বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ০৫:৫১ অপরাহ্ন

চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু

চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু

অনলাইন বিজ্ঞাপন

টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদ ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণসহ নানা অভিযোগ এনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চাওযা হলে বান্দরবান জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশরাফুল হক অভিযোগের তদন্ত করছেন।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, গত ৫ জানুয়ারি অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত উভয়ের লিখিত জবাব নেয়া হয়েছে।

এদিকে উত্তর ঘুমধুম এলাকার রশিদ আহমদের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের জুন মাসে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ নানা অনিয়ম আর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা সনদ, জন্ম নিবন্ধন, প্রত্যায়নপত্র প্রদানপূর্বক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। এমন কি রোহিঙ্গাদের সব ধরনের কাগজপত্র সংগ্র করতে নিজেই। সরকারি দল সমর্থীত চেয়ারম্যান হওয়ায় কেউ সহজে প্রতিবাদ করার সাহস করেনি। যার ফলে চেয়ারম্যানের অনৈতিক কর্মকান্ড দিন দিন বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় অনিয়ম আর রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেল বছরের ৩১ ডিসেম্বর মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিভাগীয় কমিশনারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বান্দরবান জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়। উক্ত আদেশ বলে বান্দরবান জেলার স্থানীয় সরকার শাখা ৪৬.৪২.০৩০০.৫০২.০৩.০৪৯.২০.৩৫৭২৪/১১/২০২০ নং স্বারক মূলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ভূমি অফিসারকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

গেল ৩১ ডিসেম্বর ০৫.৪২.০৩৫১.৩০৫.০২.০২৭.২০২০-১৭৪ নং স্বারকে অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত উভয়কে উপস্থিত থেকে নিজস্ব বক্তব্য দিতে অনুরোধ জানানো হয়। নোটিশ পেয়ে গত ৫ জানুয়ারি অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত উভয় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশরাফুল হকের কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্য দেন।

অভিযোগকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নানা অনিয়মের পাশাপাশি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর সব ধরনের কাগজপত্র সংগ্রহ করতেন চেয়ারম্যান নিজেই। রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে তার দেয়া সব কাগজপত্র আমার কাছে সংগৃহীত রয়েছে। যা নিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখন তা তদন্ত হচ্ছে। গত ৫ জানুয়ারি আমি লিখিত বক্তব্য দিয়েছি। আশা করি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান আজিজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হলে, ভবিষ্যতে অন্য কোন জনপ্রতিনিধি এমন অপরাধ করার সাহস করবে না।

অভিযোগ সম্পর্কে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, আমি কোন রোহিঙ্গাকে ভোটার করি নি। তারা আগের চেয়ারম্যানের দেয়া জন্ম নিবন্ধন নিয়ে আমি বিভ্রান্তে ছিলাম। যখন আমি ভোটার হওয়াদের রোহিঙ্গা বলে নিশ্চিত হয়েছি তখন আমি নিজেই তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন অফিসে অভিযোগ দিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর একটি নোটিশ পেয়ে ৫ জানুয়ারি কাগজপত্রসহ লিখিত জবাব দিয়েছি। জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশরাফুল হক বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আসা একটি অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়েছে। আমি অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের লিখিত জবাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে মতামতসহ প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।

এ ব্যাপারে বান্দরবান জেলা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাহবুব আলম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যদি প্রতিবেদন পক্ষপাত পুষ্ট হয় তবে তাও আমলে নেয়া হবে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM