মঙ্গলবার, ১৮ Jun ২০২৪, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

“ভূমি মালিকদের কাগজ, দালালদের কাছে তুলে দিয়ে কশিন নিতেন দালাল বাবর”

“ভূমি মালিকদের কাগজ, দালালদের কাছে তুলে দিয়ে কশিন নিতেন দালাল বাবর”

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার কৌশলি এক দালালের নাম বাবার চৌধুরী। মহেশখালীতে ভূমি অধিগ্রহনে জমির মালিকদের কাছ থেকে কমিশনে কাগজ নিয়ে অন্যন্য দাললদের কাছে তুলে দিতেন তিনি। ভোক্তভূগীদের অভিযোগ, বাবার চৌধুরী ভূমি অধিগ্রহণ হওয়া জমির মালিকদের সুকৌশলে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। সেখানে তাদের সাথে দফারফা হয়। কারো কাছ থেকে শতকরা ৩০ ভাগ আবার কারো কাছ থেকে ২০ ভাগ টাকার বিনিময়ে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে নেন। পরে উক্ত কাগজ অন্যন্য দালালের কাছে বিক্রি করেন। তবে বেশিরভাগ সময় নিজে টাকা উত্তোলন করেন।
তারা আরো বলেন, বারবর চৌধুরী নিজেকে সৎ দাবি করে মানুষকে জিম্মি করে কমিশন বানিজ্য করতেন বাবর। নামে মাত্র টাকার দিয়ে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে সুনির্দ্দিষ্ট পরিমাণ কমিশনের চেক হাতিয়ে নিতেন তিনি। একই সাথে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির দলিল, খতিয়ান এবং ছবি সংগ্রহ করেন। চুক্তি করার পর মানুষকে জিম্মি করে রাখেন বলেও অভিযোগ তাদের।
সম্প্রতি আটক সার্ভেয়ারের দেয়া তথ্য মতে, বাবর চৌধুরীর নাম সামনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসনেও তার নামটি রয়েছে আলোচনায়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: আশরাফুল আফসার বলেন, প্রথমে যে তালিকা দেয়া হয়েছে তাতে অনেক দালালের নাম বাদ পড়েছে। তাছাড়া এ তালিকা একটি চলমান। এখানে নতুন নতুন নাম আসতে পারে। তালিকায় নাম থাকা বা না থাকা কোন বিষয় নয়। আমরা সুনির্দ্দিষ্ট তথ্য নিয়ে দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধিগ্রহণ শাখার সকলকে ঘুষ বানিজ্যে জড়িয়ে পড়লে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে কোন ব্যক্তির অপরাধ জেলা প্রশাসন কাঁদে নেবে না। কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আসে, আর সে অপরাধ যদি প্রমাণিত হয় তবে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
সূত্রে জানা যায়, বাবর চৌধুরীর ইশারায় নিখুঁত জমির ফাইলে যেমন কয়েকটি মামলা দাঁড়িয়ে যায়, তেমনি কয়েকটা মামলা থাকার পরও টাকা আটকে রাখার ক্ষমতা করোই নেই। দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ারদের সঙ্গে মিলেমিশে জমির মালিকদের কাছ থেকে বেশি কমিশন আদায় করতে এভাবে এলএ শাখা নিয়ন্ত্রণ করেন বেপরোয়া বাবার।সে কারনে যে কজনের নাম সবথেকে বেশি আলোচনা হচ্ছে তাদের মধ্যে শীর্ষে নাম রয়েছে বাবার চৌধুরীরও।
মাতারবাড়ি সিকদার পাড়ার বাদশা মিয়া চৌধুরীর ছেলে বাবার চৌধুরী মাতারবাড়ি, মহেশখালীর কয়লা বিদ্যুৎকে কেন্দ্র করে এলএ অফিসের দালালির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সে শুরু থেকে। এলএ অফিসের দালালির ভিত্তি মজবুত করতে কক্সবাজার বদর মোকাম মসজিদের সামনের ভবনে অফিস খোলে বসেন তিনি। এর পর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। বিভিন্ন সময় জমির মালিকদের সঙ্গে বির্তক জড়িয়ে পড়লেও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি কেউ।
জানা যায়,গেলবার স্থানীয় নির্বাচনে মাতারবাড়ি ইউনিয়ন থেকে বিএনপির মনোনীতি প্রার্থী হয়ে ধানের শীর্ষ প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন তিনি। তবে জিততে পারেননি। নির্বাচনী খেলায় পরাজিত হলেও এলএ অফিসের দালাল হিসেবে শতভাগ সফল বাবার ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,এলএ অফিসের দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাবার একাই দেড় হাজারের উপরে চেক ভাগিয়ে নিয়েছে। জমির মালিকদেরকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা দালালি থেকে আয় করেছেন বাবার চৌধুরী।
গ্রেফতারকৃত সার্ভেয়ার ওয়াসিম,পলাতক সার্ভেয়ার ফরিদ, সার্ভেয়ার ফেরদৌস, কয়েক মাস আগে বদলী হওয়া সার্ভেয়ার ক্যাশব লাল দে, সার্ভেয়ার সাইফুল,সার্ভেয়ার রিপন চাকমাসহ আরো কয়েকজন দুর্নীতিগ্রস্থ সার্ভেয়ার বাবর চৌধুরীর প্রধান হাতিয়ার।
ভুক্তভোগী জমির মালিকদের দেয়া তথ্যমতে কয়েক কোটি টাকার উপরে এলএ শাখার দালালি থেকে আয় করেছেন বাবার।বিভিন্নসময় কমিশন বাড়াতে এসব সার্ভেয়ারদের সঙ্গে আতাত করে কৃত্তিম মামলা সৃষ্টি করার অভিযোগও তুলেছে ভুক্তভোগী জমির মালিকরা।
সরজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, ভূমি অধিগ্রহণের মাতারবাড়ি ১২০০একর,১৪০০একর ধলঘাটার ৭০০একর,মহেশখালী হোনক,কালামার ছরা মৌজা, হেতালিয়া, চকরিয়ার রেললাইনে প্রকল্পে বাবর চৌধুরীর আধিপত্য রয়েছে সবচেয়ে বেশি। এখনো বাবার চৌধুরীর কাছে ৪০০বেশি জমির ফাইল জমা রয়েছে বলে দাবি করেছে একটি সূত্র। সূত্রটির দাবি,বাবারের বদর মোকাম অফিস ও কলাতলীর বাসায় অভিযান চালালে শত শত ফাইল পাওয়া যাবে।
বাবর চৌধুরী বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও টাকার জোর আর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে উঠাবসার কারনে এখনো দাপটের সঙ্গে প্রকাশ্যে কক্সবাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের দাবি,ভূমি অধিগ্রহণ এলএ শাখা হয়রানি মুক্ত ও সুনাম ফিরিয়ে আনতে বাবার চৌধুরীসহ শীর্ষ দালালদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করলেই কেবল কক্সবাজার জেলাপ্রশাসনের সুনাম ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সে সঙ্গে দালালদের সম্পদ সরকারি কোষাগারে নিয়ে অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি সচেতন মহলের।
জনতে চাইলে বাবর চৌধুরী বলেন, আমি কখনো দালালি করিনি। পরিবারের যেসব জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার, সে অংশের টাকা উত্তোলনে অফিসে গিয়েছি। কেউ কখনো বলতে পারবে না আমি এলএ শাখায় গিয়েছি।
তিনি বলেন, ব্যবসা তো হালাল, আমি ব্যবসা করি। জমি ক্রয় করে, জমি বিক্রি করি। এটি দালালি নয়। বিশ্বের অনেক দেশে এ ব্যবসা অত্যান্ত সুনামের। জেলা প্রশাসন থেকে কেন আমার নাম দালালের তালিকায় দিয়েছে আমি বলতে পারবো না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM