বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ০৭:২১ অপরাহ্ন

এক শহিদে আতংক হোটেল মোটেল জোন !

এক শহিদে আতংক হোটেল মোটেল জোন !

অনলাইন বিজ্ঞাপন

পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মো: রাশেদ নিহতের জেরে কক্সবাজার জেলার সব পুলিশের এক যোগে বদলীর সুযোগে পালিয়ে বেড়ানো অপরাধীরা একে একে ফিরে আসছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। এতে করে চুরি, চিনতাইয়ের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন কি সম্প্রতি একের পর এক খুনের ঘটনায় কক্সবাজারের সর্বত্রই আতঙ্ক বিরাজ করছে। পর্যটন এলাকা হোটেল-মোটেল জোনে ফিরে এসেছে পালিয়ে বেড়ানো শহিদ প্রকাশ বর্মাইয়া শহিদ।

তার ফিরে আসার খবরে হোটেল মোটেল জোনে অজানা আতংক দেখা দিয়েছে।

এরমধ্যে বেশ কয়েকজন পর্যটকের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে শহিদের বিরুদ্ধে। এতে করে পর্যটক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হলেও রহস্যজনক কারনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

তার অপকর্মের বিষয়টি স্বীকার করেছেন নিউ এবিএম রির্সোটের স্বত্ত্বাধিকারী শাহ বেলাল।

ভূক্তভোগী সানিয়া মির্জা নামের এক নারী পর্যটকের দাবি, কুমিল্লা থেকে গত ( ১জানুয়ারী) সকালে কক্সবাজারে এসে শহিদ স্বরণি এলাকার নিউ এবিএম রিসোর্টে উঠেন তিনি। ওইদিন রুম থেকে বের হয়ে বীচে ঘুরাঘুরির পর রাতে হোটেলে ফিরে এসে দেখতে পান তার রুমের দরজা খোলা। এসময় তিনি এক ব্যক্তিকে রুম থেকে তার ব্যাগ নিয়ে বের হতে দেখেন।পরে জানতে পারেন তার নাম শহিদ।

বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানালে শহিদ নিজেকে হোটেলের মালিক হিসেবে পরচিয় দেন এবং বাড়াবাড়ি করলে ইয়াবা দিয়ে ওই নারী পর্যটককে পুলিশে দেয়ার হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী সানিয়া তার ব্যাগে ১৬ হাজার টাকা একটি স্বর্ণের চেইনসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই ছিল উল্লেখ করে বিষয়টি সদর থানা পুলিশকে অবগত করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন।

একইভাবে ক্যামেরা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন তারেকুল ইসলাম নামের আরেক পর্যটক। তিনি জানান,গত ৩ জানুয়ারি নিউ এবিএম রিসোর্টে রুম ভাড়া নেয়ার রাতে শহিদ নামের এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে এসব ছিনিয়ে নেয়।তাকেও বাড়াবাড়ি করলে ইয়াবা ও নারী দিয়ে পুলিশকে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেন শহিদ ।তারেকের অভিযোগ, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

এর আগে কামাল নামের এক পর্যটকের রুমে রাতে মেয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে জিম্মি করে ছবি তোলে ৫০ হাজার টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠে শহিদের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়াও কয়েকজন তরুণীকে জোর করে ইয়াবা সেবন ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে শহিদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়ে জানেত চেয়ে শহিদের ব্যবহৃত নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নিউ এবিএম রিসোর্টে গিয়ে শহিদকে পাওয়া যায়নি।

এবি এম রিসোর্টের মালিক শাহ বেলাল  অভিযোগই স্বীকার করে বলেন, বাবু নামের একজনকে আমি আমার কটেজটি ভাড়া দিয়েছি। তার আত্মীয় পরিচয়ে শহিদ নামের একজন চিহ্নত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী ওই কটেজে থাকেন। সেখানে প্রতিরাতে এক অসৎ পুলিশ অফিসারের সহযোগীতায় শহিদ পর্যটকদের মেয়ে বা ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ পেয়েছি।

বিষয়টি আমি পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাকে অবগত করেছি। কিন্তুু কেউ শহিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অথচ শহিদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও ওয়ারেন্ট রয়েছে। তাই এসবের দায় আমি নিবো না

পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, সিন্ডিকেট করে শহিদ প্রায় হোটেল ও রিসোর্ট গুলোতে ইয়াবা সাপ্লাইয়ের পাশাপাশি নানা কায়দায় পর্যটকদের জিম্মি করে টাকা আদায় করে যাচ্ছেন।

অতীতে দেখা গেছে পুলিশ অভিযোগকারীদের উল্টো হয়রানি করেছে। এ ভয়ে কেউ আর শহিদের ব্যাপারে প্রশাসনকে কেউ অভিযোগ দিতে চাই না। এ এক শহিদের কারনে পর্যটন শিল্প ব্যবসায়ীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। তার কারণে একদিন পর্যটন শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা পর্যটন ব্যবসায়ীদের।

এ বিষয়ে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল গিয়াস বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি। শহিদ সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, শুধু শহিদ নয়, অপরাধী যেই হোক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, করোনা দুর্যোগের আগে শহিদের ইয়াবা বাণিজ্য, পর্যটকদের জিম্মি করে টাকা আদায় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের কারনে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে শহিদ আত্মগোপনে চলে যায়। তবে সিনহা হত্যার পর এক যুগে জেলার সব পুলিশ বদলী হওয়ার সুযোগে আবারো পর্যটন শহরে ফিরে এসেছেন শহিদ।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM