বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

`দুইযুগ পরে সমিতির নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ’ !

`দুইযুগ পরে সমিতির নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ’ !

অনলাইন বিজ্ঞাপন

প্লটবিহীন সদস্যদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, প্রার্থীদের যথাসময়ে ভোটার তালিকা সরবরাহ না করা এবং পাওনা পরিশোধের চিঠি না পাওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কক্সবাজারের আলোচিত ‘উত্তরণ গৃহায়ণ সমবায় সমিতি লি: এর নির্বাচনের ফলাফর প্রত্যাখান করলো প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা। এটিকে তারা প্রহসনের নির্বাচন বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তাদের দাবি, গেল দুইযুগ তারা সমিতির নির্বাচন দেখিনি। কাগজে কলমে সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ সব পদ সমযোতার মাধ্যমে নিতেন। আজ (শনিবার) সুষ্ঠু নির্বাচনের আশায় বুক বেঁধে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন । কিন্তু নির্বাচন কমিশন একটি পক্ষের হয়ে ভোটার তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজ করেছেন। এর চেয়ে হতাশা আর নিন্দনীয় কাজ নেই। এ অবস্থায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফর প্রত্যাখান করে আদালতে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

তবে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি সুষ্ঠু, সুন্দর পক্ষপাতহীন নির্বাচন শেষ করেছেন তারা।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী শওকত ওসমান পিয়ারু বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি আমার সন্তানের মতো। বর্তমানে নানা অনিয়মে আর দুর্নীতিতে জর্জরিত হয়েছে এটি। একটি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে সমিতিকে গিলে খাচ্ছে। নির্বাচন আসার আগে তারা পদের ভাগবাটোয়ারা করে নিতো। এবার আমরা চেয়েছিলাম একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির সদস্যদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু এখানেও সুক্ষভাবে এমন ব্যাক্তিদের ভোটার করা হয়েছে যারা প্লটের মালিকও নন। প্লটের মালিক না হয়ে কিভাবে ভোটার হয়েছেন সেটিই আমার প্রশ্ন।

আজাহারুল ইসলাম নামে অপর এক সদস্য বলেন, আমি কক্সবাজারে বসবাস করি। অথচ সমিতির পাওনা টাকা পরিশোধের অফিসিয়াল চিঠি পায়নি। যারফলে আমাকে ভোটার করা হয়নি। মূলত আমাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে এমনটি করা হয়েছে।

সহ-সভাপতি প্রার্থী রাজা শাহ আলম চৌধুরী বলেন, আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি শুধুমাত্র তাদের অনিয়ম চোখে অবলোকন করতে। নির্বাচনে অংশ নিয়ে বুঝতে পারলাম কতটা অনিয়ম তারা করতে পারেন। আমি একজন প্রার্থী হিসেবে বারবার ভোটার তালিকা চেয়েও পায়নি। নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে বৃহস্পতিবার ভোটার তালিকা পেয়েছি। যারফলে অনেক ভোটারের সাথে আমি যোগাযোগও করতে পারি নি। নির্বাচন অফিসার অত্যান্ত কৌশলে একটি পক্ষের হয়ে কাজ করেছে। ভোটের দিনও আমি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনারের কাছে জানতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিতে পারেন নি। আমি এ নির্বাচনের ১৫০ ভোটার নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলাম। প্রয়োজনে আমি আদালতে যাবো। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিমও ভোটার হয়েছে। অথচ অনেক প্লট ওনার ভোটার হতে পারেনি।

তিনি প্রশ্ন করে বলেন, হাউজিং সোসাইটির নিজস্ব ভবন থাকলে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করে বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স অফিস পরিচালনা করার কারণ কি ?  অথচ বাইতুশ শরফ এবং উত্তরণ হাউজিং এর সাথে কোন সম্পর্ক নেই।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় দাশ গুপ্তা বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে সমিতির নির্বাচন হয় নি। সব সময় সমযোতা বা নিয়োগকৃত থাকতেন। সেখানে আমি একটি সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়েছি। জয় না পেলে অনেকে অনেক কথা বলতে পারে। এ নিয়ে আমি বিচলিত নয়।

ভোটার তালিকা কেন সরবরাহ করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শোনতে পেয়েছিলাম একটি পক্ষ নির্বাচন বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে। তাই কৌশলগত কারণে তাদের কাছে ভোটার তালিকা দেয়া হয় নি। কিন্তু খসড়া তালিকা দেয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মেয়র মুজিবুর রহমান। আজ সাধারণ সম্পাদক পদে ১৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মাস্টার আলহাজ্ব এমএম সিরাজুল ইসলাম। সহ-সভাপতি পদে হাজী ফজলুল করিম সিকদার ১৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM