বাংলাদেশ, , রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২

শহরে সন্ত্রাসীদের ক্রসফায়ারে পথচারী নিহতঃআহত-৭

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-১৬ ২৩:২৬:১৩  

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

শহরে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। গতকাল আধিপত্ত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শহরের সমিতি বাজার এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ৭জন। নিহত ব্যক্তির নাম শেখ আব্দুল্লাহ(২৪)। তিনি স্থানীয় সমিতি বাজার এলাকার বাসিন্দা  ওয়াহিদুর আলম’র পুত্র। তবে তাৎক্ষনিক আহতদের খবর পাওয়া যায়নি। এ সময় ঘরবাড়ি ভাংচুরের পাশাপাশি লাঞ্চিত হয়েছে গৃহবধু এবং যুবতী নারীরা। দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতংক বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানিয়েছে মডেল থানা পুলিশ।
জানা যায়, কক্সবাজর শহেরর আলোচিত রকি এবং হাসনাত বাহিনী’র মধ্যে আধিপত্ত্ব্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
আধিপত্ত্য বিস্তার, দখলবাজ, সন্ত্রসা ওচাঁদাবাজির ভাগাভাগি’র ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ তুঙ্গে উঠলে দুই বিবাদমান গ্রুপ গতকাল মোখমুখী বন্ধুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এতে দুই পক্ষের ক্রস ফায়ারে পড়ে ১ কাঠমিস্ত্রী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৭ জন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, আহতদের দুইজন মহিলাও রয়েছে।
জানা গেছে আহতরা অধিকাংশই বিভিন্ন মামলার আসামি বিধায় তাদেরকে গোপনস্থানে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এব্যাপারে পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, তিনি ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। পারিপার্শিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ সহ সামগ্রিক বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এসময় তার সাথে ছিলেন, কক্সবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এব্যাপারে জানতে চাওয়া জন্য মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’র মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এলাকায় আধিপত্ত্য প্রমাণ করতে রকি বাহিনীর সদস্যরা হাসনাত বাহিনীর সদস্যদের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় হাসনাত বাহিনীর সদস্যদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারাও নিজেদের ক্ষমতার প্রদর্শণ করতে  শুক্রবার সকালে রকি বাহিনীর এলাকায় গিয়ে ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও ঘরবাড়ি ভাংচুর করে। এমনকি নিহর মহিলাদেরও  লাঞ্চিত করে জানা গেছে।
সকালের পর হাসনাত বাহিনীর সদস্যরা  সশস্ত্র মহড়া দিয়ে বিকেল ৫টার দিকে সমিতি বাজর এলাকালায় আবারো ফাঁকা গুলি বষর্ণ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রকি বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। দিনভর দফায় দফায় হুমকি পাল্টা হুমকি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ফাঁকা গুলি বর্ষণ ইত্যাতি অপ্রিতিকর ঘটনায় এলাকায় চরম আতংক দেখা দেয়। এলাকাবাসি এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে বার বার অবহিত করা সত্তেও সময়মত পুলিশ উপস্থিত না হওয়ায় চুড়ান্ত পর্যায়ে দুই পক্ষ বন্ধুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের বন্ধুক যুদ্ধেও ক্রস ফায়ারে পড়ে রাজ মিস্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হয়। ঘটনার পর পর পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। পুলিশ সদর হাসপাতালে গিয়ে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটলেও পুলিশ প্রশাসনের কোন বাহিনীকে সেখানে দেখা যায়নি। এতে এলাকাবাসির মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি নিহত ব্যাক্তি হাসনাত বাহিনীর সদস্য। সে এলাকায় চিহ্নিত চুরি,ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। তবে নিহতের পরিবারের দাবি শেখ আব্দুল্লাহ একজন রাজ মিস্ত্রি। দুই পক্ষের গুলাগুলিতে সে নিহত হয়েছে। তারা এ ঘটনায় পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানিয়েছেন, রুমালিয়র ছড়া থেকে সমিতি বাজর পর্যন্ত রকি বাহিনীর সদস্যদের দখলে থাকলেও  সমিতি বাজারের একাংশ থেকে জেল গেইট, কলাতলি এলাকা পর্যন্ত হাসনাত বাহিনীর দখলে রেখেছে। তারা প্রায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে নিজের অধিপত্ত্য জানান দেয়। তাদের অভিযোগ শহরের সমিতি বাজার যেন আইনের আওতার বাইরে।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। হত্যাকান্ডের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য শহরে সাম্প্রতিক সময়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটলেও পুলিশ সক্রিয় না থাকায় একের পর এক হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম ঘটছে।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা