শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

“বিনোদন কেন্দ্র হচ্ছে পর্যটন শহরের তিন দীঘি”

প্রতিবেদক এর নামঃ
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২০
  • ২২০৯ বার পড়া হয়েছে

ওয়াহিদ রুবেল:

সরকার কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। আর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মাস্টার প্লানের মাধ্যমে কক্সবাজারের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির কাজ করছেন। ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে দৃষ্ট নন্দন স্থাপনা। সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির কাজ চলছে শহরের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা তিনটি দীঘিরও। এসব দীঘির সংস্কারের কাজ শেষ হলেই কক্সবাজার হবে পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ স্থান। একই সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও বিনোদনের জায়গা হবে।

এমনটাই মনে করেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কর্ণেল অব: ফোরকান আহমদ।

তিনি বলেন, প্রতি বছর দেশি বিদেশী দশ লাখের অধিক পর্যটক কক্সবাজারে আসেন। কিন্তু এখানে শুধু সমুদ্র সৈকত উপভোগ করা ছাড়া আর কোন বিনোদনের স্থান নেই। ফলে পর্যটকরা একদিনের বেশি কক্সবাজারে স্থায়ী হতে চায় না। এসব বিষয় মাথায় রেখে কক্সবাজারকে পরিকল্পিতভাবে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কক্সবাজার শহরের অভ্যন্তরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী তিনটি পুকুর সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কউক। বর্তমানে কাজের ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। পুকুর তিনটির কাজ শেষ হলেই বিনোদনের কেন্দ্র হবে পুকুর তিনটি। এতে পর্যটকদের পাশাপাশি কক্সবাজারের মানুষও এর সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকে যথাযথ ব্যবহারে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ৬ জুলাই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিলটি পাশ করে সরকার। ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্ণেল অব: ফোরকান আহমদকে নিয়োগ দেয় সরকার। প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ী রুপ লাভের পর কক্সবাজারের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির পাশাপাশি কক্সবাজারকে ঘিরে নেয়া হয় মাস্টার প্লান। সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির অংশ হিসেবে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার শহরের অভ্যন্তরে পরিত্যক্ত লালদীঘি, গোলদীঘি এবং বাজারঘাটা পুকুর (নাপিত পুকুর) সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্য মতে, ৪৬৪৬ বর্গমিটার জমির উপর বাজারঘাটা পুকুর সংস্কারের প্রকল্পিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩৬.০৩ লাখ টাকা। ৫৮৪৫ বর্গমিটার জমির উপর গোলদীঘির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮২২.৭৩ লাখ টাকা এবং ৬৩৫৫ বর্গমিটার জমিতে লালদীঘি উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হবে ১৭০৫.২০ লক্ষ টাকা। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়ে ২০২০ সালের জুন মাসে প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হবে বলে জানানো হয়। এ প্রকল্পে যেসব সুবিধা থাকবে ওয়াকওয়ে, মসজিদ সংস্কার, স্যুভিনিয়র শপ, কমিউনিটি বিল্ডিং, স্লাক্স বার, ট্যুরিস্ট ডেস্ক, ট্যুরিস্ট তথ্য কেন্দ্র, সাইকেল পার্কিং স্ট্যান্ড, সুপরিসর পাবলিক টয়লেট, ল্যান্ডস্কেপিং, এম্পিথিয়েটার, ড্যান্সিং ওয়াটার পাউন্টেন এবং লাইব্রেরী।

প্রকল্প পরিচালক লে: কর্ণেল মোহাম্মদ আনোযার উল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুকুর তিনটি ব্যবহার অনুপযোগি থাকায় পঁচা ও দূর্গন্ধে মশা মাছির জন্ম হতো। এমনকি পুকুরের অনেক স্থান বেদখল হয়ে যেতে থাকে। এ অবস্থায় কউকের হাত ধরেই পুকুর তিনটিকে আধুনিকতার চোঁয়া লাগিয়ে সাজানো হচ্ছে। সংস্কারের কাজ দৃশ্যমান হলে শহরবাসীর দীর্ঘদিনের সুপ্ত আকাঙ্খা প্রতিফলন ঘটবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে পুকুর তিনিটি দৃশ্যমান হলে সৌন্দর্য্যরে শোভা ছড়াবে চারদিকে এমনটাই মনে করেন পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়রা।

উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা আমার উপর আস্থা রেখে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন। শুরু থেকে অফিস বিহীন, জনবলবিহীন পথ চলতে হয়েছে আমাকে। সম্প্রতি কিছু জনবল পাওয়া গেলেও তা পর্যপ্ত নয়। চরম জনবল সংকটের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে কক্সবাজার উন্নয়ণ কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রও ঠিক করা হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন নগরি হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, কাজ করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যায়ও পড়তে হচ্ছে। অনেক স্থানে বাঁধাও আসছে। আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সকল বাঁধা অতিক্রম করে কাজ করতে গিয়ে কিছুটা সময় নষ্ট হচ্ছে। মানুষ যখন আমাদের কাজ দৃশ্যমান অবস্থায় দেখবে, তখনই এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড সম্পর্কে সন্তুষ্ট হবে।

কক্সবাজারকে একটি পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়তে গিয়ে কোন ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে কউক চেয়ারম্যান আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাই দেশের ও দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন। তাই উন্নয়নের পথে কোন বাঁধা গ্রাহ্য করা হবে না।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102