শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

দল পুনর্গঠন, না আন্দোলন?

দল পুনর্গঠন, না আন্দোলন?

অনলাইন বিজ্ঞাপন

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স॥

এবারের শুষ্ক মৌসুমে দল পুনর্গঠন, না সরকারবিরোধী আন্দোলন- তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতাদের মধ্যেও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মত ও অবস্থান।

কেউ বলছেন, দল পুনর্গঠন না করে আন্দোলনে যাওয়া বিএনপির জন্য ঠিক হবে না। কেউ বা বলছেন, আন্দোলনে না গিয়ে শুধু দল পুনর্গঠন নিয়ে বসে থাকলে বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। কেউ বা আবার দল পুনর্গঠন ও আন্দোলন একই সঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে।

তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রীয় সংবিধান থেকে ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার পর গত চার বছর ধরেই শুষ্ক মৌসুমে আন্দোলন করে আসছে বিএনপি।

এসব আন্দোলন সফলতার মুখ না দেখলেও পুরো শুষ্ক মৌসুমে হরতাল-অবরোধ ডেকে ‘নাশকতা’ চালিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম রাখার চেষ্টা করে গেছে তারা।

জানা গেছে, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও শুষ্ক মৌসুমে রাজনীতির মাঠ গরম রাখার জন্য আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বিএনপির। লন্ডনে যাওয়ার আগে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে এমন আভাসও দিয়েছিলেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে আন্দোলনে নামার আগে দল পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

এরই প্রেক্ষিতে গত ১২ আগস্ট সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে চিঠি দেওয়া হয় কমিটি পুনর্গঠনের জন্য। সময় বেঁধে দেওয়া হয় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

কিন্তু, মামলা-মোকদ্দমা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ, দায়িত্বশীল নেতাদের কারাগার-আত্মগোপন ও বিদেশযাপনসহ নানা জটিলতার কারণে দল পুনর্গঠনের কাজ ২৫  শতাংশও শেষ করতে পারেনি বিএনপি। ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে এমন জেলার সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বরের মধ্যে দল পুনর্গঠন শেষ করে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি জাতীয় কাউন্সিল করার পরিকল্পনা ছিল বিএনপির। এরপর বর্তমান সরকারের দুই বছর পূর্তিকে সামনে রেখে ডিসেম্বরের শেষ অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ফের মাঠে নামার চিন্তা ছিল তাদের।

সূত্র মতে, এমন পরিকল্পনা থেকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে শলামরামর্শ ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডনে যান খালেদা জিয়া।

যাওয়ার আগে শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ দিয়ে যান নভেম্বরের আগেই সবগুলো সাংগঠনিক জেলা পুনর্গঠন শেষ করে জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিতে। কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন, দলের কোনো পর্যায়ে কোনো ধরনের ‘পকেট কমিটি’ যেন না হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার এ নির্দেশগুলোর কোনোটিরই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নভেম্বরের আগে তৃণমূল পুনর্গঠন তো দূরের কথা, আগামী কয়েক মাসেও সেটি হবে কি-না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরও খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। লন্ডনে আয়োজিত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় খালেদা জিয়ার পূর্ব নির্ধারিত ২৭ অক্টোবরের সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি ব্রিটিশ পুলিশ।

বিএনপি নেতাদের দাবি, লন্ডনের ওই সমাবেশ থেকেই পরবর্তী আন্দোলন-সংগ্রামের রূপরেখা ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।

এ অবস্থায় এবারের শুষ্ক মৌসুমে দল পুনর্গঠন, নাকি আরেকবার সর্বাত্মক আন্দোলন- তা নিয়ে গোলকধাঁধায় পড়েছেন বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃনমূল নেতারাও বিষয়টি নিয়ে দোটানায় আছেন।

তৃণমূলের কোনো কোনো নেতা মনে করেন, দীর্ঘ ৬ বছর বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হয়নি। তৃণমূল পুর্নগঠনও রয়েছে পিছিয়ে। তাই সংগঠন শক্তিশালী  করতে এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দিতে এবারের শুষ্ক মৌসুমে আন্দোলনে না গিয়ে দল গোছানোর দিকে বিএনপির মনোনিবেশ করা উচিত।

চট্টগ্রাম (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. মহিউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, আমরা কি কেবল আন্দোলন করে যাবো, দল গোছাতে হবে না? সাংগঠনিকভাবে মজবুত ভিত তৈরি করতে না পারলে আন্দোলন করবো কীভাবে?

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৈমুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, সংগঠন মজবুত না হলে আন্দোলন করা যায় না। সুতরাং আমাদের বোধ হয় আরেকটু অপেক্ষা করা উচিত।

কিন্তু এ ব্যাপারে সবাই একমত হতে পারছেন না। বিএনপির অপর অংশটি মনে করছে, সরকারকে চাপে রাখতে চাইলে বরাবরের মতো এবারও ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বিএনপিকে মাঠে নামতে হবে। নইলে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির অস্তিত্ব ও সক্ষমতা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার জন্ম হবে।

তাই সরকারের দুই বছর পূর্তি সামনে রেখে ডিসেম্বরের শেষ অথবা জানুয়ারির শুরুতে ফের কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার পক্ষে বিএনপির এ অংশটি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলানিউজকে বলেন, দল পুনর্গঠন এবং আন্দোলন এক সঙ্গেই চলবে। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলানিউজকে বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) দেশে ফিরলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে ঠিক করা হবে, দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে নাকি আন্দোলনে যাবে বিএনপি।
বাংলা নিউজ


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM