বাংলাদেশ, , বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

পেকুয়ায় বাড়ছে পারিবারিক ও আর্থ-সামাজিক কলহ

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-১৪ ২০:০১:৫৭  

এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী পেকুয়াা ॥

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সমাজ-জনপ্রতিনিধিদের নির্বিকারতায় প্রত্যন্ত এলাকার পাড়া-মহল্লায় আশংকাজনক হারে বাড়ছে পারিবারিক ও আর্থ-সামাজিক কলহ বিরোধ রক্তপাত। আর এসবে নেপথ্য সংশ্লিষ্টতার বিষয় আড়ালে প্রশাসন পুলিশে তার দায় চাপানোর প্রবনতা দেখা দিয়েছে। যা নিয়ে সর্বত্র দেখা দিয়েছে হতাশা ও চাঁপা ক্ষোভ।

খোঁজ নিয়ে ও বিভিন্ন পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার ৭ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পাড়া-মহল্লায় আশংকাজনক হারে পারিবারিক ও আর্থ-সামাজিক কলহ বিরোধ রক্তপাতের ঘটনা বেড়েছে।

শুধুমাত্র গত ১মাসে একাধিক অপমৃত্যুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া, বিভিন্ন সংঘর্ষ, হামলা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও গুলিবিনিময়ের ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘঠেছে বেশকিছু। হঠাৎ করে এধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ ও আইন হাতে তুলে নেয়ার ঘটনা শুধু থানা-পুলিশ বা প্রশাসন নয় ভাবিয়ে তুলেছে সমাজ বোদ্ধাদেরও।

তাদের মতে দেশ সমাজে যেখানে রয়েছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সমাজ ও পেশাজিবী নেতৃস্থানীয় ছাড়াও সমাজ সচেতন মহল প্রতিনিধিদের আবাস বিচরণ সেখানে ঘটা করে এ ধরনের প্রবনতা বাড়ার কোন যোক্তিকতা নেই। সংঘঠিত ঘটনাবলীর বিচার বিশ্লেষন পর্যালোচনায় প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তে জানা গেছে, ইতিমধ্যে যেসব অপমৃত্যু বা লাশ উদ্ধারের ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে, তার অধিকাংশই পারিবারিক ও আর্থ-সামাজিক গন্ডির সীমারেখার মধ্যে থাকাকালে সংঘঠিত। যার সাথে থানা-পুলিশ বা প্রশাসন সরকার পর্যায়কে জড়ানো অসমীচিন। যেমন, গত মাসখানেক পূর্বে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া সাপেরগাড়া উত্তর জুম এলাকায় স্বত্ব বিরোধের জের ধরে আগাম আভাস ছাড়াই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল ইসলাম মেস্ত্রী ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ ফিরোজ গং নামীয় দু’প্রতিবেশী পক্ষ জড়িয়ে পড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। এঘটনায় দু’পক্ষের মহিলা, শিশু কিশোর সহ বেশ কিছু লোকজন রক্তাক্ত জখম আহত হন। এনিয়ে দু’পক্ষই ডাক্তারী মেডিক্যোল ভর্তি সনদ সংগ্রহে নিয়ে পেকুয়া থানায় পৃথক এজাহার দায়ের করেন। এবং মামলা রেকর্ড করাতে দু’পক্ষই তাদেও পক্ষিয় নেতৃস্থানীয়রা উভয় পক্ষের মামলা নিতে পুলিশে তদবির চাঁপ দেয়। ফলে, থানা দু’পক্ষের মামলাই রেকর্ড করেন। একই এলাকায় দূধর্ষ নুর মোহাম্মদ প্রকাশ হনুমান বাহিনী ও একই গ্রামের চেয়ারম্যান পাড়া হিসাবে পরিচিত হাজিরঘোনাপাড়া এলাকার দু’প্রতিদ্বন্ধী গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কোন ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই জড়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। যেখানেও আহত হয় কয়েকজন। পরে, এই ঘটনায় পরাজিত দূধর্ষ নুর মোহাম্মদ প্রকাশ হনুমান বাহিনী পরাজয়ের ঝাল মিঠানোর খায়েশে খোদ নিজেদের জারুলবুনিয়া ষ্টেশন বাজারের নিরহ ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্টানে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, তান্ডব ও লুঠপাট চালায়। এসময় নুর মোহাম্মদ গং এক কলেজ অধ্যক্ষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত ও বেশকয়েকজন ব্যবসায়ী, পথচারী ও নিরহ লোকজনদের বেদম পিঠিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করায়। এই ঘটনায়ও এলাকার প্রধান দু’রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্ধী আ’লীগ বিএনপি দু’পক্ষে অবস্থান গ্রহন করে থানায় মামলা রেকর্ডে থানা পুলিশে জোর তদবির চাঁপে মাতায় পুলিশ দু’পক্ষের মামলা রেকর্ডে বাধ্য হন। একই সময়ে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিলহাচুড়া চিরাদিয়া এলাকায় আগাম আভাষ ছাড়াই মামা-ভাগ্নে গ্রুপের মধ্যে স্বত্ব বিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে বেশকিছু লোক গুরুতর আহতের ঘটনা ঘঠে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসায় হাসপাতালে ভর্তি করান। সেই সাথে সংঘর্ষে জড়িত দু’পক্ষের দু’জনকে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে আটকান। পরে, মামলায় না জড়িয়ে নিজেরাই ঘটনার আপোষ মিমাংশায় সমঝোতা শর্তে থানা হাজতে আটকদের ছাড়িয়ে নেন। কিন্তু গত ৪অক্টোবর ফের এই মামা-ভাগ্নে গ্রুপ পুনরায় গুলিবিনিময় ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে শিকার হন হতাহত ঘটনার। এনিয়ে হত্যা মামলা রুজু হলেও এখন আবার হত্যা মামলার বাদী পক্ষের লোকজন আসামীদের বাড়িঘরে লুঠপাট তান্ডব চালাচ্ছেন বলে জনশ্রুতি উঠেছে। এখন এসব ঘটনা নিয়ে একটি সুযোগ সন্ধানী মহল আইন-শৃংখলার অবনতি, থানা পুলিশ ও প্রশাসনের গাফিলতির গুঞ্জন ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো ছাড়াও সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, ওসি, থানা পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানূষকে উসকে দেয়ার পাশাপাশি ভাবমূর্তি ক্ষুন্নে লিপ্ত হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছে প্রশাসন ও থানা-পুলিশ। পেকুয়ার ইউএনও মোঃ মারুফুর রশিদ খান ও অফিসার ইনচার্জ(প্রশাসন) মোঃ আবদুর রকিব তার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অধিকাংশ ঘটনাবলীর সাথে স্থানীয় সমাজ-জনপ্রতিনিধি ছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃস্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট থাকলেও অপ্রীতিকর ঘটনায় উপনীত হলে তাদের ব্যর্থতা অযোগ্যতার দায় বোঝা সরকার, প্রশাসন ও থানা পুলিশে চাপিয়ে দেয়া যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এনিয়ে পেকুয়ায় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শুধু বিপাকেই পড়ছেনা তাদের বিএনপি-জামাতের প্রেতাত্মা বা এজেন্ডার বাস্তবায়কের তকমা লাগিয়ে হেয় প্রতিপন্নের মাধ্যমে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা