বাংলাদেশ, , শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

শহরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আলম বাহিনীর প্রধানসহ নিহত-২

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-১৮ ২০:৩৫:০৬  

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

মুক্তিপনের টাকা ভাগভাটোয়ার নিয়ে শহরে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের সংঘর্ষে নুরুল আলম বাহিনীর প্রধান নুরুল আলমসহ দুইজন নিহত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহত অপর ব্যক্তির নাম মো: কালু প্রকশ বর্মাইয়া কালু। ঘটনাস্থাল থেকে ৩টি এলজি ৪ রাউন্ড কার্তজ ও ৩ টি খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত।
কক্সবাজার মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছেন, গত ১৩ অক্টোবর শহরতলির জেল গেইট এলাকা থেকে বাহারছাড়া এলাকার খাইরুল আমিন নামে এক ব্যবাসায়ীকে অপহরণ করে রানা ও নুরুল আলম বাহিনীর লোকজন। তারা অপহৃত পরিবারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। এঘটনায় অপহৃত পরিবারের পক্ষ থেকে ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৫ শত টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু দাবিকৃত টাকা না পেয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে ফেরত দেয়নি সন্ত্রাসী গ্রুপ। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ১৪ অক্টোবর শহরের বাদশহ ঘোনা এলাকা থেকে পুলিশ খাইরুল আমিনকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ সন্ত্রাসী বাহিনীকে ধারার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরের দিন ১৫ অক্টোবর শহরের রুমালিয়ার ছড়া এলাকার একটি বিকশের দোকান থেকে দুই বাহিনীর সহযোগী বিকাশ এজেন্ট ছৈয়দ করিমকে আটক করা হয়। আটক ব্যাক্তির স্বীকারোক্তির ভিতিতে গতকাল শহরের বাদশাহ ঘোনা এলাকায় অভিযানে নামে পুলিশ।

এদিকে রবিবার দুপুরের মুক্তিপনের টাকা ভাগভাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে বাদশাহ ঘোনা এলাকায় রান এবং নুরুল আলম গুরুপের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে নুরুল আলম বাহিনীর বখতিয়ার আহমদের পুত্র প্রধান নুরুল আলম এবং শো: শফি প্রকাশ ফইর বুড়া’র পুত্র মো: কালু নিহত হয়েছে। নিহত নুরুল আলমের নামে ১৮টি এবং কালুর নামে ৪ টি ডাকাতি ছিনতাইসহ নানা অভিযোগের মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
এদেিক গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় পুলিশ ৩ টি দেশীয় তৈরি এলজি, ৪ টি কার্তুজ এবং ৪ টি খোসা উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় বাদশাহ ঘোনা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে দুই সন্ত্রাসী নিহতের ঘটনায় এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তভূগী পরিবারের সদস্যরা।
বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন খান।

উল্লেখ্য গত শুক্রবার রানা বাহিনী এবং হাসনাত বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক পথচারী নিহত হয়েছিল।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা