম হতে পারে।
পরিবারে একজন পুরুষ বিভিন্ন ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকেন। কখনো তিনি বাবা, কখনো স্বামী, ভাই বা সন্তান। সন্তান লালন-পালনে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি যেভাবে পিতার দৃষ্টি দিয়ে সন্তানকে দেখেন, পরিবারের প্রধান হিসেবে একজন নারী হোক তাঁর মেয়ে, স্ত্রী, বোন অথবা মা, সেভাবে তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করলেই নারীর ক্ষমতায়ন হবে, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানিয়া হক বলেন, পরিবার হচ্ছে একটি শিশুকে গড়ার মূল ভিত্তিস্থল। শিশুটি যখন ছোটবেলা থেকেই দেখবে তার পরিবারে নারীর প্রতি সম্মান দেখানো হয়, নারীকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়, নারীর অধিকার নিশ্চিত করা হয়, তখন শিশুটি বড় হয়েও সেই চর্চা করবে, নারীর প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব পোষণ করবে। এতে নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ তৈরি হবে, তাঁদের অধিকার নিশ্চিত হবে, নারীর ক্ষমতায়নের পথ সুগম হবে।
বর্তমান সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন, ইভ টিজিং বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তানিয়া হক বলেন, শুধু আইন দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না, নারীর ক্ষমতায়ন হবে না। নারীকে সমাজে শুধু নারী নয়, একজন মানুষ ভাবতে হবে। সেভাবে তাঁর প্রতি আচরণ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এটা নারীর কাজ, এটা পুরুষের কাজ—এই বিভাজন বন্ধ করতে হবে। আর নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি না হলে এখন যেসব নারী বাইরে কাজ করছেন, তাঁরাও ঘরমুখী হয়ে যাবেন। এতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নারীর ক্ষমতায়নে পুরুষকে বড় বাধা উল্লেখ করে নারীপক্ষের সভাপতি রেহানা সামদানী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে পুরুষ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন। আমাদের সমাজে পুরুষের সহযোগিতামূলক মনোভাব খুব কম। তাঁরা নারীর প্রাপ্য অধিকারে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, অধিকার চর্চায় বাধা দেন। কিন্তু তাঁরা যদি এ মানসিকতা পরিহার করে নারীর প্রতি সহায়ক হন, তবে নারী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবেন, নারীর পূর্ণ ক্ষমতায়ন হবে। তিনি বলেন, অবশ্য অনেক পুরুষ নারীর প্রতি সহযোগী মনোভাব পোষণ করেন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় নারীর অধিকার চর্চায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন না বরং উৎসাহিত করেন। সংখ্যায় কম হলেও বিষয়টি ইতিবাচক।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা