বাংলাদেশ, , শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

টেকনাফে হুন্ডি ব্যবসা জমজমাট ঃ সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-১৩ ২২:০১:২৩  

নুরুল হোসাইন, টেকনাফ

টেকনাফ উপজেলা ও পৌর এলাকায় জমজমাট হয়ে উঠেছে হুন্ডি ব্যবসা। এখাতে সরকার প্রতিবছর হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
সূত্র জানায়, সীমান্ত শহর টেকনাফে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে বাণিজ্য ব্যবসা, করিডোর সহ বিভিন্ন বৈধ-অবৈধ ব্যবসা হচ্ছে। এ ব্যবসার দৈনন্দিন যা লেনদেন হচ্ছে তার সিংহ ভাগ মিয়ানমার চলে যাচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে। এক শ্রেণীর চোরা চালানী টেকনাফে বসে সিলিপের মাধ্যমে মিয়ানমারের টাকা পাঠাচ্ছে। এর মধ্যে করিডোরের মাধ্যমে আসা গবাদী পশুর বিক্রির টাকা অন্যতম। মিয়ানমারের গরু ব্যবসায়ীগণ প্রতিদিন শত শত গবাদী পশু বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। যা এখানে বিক্রয় করে চলে যায়। মিয়ানমারে যাওয়ার সময় খালি হাতে ফিরে যায়। টাকা পাঠায় বাংলাদেশের হুন্ডি ওয়ালা। প্

রতিদিন গড়ে ১শ হতে ২শ গবাদী পশু মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর বাজার দৈনিক গড় মূল্য দাড়াঁয় প্রায় ৮০ লাখ বা পৌনে এক কোটি টাকা। যা মাসে দাড়াঁয় প্রায় ২৫ কোটি, বছরে প্রায় ৩শ কোটি টাকা। যা হুন্ডির মাধ্যমে চলে যাচ্ছে। এই টাকা হতে সরকার একটি ও কানা কড়ি রাজস্ব পাচ্ছেনা। যা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হলে সরকার এখাতে প্রচুর রাজস্ব পেত। এছাড়া রয়েছে বাশঁ, গোল পাতা, কাঠ সহ হরেক রকম মিয়ানমারের পণ্যাদি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রতি বছর হুন্ডির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা মিয়ানমারে চলে যাচ্ছে। টেকনাফর এক শ্রেণীর চিহ্নিত হুন্ডি ব্যবসায়ী যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে বসে মিয়ানমারের মন্ডু, আকিয়াবে অফিস স্থাপন করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশর হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মিয়ানমারে অফিসে বাংলাদেশী সীম কার্ড নাম্বার ব্যবহার করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যা প্রতিটি বাংলাদেশী হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মোবালে ঐ নাম্বার সেভ করা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। টেকনাফে দু” ধরনের হুন্ডি ব্যবসায়ী রয়েছে। এক শ্রেণীর হুন্ডি ব্যবসায়ী হচ্ছে প্রবাসীদের টাকা বিদেশ থেকে এনে হুন্ডির মাধ্যমে বিলি বন্টন করে। যাদের এজেন্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সহ মধ্যপ্রাচ্যেও রয়েছে। তাদের এজেন্টের লোকজন বাংলাদেশী লোকজনের নিকট গিয়ে টাকা গুলো সংগ্রহ করে বাংলাদেশী হুন্ডিওয়ালাদের নিকট পাঠায়। বাংলাদেশী হুন্ডিওয়ালা ঐ টাকা তার একাউন্ড হতে উত্তোলন করে প্রবাসী বাংলাদেশী আÍীয়দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌছে দেয়। এদের মধ্যে মিয়ানমারের নাগরিকদের সংখ্যা বেশী। বাংলাদেশ হয়ে যে সমস্ত মিয়ানমারের নাগরিক বিদেশে পাড়িঁ জমিয়েছে এদের টাকা গুলো আসচ্ছে বাংলাদেশী হুন্ডিওয়ালাদের নিকট। এই টাকা হুন্ডিওয়ালা মিয়ানমারে সিলিপের মাধ্যমে পাঠাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে হাজার হাজার মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশ হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়িঁ জমিয়েছে। তারা সেখানে গিয়ে অর্থ উপার্জন করে বাংলাদেশের টেকনাফে পাঠাচ্ছে। ঐ টাকা হুন্ডিওয়ালারা সিলিপের মাধ্যমে মিয়ানমারে পাঠাচ্ছে। যতই প্রবাসীর সংখ্যা বাড়ছে টেকনাফে ততই হুন্ডিওয়ালার সংখ্যা বাড়ছে। এ সমস্ত প্রবাসীরা প্রতিবছর হাজারও কোটি টাকার উর্ধে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছে যা হুন্ডিওয়ালাদের মাধ্যমে। এ টাকা গুলো যদি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হত তাহলে সরকারের প্রচুর রেমিডেন্স পেত। কিন্তু হুন্ডির মাধ্যমে টাকা আসায় সরকার এখাতে হারাচ্ছে প্রচুর রাজস্ব।

এ সমস্ত হুন্ডি ওয়ালাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি আহবান জানান এলাকার সচেতন মহল। এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানা অফিসার ইনর্চাজ মোঃ আতাউর রহমান খোন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হুন্ডিওয়ালাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ২জন শীর্ষ স্থানীয় হুন্ডি ব্যবসায়ী জলিল ও ইউনুছকে আটক করে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা