বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন

কক্সবাজর দক্ষিণ বনবিভাগের ২০৫৮৫ একর বনভূমি বেদখল !

কক্সবাজর দক্ষিণ বনবিভাগের ২০৫৮৫ একর বনভূমি বেদখল !

অনলাইন বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালে বাস্তুচ্যুত্ত ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা, প্রভাবশালী ব্যক্তি, আশ্রয়হীন জনগন ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের হাতে কক্সবাজর দক্ষিণ বনবিভাগের ২০৫৮৫ একর সরকারী বনভূমি জবর দখল হয়েছে। রোহিঙ্গা ছাড়াও এসব ভূমিতে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে ১৯২০৪ জন দখলদার ও ৬৯৬ টি প্রতিষ্ঠান। একই সাথে সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাবশালী ব্যাক্তিরাও পাল্লা দিয়ে দখল করছে বনভূমি। নির্বিচারে পাহাড় আর বন নিধনের ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি জীববৈচিত্রের উপর চরম প্রভাব পড়ছে। বনভূমি ধ্বংস হওয়ায় বাতাসে কর্বনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অভিযোগ রয়েছে, বনবিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বনভ‚মি দখলের পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। তবে, বনবিভাগের পক্ষ থেকে দখলদারদের চিহ্নিত করে বেদখলে থাকা জমি উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের দেয়া তথ্য মতে, দেশের বনাঞ্চলের মধ্যে কক্সবাজারের বনাঞ্চলই হচ্ছে বাংলাদেশে বনজ সম্পদে সমৃদ্ধ। পাহাড় পর্বতে ঘেরা এ অঞ্চলে বন্যপ্রাণীর পদচারনায় জীববৈচিত্র্য ভরপুর ছিল প্রাকৃতিক সুন্দর্য্যের এ বনাঞ্চল। কিন্তু দখল বাণিজ্যের কারণে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বনাঞ্চলের সে যৌবন হারিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়ছে বনভূমি।

বনবিভাগের সূত্র মতে, কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের অধীনে মোট ১২০৫৩৪ একর বনভূমি রয়েছে। যেখানে সংরক্ষিত (রিজার্ভ) ১০১৩৫৫ এবং রক্ষিত ১৯১৭৮ একর। অথচ বনবিভাগের বিশাল ভূমি দেখভাল করতে ১০টি রেঞ্জ’র মাত্র ৫০টি বিট/টহল ফাঁড়ি রয়েছে। যেখানে লোকবল রয়েছে মাত্র ৩১৭ জন। অপ্রতুল জনবল দিয়ে এত বিশাল বনভূমির রক্ষনাবেক্ষণ করা বনবিভাগ পক্ষে কঠিন। এ অবস্থায় শূণ্য পদ পুরণের দাবি জানিয়ে বনবিভাগের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন জানানোর হয়েছে।

এদিকে স্বল্প সংখ্যক জনবলের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বনবিভাগের ১২৪২১ এরক জমি বেদখল হয়ে পড়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যত্ত রোহিঙ্গাদেরস জন্য বরাদ্দ হওয়ায় ৮ হাজার একর। এছাড়া আইনে নিষিদ্ধ থাকার পরও পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করছে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। এক্ষেত্রে বনবিভাগের অনুমতির প্রয়োজনও মনে করছে না তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মূলত বন বিভাগের ভূমি রেকর্ড/জরীপের সুষ্ঠু নির্দেশনা থাকলে জরিপ বিভাগ যথাযথভাবে ভূমিকা পালন না করায় নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেক সময় বনবিভাগের অনেক জমিই জেলা প্রশাসন বিভিন্ন ব্যক্তি/সংস্থাকে স্বল্প/দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দেয়। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগকে কোন প্রকার অবগত করাও হয়না। ফলে অনেক সময় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হিমছিমি খেতে হয় বনবিভাগের কর্তৃপক্ষের।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কক্সবাজারে যে পরিমাণ বনভ‚মি ধ্বংস হচ্ছে সে পরিমাণ বনাঞ্চল সৃজনের কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অনেকটা বনবিভাগের পক্ষ থেকে উদাসিনতার পরিচয় দিচ্ছে। দিন দিন বনভ‚মি ধ্বংস হওয়ায় বাতাসে কার্বনের পরিমাণ যেমন বাড়ছে তেমনি পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপর চরম প্রভাব পড়ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, পাহাড় আর বন যেভাবে ধ্বংস হচ্ছে একদিন কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে খরা দেখা দিবে। কক্সবাজারের এ অঞ্চলটি মানুষের বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়বে। এমনকি পানির স্তর নিচে যাওয়ার পাশাপাশি লবনাক্ততা দেখা দিবে। এ পরিস্থিতিতে সরকারকে দ্রæত সময়ের মধ্যে বনভ‚মি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

জানতে চাইলে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, বনভূমি রক্ষায় আমরা কাজ করছি। বনভূমি রক্ষায় গেল এক বছরে দখলদারদের বিরুদ্ধ ১২৮ টি অভিযান পরিচালনা করে ২৬৪ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে অর্ধশত মামলার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও আদালতে প্রায় চার শতাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। বনবিভাগের এ কর্মকর্তা বলেন, স্বল্প জনবল দিয়ে বিশাল এ বনভূমি রক্ষা করা কঠিন। তাই অনেক সময় আমরা উচ্ছেদ করে আসার পর পুনরায় দখল করে রাখে দখলবাজরা। ইতিমধ্যে আমরা জবরদখলের একটি তালিকা তৈরি করেছি।

দখলদারদের উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয় করার বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা অভিযান পরিচালনা করতে পারবো।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM