বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন

“ফেঁসে যাবার ভয়ে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান আজিজ” 

“ফেঁসে যাবার ভয়ে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান আজিজ” 

অনলাইন বিজ্ঞাপন

২০২০ সালে মোঃ ইউনুচ নামে এক ব্যাক্তির কাছ থেকে ১৭৪৫ নাম্বার ক্রমিক স্লিপে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করেছেন ধুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ। তার স্বাক্ষরিত রিসিট থেকে এটি নিশ্চিত হওযা যায়। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে তাদের প্রত্যেককে দিয়েছেন প্রত্যায়নপত্র, চেয়ারম্যান সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। অথচ ইউনুছসহ ১৩ জনকে রোহিঙ্গা দাবি করে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ তাদের ভোটার বাতিল ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিশেষ কমিটির সভায় এ অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোটার হওয়া ব্যক্তিদের রোহিঙ্গা পরিচয় প্রকাশ পেলে চেয়ারম্যান নিজেকে বাঁচাতে লোক দেখানো অভিযোগ করেছেন। তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে চেয়ারম্যানের অভিযোগের ভিত্তিতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পরিচয় গোপন করে জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ এবং মিথ্যা তথ্য প্রদানের অপরাধ এনে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ সচিবসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু জাফর ছালেহ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২০ নাম্বার। মামলায় ঘটনার সময় দেখানো হয়েছে ২০১৪ সালের ২৮ ও ২৯ জুন এবং ২০১৫ সালের ১০,১১,২০ সেপ্টেম্বর। ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। ২০২০ সালে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভায় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনের পর এ মামলা দয়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাচন কমিশনার।

তবে রহস্যজনক কারণে মামলা থেকে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজকে বাদ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

তিনি বলেন, উপজেলার বিশেষ কমিটির এক সভায় ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ ১৩ জন রোহিঙ্গা ভোটার ও তাদের সনাক্তকারী বাবা/মা পরিচয়দানকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। চেয়ারম্যান অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দিতে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসারকে নির্দেশনা দেন নির্বাচন কমিশন। কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসারের তদন্ত প্রতিবেদনের উপর গেল বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনায় বলা হয়, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পরিচয় গোপন করে জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ এবং মিথ্যা তথ্য প্রদানের সাথে অভিযুক্ত রোহিঙ্গা ও তাদের পিতামাতা পরিচয়দানকারীরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব (শৃঙ্খলা) মোহাম্মদ নুরুল হাসান ভূঁয়া স্বাক্ষরিত ১৭.০০.০০০০.০৮৩.৯৯.০০১.১৯.১৬৯ স্বারকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

তার নির্দেশনা মতে উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু জাফর ছালেহ বাদী হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান দিপক বড়ুয়া, সচিব এরশাদুল হকসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ উঠেছে জন্ম নিবন্ধনসহ, চেয়ারম্যান সনদ, প্রত্যাযনপত্র, হোল্ডিং ট্যাক্সসহ সব ধরনের কাগজপত্রে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজের স্বাক্ষর থাকলেও তাকে আসামি করা হয়নি। বিষয়টি রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার এস.এম. শাহাদাত হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের নির্দেশ পেয়ে আমি বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছি। চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজের স্বাক্ষরিত কাগজপত্র থাকার পরও কেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি। তবে অনৈতিক লেনদেন হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

জানতে চাইলে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সটিব এরশাদুল হক বলেন, আমি ২০১৪ সালের ১২ মার্চ মাসে পরিষদে যোগদান করি। একই বছর জুনের ২১ তারিখ চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেন জাহাঙ্গীর আজিজ। আমি অপরাধী হলে চেয়ারম্যান অপরাধী হবে না কেন।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়া জন্ম নিবন্ধন বলেন, প্রত্যায়ন পত্র বলেন, জাতীয়তা সনদ বলেন কোন কিছুই দেয়া হয় না। তাহলে আমাদের নামে মামলা হলে চেয়ারম্যানের বাদ যাওয়াটা প্রশ্নবিদ্ধ। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন তাদের সব কাগজপত্রে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর রয়েছে। আমি অভিযোগের সব কাগজপত্র তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সরবরাহ করেছি। তিনি কেন তা এড়িয়ে গেছেন সেটি আমি জানি না।

চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ বলেন, অভিযুক্তরা রোহিঙ্গা জানার পর নিজেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। আমার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদি উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু জাফর ছালেহ বলেন, চেয়ারম্যানের অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার। পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার ভিত্তিতে আমি বাদী হয়ে মামলা করছি। আমার নিজস্ব কোন বিষয় নয়।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM