বাংলাদেশ, , শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-১৯ ১৮:০১:৪৫  

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স:
d6470330e0d8c5bc0d7d5ab52601a5ea-Untitled-1একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য নারীর ক্ষমতায়ন জরুরি। অথচ সমাজের অনেক ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি হলেও আমাদের দেশে তাদের ক্ষমতায়ন এখনো তেমনভাবে হয়নি। এ বিষয়ে প্রথম আলো কথা বলেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ও নারীনেত্রী আয়েশা খানমের সঙ্গে।

প্রথম আলো: দেশের নারীদের ক্ষমতায়নের বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? আমাদের দেশে নারীর ক্ষমতায়ন কি সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে?
আয়েশা খানম: বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের দুটো চিত্র। ইতিবাচক চিত্রটি হলো জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে স্থানীয় সরকার,সংসদ,পোশাক কারখানা—সর্বত্রই নারী সফলতা অর্জন করে চলছেন। আইলা, সিডরসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রতিকূল পরিবেশে নারীকে বেশ সাহসের সঙ্গে আমরা কাজ করতে দেখেছি। আর কৃষিক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এখন নারীরা অনেক বেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অর্জন করেছেন। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, নারীবান্ধব পরিবেশ সব জায়গায় নেই, এমনকি কর্মক্ষেত্রেও নয়। সবচেয়ে নেতিবাচক দিক হলো, নারীকে এখনো একজন পূর্ণ মানুষ ভাবা হয় না।
পৃথিবীর হাতে গোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া কোথাও নারীর ক্ষমতায়ন সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। এখনো নারীরা রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারেননি।
প্রথম আলো: কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। কিন্তু আবার নারীর প্রতি সহিংসতাও হচ্ছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
আয়েশা খানম: সহিংসতার মূল কারণ নারীকে মানবসন্তান মনে করা হয় না। তাকে কেবল নারী, সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র মনে করা হয়, যাঁকে সমাজের দরকার। একজন নারী সন্তান উৎপাদন করবেন, সংসার করবেন—এই ধারণাই প্রচলিত। একজন মানুষ হিসেবে নারী মর্যাদা, অধিকার পান না। কোনো নারী যৌন হয়রানির শিকার হলে সেই নারীকে অস্পৃশ্য বানিয়ে দেয় সমাজ। ফলে ওই নারীর পক্ষে আর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এ ছাড়া ধর্ষণ হচ্ছে নারীকে অবদমনের একটি উপায়, যাতে নারী বাইরে কাজ না করতে পারেন, ঘরে বন্দী থাকেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় বর্তমানে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলছে।
প্রথম আলো: নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠিত হলেই নারীর ক্ষমতায়ন হবে বলে আপনি মনে করেন কি?
আয়েশা খানম: নারীর ক্ষমতায়নের জন্য অবশ্যই নারী-পুরুষের সমতা দরকার। এ জন্য পরিবার ও সমাজ সব ক্ষেত্রেই নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এখন অনেক নারী উচ্চ পদে কর্মরত আছেন, কিন্তু তাঁরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছেন না। নারীকে অবশ্যই সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রথম আলো: অনেকেই বলে থাকেন, নারীর ক্ষমতায়নের পথে বাধা নারী—এ কথার সঙ্গে আপনি কি একমত?
আয়েশা খানম: এ কথা সর্বাংশে ঠিক নয়। অনেকে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এমন মন্তব্য করে থাকেন। যেমন, শাশুড়ির কারণে অনেক নারীকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে। অনেক নারী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি। তাঁরা নিশ্চয়ই এমনটাই বলবেন। তবে এমনও উদাহরণ আছে, শাশুড়ির সহযোগিতায় অনেক পুত্রবধূ তাঁদের কর্মস্থলে উচ্চ পদে আসীন হয়েছেন। এটা মনে রাখতে হবে, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা আর নারীর ক্ষমতায়নের জন্য পরিবারকে হতে হবে নারীর অভয়ারণ্য, কর্মস্থলের পরিবেশ হবে অনুকূল আর সমাজকে হতে হবে নিরাপদ ভূমি।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুসলিমা জাহান


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা