বাংলাদেশ, , শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

প্রাথমিকে ৫১ ও মাধ্যমিকে ৫৩ শতাংশ শিক্ষার্থী নারী

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-১৭ ১৬:২৫:৫৭  

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স॥
দেশে মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে। আগামী ছয়-সাত বছরের মধ্যে উচ্চশিক্ষাতেও ছেলেদের ছাড়িয়ে যাবে নারীরা। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় ৫১ শতাংশ ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫৩ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী রয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ) ডাইরেক্টরের চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রকল্পটি।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। এছড়া সেকায়েপ এর ডাইরেক্টর ড. মো. মাহামুদ-উল-হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের টিম লিডার অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ,  মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল হিসেবে ২০১৫ সালের মধ্যে ছেলে-মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে সমতা আনার কথা ছিলো। আমরা তিন বছর আগে প্রাথমিকে তা অর্জন করেছি। যা বিশ্বে আর কেউ পারেনি। বর্তমানে প্রাথমিকে আমাদের ৯৯ শতাংশের বেশি শিশু স্কুলে যায়। ৯৬ শতাংশ রেগুলার স্কুলে আসে। তবে এটা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমাদের এখন মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। প্রাইমারিতে নারী শিক্ষার্থী ৫১ শতাংশ। আর মাধ্যমিকে ৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ মাধ্যমিক পর্যন্ত নারী শিক্ষার্থীরা ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে। আগামী ছয়-সাত বছরের মধ্যে উচ্চশিক্ষায়ও নারী শিক্ষার্থীরা ছেলেদের ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের যে অগ্রগতি হয়েছে তা ইউরোপের কিছু দেশ ছাড়া আর কোথাও নেই। তবে মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়া একটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের শিক্ষার্থী আছে কিন্তু এদের মানসম্পন্ন শিক্ষা দিয়ে উন্নত মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, আমাদের ছাত্র আছে। তবে তাদের মান সম্পন্ন শিক্ষা দিতে না পারলে তারা আর ছাত্র কী? স্কুলে গেল, শিক্ষা পেল কিন্তু মানসম্পন্ন শিক্ষা পেল না। তাহলে কে সে? সে তখন কেবল একজন মানুষ। যদি ছাত্র বলতে চাই, তবে মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের সোনার খাঁচা রয়েছে। এবার গানের পাখিটা দরকার। আর গানের পাখি হচ্ছে মান সম্পন্ন শিক্ষা। কেননা, আমাদের দেশে চাকরি আছে, যোগ্য প্রার্থীর অভাব। কেবল গার্মেন্ট খাতেই ১৫ হাজার বিদেশি, যারা উচ্চ পদে কাজ করেন। অথচ আমাদের যদি যোগ্য মানবসম্পদ থাকতো তবে এই বিদেশিদের প্রয়োজন হতো না।

আলোকিত মানুষ গড়ার এই কারিগর বলেন, মানের উন্নতি ছাড়া কোনো জাতি উন্নত হতে পারে না। দেশ কী? দেশ তো মানুষ, কোনো জায়গা নয়। কাজেই এই মানুষকে যোগ্য ও দক্ষ মানসম্মত মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে আমাদের সঙ্গে কেউ পারবে না। কেননা, আমাদের প্রচুর মানুষ আছে।

সেকায়েপ প্রকল্পটির মাধ্যমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে কাজ করছেন। আর এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য তারা প্রজেক্ট ডাইরেক্টরের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর শিক্ষামন্ত্রী স্থানীয় পর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের হাতে মোটরসাইকেলের প্রতীকি চাবি, ল্যাপটপ, স্ক্যানার মেশিন তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা না জানানোয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওপর মন্ত্রীর ক্ষোভঃ

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। এ সময় অনেকেই মন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, আমাদের দিকে একটু নজর দিন। আমাদের সিলেশন গ্রেড প্রদানে সহায় হোন। আর এ বক্তব্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

তিনি বলেন, আপনাদের চাকরি অস্থায়ী ছিলো। তা সরকারিকরণ করা হয়েছে। বেতন বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু একবারও বললেন না, এজন্য আপনারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। একবারও আপনারা প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিলেন না। শুধু বললেন, নজর দিতে। আমরা নজর না দিলে এতোসব পেলেন কিভাবে? দাবি জানানোর আগে কিছুটা কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করতে হয়।

মন্ত্রী তাদের উদ্যেশে বলেন, চাকরি স্থায়ী করার পর অনেকেই বলেছেন আপনাদের আর মাথা থেকে নামানো যাবে না। এখন তো তাই দেখছি। এসময় পুরো মিলনায়তনে পিনপতন নিরবতায় সৃষ্টি হয়।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা