বৃহস্পতিবার, ২৫ Jul ২০২৪, ০৯:১৪ অপরাহ্ন

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বহুমুখী ষড়যন্ত্র

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বহুমুখী ষড়যন্ত্র

অনলাইন বিজ্ঞাপন

বিশেষ প্রতিবেদক ॥

মাতার বাড়ি তাপ ভিত্তিক কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প যাতে পদ্মাসেতুর ন্যায় বাঁধা গ্রস্থ হয়, সেজন্য বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। যারা যে জমিতে চিংড়ী ও লবণ উৎপাদন করে বীবিকা নির্বাহ করতো তাদের সেই লবণ ও চিংড়ি শিল্প ভিত্তিক ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। তবুও দেশ ও জাতির কল্যাণে বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্বার্থে ওই জমির দখল ছেড়ে দিয়েছে জমির মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ভূমি অধিগ্রহনের বিধান মতে অধিগ্রহন কালে যে ফসল দন্ডায়মান থাকে সেই ফসলের ক্ষতি পূরণ দেয়ার বিধান রয়েছে। সেই অনুযায়ী কিছু কিছু চিংড়ী চাষী ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করেছে। প্রত্যাশী সংস্থা ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তর একাধিক তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে যে ২৩ কোটি টাকা নিয়ে এতো কথা হচ্ছে, সে টাকা উত্তোলন করা হয়। এতে কোন অনিয়ম ও দূর্নীতি হয়নি। সরকার বা দাতা সংস্থার স্বার্থও কোনভাবে ক্ষুন্ন হয়নি। ক্ষুন্ন হয়েছে এক শ্রেণীর কুচক্রী মহল ও চাদাবাজ চক্রের স্বার্থ। তাই সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে বারবার তারা বাধা সৃষ্টি করছে। আমাদেরকে অহেতুক জেলা প্রশাসকের প্রতিপক্ষ বানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছি বলে নানা অপ-প্রচারে লিপ্ত রয়েছে কাইছারের নেতৃত্বধীন একটি প্রতারক সিন্ডিকেট। প্রতারক, মানব প্রাচারকারী, ব্যাংক জালিয়াতের সাথে জড়িত মামলাবাজ ও বহু অপকর্মের হোতা কাইছারের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন মাতারবাড়ি মহেশখালি সহ জেলায় তার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থরা।

‘‘কথায় বলে মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশী’’ যার বিয়ে তার খবর নেই, প্রতিবেশীর ঘুমে নেই’’ এই চিরত্তন এ দু’টি উক্তি এ কারণে বলা হচ্ছে যে, গত ২০ অক্টোবর দৈনিক বাঁকখালি পত্রিকায় ছাপানো হয়, জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র! তাই তাকে সতর্ক করা এবং এই ষড়যন্ত্রের সাথে যারা জড়িত তা দৈনিক বাঁকখালি প্রত্রিকায় তার অনুসন্ধানি প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন। বলা হয়েছে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ২৩ কোটি টাকা লোপাটকারী হিসেবে চিহ্নিত সাবেক জেলা প্রশাসক সহ ২৮ জন। তারাই মূলতঃ বর্তমান জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন কে সরিয়ে অন্যত্রে বদলী করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তদবীরে ব্যস্ত। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের বক্তব্য হচ্ছে এই জেলা প্রশাসককে সরনো হলে এই পদটি শূন্য থাকবে? নাকি তিনি চলে গেলে লোপাটের এই কল্প কাহিনী বন্ধ হছে যাবে? মূলতঃ এই ধরনের আক্রমনাক্ত প্রতিবেদনের পেছনে সত্য সত্যই ষড়যন্ত্র লুকায়িত রয়েছে বলে, মনে করেন অভিযুক্তরা।
বর্তমান জেলা প্রশাসক একজন সৎ ও দক্ষ অফিসার হিসাবে সর্বমহলে প্রশংসিত। তার ভাবমুর্তিতে কালিমা লেপন করার জন্য এই পরিকল্পিত প্রতিবেদন। কারন পূর্বের জেলা প্রশাসক সহ ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কথিত কাইছারুল ইসলাম মামলা করে আলোচনার ঝড় তুলে ছিলেন স্বল্প সময়ের জন্য। প্রশাসনের অনেক কর্তা ব্যক্তি তার সম্পর্কে না জেনে অহেতুক ভয় ও আতংকে ছিলেন। পরবর্তীতে তার সম্পর্কে যতটুকু জানতে পারেন তখন তিনি একজন প্রতারক, মামলাবাজ, ধাপ্পাবাজ, সুবিধাভোগী একজন প্রতারক হিসাবে চিহ্নিত হয়। প্রশাসনের কাছে তার কথাও আচরনে গুরত্বহীন হয়ে পড়ায় কতিপয় কুচক্রী মহলের সাথে শলা পরার্মশ করে হঠাৎ জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র! এই ধরনের শিরোনামে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যাচারে ভরপুর কাল্পনিক সংবাদ পরিবেশন করে আবারও নতুন কোন উদ্দেশ্য হাসিলের মিশনে ব্যস্ত রয়েছে এই জালিয়াত ও মানব পাচারকারী কাইছার। অথচ জেলা প্রশাসক কোথাও কাউকে বলেননি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সম্পূর্ণ বিধি বিধান অনুসরন করে জেলা প্রশাসন, সরকার, প্রত্যাশী সংস্থা বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ২৩ কোটি ক্ষতিপূরনের টাকা ছাড় দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থরা প্রকাশ্যে তা উত্তোলন করে। এতে যদি কোন অনিয়ম হয় কিংবা ভূঁয়া চেক গ্রহণ করেছেন, কেউ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থরা আপত্তি জানিয়েছেন তা হলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের বহু দপ্তর বা এজেন্সি রয়েছে। যার কোন জমি নেই মাতারবাড়ি তার দেয়া ঠিকানায় কোন বাড়িও নেই নিজেকে স্বঘোষিত চৌধুরী দাবী করেন, তিনি কিসের নেশায় এই কাজে ব্যস্ত রয়েছেন এব্যাপারে যথাযত তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয়, এই কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে এই গর্হিত কাজে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। মহেশখালি মাতারবাড়ির মোশারফ আলী সিকদার পাড়ার মৃত নুর আহমদ সিকাদারের পুত্র বাবার দেয়া নাম কাইছারুল ইসলাম পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে নিজেকে গুরত্বপূর্ণ ও অভিজাত বংশের সন্তান হিসাবে তুলে ধরে অবৈধ সুযোগ নেয়ার জন্য মাতারবাড়ির একে এম কাইছারুল ইসলাম চৌধুরী হয়ে উঠেন। বর্তমান হালসাং বিডি আর ক্যাম্প কক্সবাজার। ব্যবসাও পেশা বলতে যা বোঝার তন্মধ্যে সে মানব পাচারকারী, ব্যাংক জালিয়াতি, প্রতারণা ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে গ্রামের সহজ সরল লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করা।

এমন ঘটনাও সে ঘটিয়েছে নিজের নিয়োজিত আইনজীবির বিরুদ্ধে ও মামলা করতে একটুও চিন্তা করে নাই। তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা চলমান রয়েছে তা হচ্ছে, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যালে-সি,পি ৯৪৭/২০১৫, সি,পি ৮৭০/২০১৫, সি,পি ৭৭৪/২০১৫। বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত-(দুর্নীতি দমন আইনে মামলা) ফৌঃ দরখাস্ত নং ৪৬/২০১৫।  যা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকায় তদন্তাধীন আছে। স্পেশাল ট্রাইবুন্যালঃ মামলা নং ৩৭/২০১৪ ইং যা দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক চার্জশীট প্রদত্ত। তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নং ৪-এ বিচারাধীন মামলা সমূহঃ সি আর ৫৩৩/২০১৩ ইং জালিয়াতি ও প্রতারণা। সি আর ৯০৪/২০১৩, মামলাটি এন আই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা। সি আর ৪৮৬/২০১৩ যার ধারা হচ্ছে ৪২০/৪০৬।
বিজ্ঞ যুগ্ন জেলা জজ আদালতে মামলাঃ

অপর ৩৮/২০০৭ইং (২০০৫ সালে ভূঁয়া মালিক সেজে নিজ নামে সম্পত্তি হাসিলের মামলা, যার দলিল নং ১৪৪৬ তাং ৩০/০৬/২০০৫ইং) দলিল জালিয়াতি যাকে বলে। জেলা প্রশাসক বরাবর চৌফলদন্ডীর ফাতেমার আত্মাসাতের দরখাস্থ দায়ের ২৩/১১/২০১৪ইং। উল্লেখ্য মাতারবাড়ি ধলঘাটা মৌজার বেশ কয়েকজন জমির মালিকের স্বাক্ষর জ্বাল করে ভূঁয়া চিংড়ী চুক্তি সৃজন করে। যা পরবর্তীতে জানাজানি হলে জমির প্রকৃত মালিকগণ ওই স্বাক্ষর ও চুক্তি অস্বীকার করে হলফনামা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমাদান করেন। এ ছাড়া কাননগো বিজয় শংকরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর দরখাস্থ করে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা আদায় সহ অগুনিত অভিযোগ রয়েছে ওই স্বঘোষিত চৌধুরী প্রতারক কাইছারের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ মাথায় নিয়ে যে সরকার ক্ষমতায় আসে সে সরকারের গুণকীর্তন করে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়ে সে প্রতারক জীবিকা নির্বাহ করে নিজেকে উচ্চ শিক্ষিত দাবী করে সেই চিহ্নিত প্রতারক কাইছার। এই কাইছারের নেতৃত্বে একটি প্রতারক সিন্ডিকেটই বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে পারস্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ট করে মাঝখানে ভিন্ন ষ্ট্যাইলে ফায়দা হাসিল করার অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে এই চক্রটি। তাদের সর্ম্পকে প্রশাসন ও সাধারন মানুষকে সজাগ করতে মূলতঃ মাতারবাড়ি-মহেশখালির সচেতন নাগরিক হিসাবে নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। এদিকে যাদের বিরুদ্ধে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের টাকা লোপাটের অভিযোগ তাদের পক্ষে জমির উদ্দিন, রফিকুল ইসলামসহ অভিযুক্তরাই এই জেলা প্রশাসকের কর্মকান্ডে খুব বেশি সন্তুষ্ট। কারন জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন তার কর্ম দিবসের প্রথম দিনেই মাতারবাড়িতে গিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। এবং জমির শ্রেণী বিন্যাস রোধ করে সমহারে ক্ষতিপূরনের টাকা যাতে ক্ষতিগ্রস্থরা পান তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। সেই সাথে ক্ষতিপূরণের মূল্যও ৩/৪ গুন বৃদ্ধি করে সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এই জন্য তিনি প্রশংসার দাবী রাখেন।


“মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বহুমুখী ষড়যন্ত্র” এ একটি মন্তব্য

  1. […] Alokito Coxsbazar: মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্… […]

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM