বাংলাদেশ, , শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

ভিন্নমত প্রশ্নে ভারতীয় লেখকদের দ্বৈততা আছে : তসলিমা নাসরিন

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-১৭ ১৬:১৫:০৯  

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স

ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন ভারতীয় লেখক তাদের সাহিত্য একাডেমি পদক ফিরিয়ে দিয়েছেন। ভারত সরকারও এই বিষয়টি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে আছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনও জড়িয়ে পড়েছেন এই হাঙ্গামায়। তার ওপর যখন ভিন্নমতালম্বীদের খড়্গ নেমে আসে তখন অন্যান্য লেখকরা নীরবতা পালন করেছিলেন সে বিষয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাংবাদিক সাগরিকা ঘোষ–এর কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য অনুবাদ করা হলো :

প্রশ্ন : প্রায় ৩০ জন লেখক সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন; বিষয়টি সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি?
তসলিমা : লেখকরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়েই এটা করেছেন, এতে তো কোনো ভুল নেই। কখনো কখনো কেউ একজন একটি আইডিয়া উদ্ভাবন করেন এবং অন্যেরা এতে যুক্ত হন।
প্রশ্ন : সরকার বলছে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এটি একটি সাজানো বিষয়.. তসলিমা : আমি এটা মনে করি না। কারণ লেখকরা সব সময়ই সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন। প্রশ্ন : আপনি কি মনে করেন যখন প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি আপনাকে টার্গেটে পরিণত করে তখন লেখকসমাজ নীরব ছিল?
তসলিমা : পশ্চিমবঙ্গে যখন আমার বই নিষিদ্ধ হয় তখন বেশির ভাগ লেখকই নীরবতা অবলম্বন করেছিলেন। যখন আমার বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়া হলো, আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়িত করা হলো, যখন আমি দিল্লিতে মাসের পর মাস গৃহবন্দি ছিলাম এবং আমাকে ভারত ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল, টিভিতে আমার মেগাসিরিয়াল নিষিদ্ধ করা হলো তখনও সবাই নীরব ছিলেন। আমি এখানে বসবাসের জন্য এবং বাকস্বাধীনতার জন্য একা সংগ্রাম করছি। লেখকরা শুধু নীরবই ছিলেন না, বিখ্যাত লেখকগন যেমন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং শঙ্খ ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্যের কাছে আমার বই নিষিদ্ধ করার জন্য আবেদন করেছিলেন!
প্রশ্ন : ভিন্নমতের প্রশ্নে লেখকরা দ্বৈত আচরণ করেন বলে আপনার ধারণা?
তসলিমা : হ্যাঁ, আমি মনে করি ভিন্নমতের প্রশ্নে বেশির ভাগ লেখকই দ্বৈত আচরণে দুষ্ট।
প্রশ্ন : ভারতে কি অসহিষ্ণুতা বাড়ছে?
তসলিমা : হ্যাঁ। বিষয়টিতে আমি শঙ্কিত।
প্রশ্ন : আপনি সম্প্রতি টুইট করেছেন যে ভারতে সেক্যুলারিজম চর্চায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে..
তসলিমা : হ্যাঁ, বেশির ভাগ সেক্যুলারিস্টরা মুসলিমদের পক্ষে এবং ততটাই হিন্দুবিরোধী। হিন্দু মৌলবাদীদের ঠেকাতে তারা উগ্র মুসলিম মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
প্রশ্ন : প্রতিবাদের প্রশ্নে লেখকদের পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়া কতটা সমীচীন?
তসলিমা : উনারা উচ্চমার্গের ব্যক্তিবর্গ, তারা যদি মনে করেন পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়া উচিত তবে তা তারা করতেই পারেন। এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই।
প্রশ্ন : আপনি কি মনে করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মুসলিম এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে সহানুভূতিশীল?
তসলিমা : রাজনীতিবিদরা ভোটের আশায় মুসলিমদের তুষ্ট রাখে এবং তারা অনেক ক্ষেত্রে হিন্দুদের তুলনায় বেশি সুযোগ সুবিধা পায়। কিন্তু এটা সত্যি যে মুসলমানরা অনেক সময় নির্যাতিত হয় শুধু তারা মুসলিম বলে। কিন্তু এটা অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মাঝেও ঘটে। ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের একটি গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল মুসলিম মৌলবাদীরা। যদি মুসলিমরা ভারতে সহিংসতার শিকার হয় তবে তারা পার্শবর্তী মুসলিম দেশগুলোতে চলে যেতে পারে; যেভাবে হিন্দু সংখ্যালঘুরা দেশভাগের পর থেকে আজ অবধি প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ ত্যাগ করছে।

ভাষান্তর : সত্যজিৎ কাঞ্জিলাল


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা