বাংলাদেশ, , শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

টেকনাফে বিটিসিএলের জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা, থানায় এজাহার

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-১৩ ১৪:৫৭:০২  

শাহীনশাহ, টেকনাফ॥

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানী লিমিটেড (বিটিসিএল) পূর্বের নাম টিএন্ডটির জমি দখল করে রাতারাতি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

এ ব্যাপাওে বিটিসিএল এর পক্ষ থেকে মডেল থানায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে জানা যায়।
বিটিসিএলের উখিয়া উপ সহাকারী প্রকৌশলী অফিসারের অভিযোগ এক সহকারী দারোগার সহযোগিতায় ওই অবৈধ স্থাপনাটি দ্রুত গড়ে তোলা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে হতাশা ও চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, ওই এলাকায় টিএন্ডটি বর্তমানে বিটিসিএলের ১৯৭৬ সালে ১ একর ৫০ শতক ক্রয়কৃত জমির  উপর একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ওই ভবনে টিএন্ডটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। মধ্যখানে টিএন্ডটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কেয়ার টেকার মাধ্যমে ভবন ও পাশ্ববর্তী জমি দেখভাল করা হয়।

বিটিসিএলের উখিয়া টেলিকমের অফিসের অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় মৌঃ ছিদ্দিক আহম্মদের ছেলে শহীদ উল্লাহ ও বশির উল্লাহ’র সহায়তায় ও যোগ সাজশে বাদশা মিয়ার ছেলে মোঃ বেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৬ সেপ্টেম্বর অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার পক্রিয়া হিসেবে খুটি স্থাপনের সংবাদে পাশ্ববর্তী হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ী বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগটি পেয়ে তৎকালীন সাময়িক দায়িত্বরত সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে, রহস্যজনকভাবে রাতারাতি বিটিসিএলের জমির উপর অবৈধভাবে একটি ঘর গড়ে তোলে। বিটিসিএল উখিয়া অফিসের দাবী ওই অফিসারের অবহেলা  ও ম্যানেজের কারণে ঘরটি গড়ে তোলা হয়েছে। পরবর্তী ১৭ সেপ্টেম্বর ওই উপ সহকারী প্রকৌশলী টেকনাফ থানায় একটি এজাহার দায়ের করে।  যার অনুলিপি চট্টগ্রাম টেলিকম বিভাগীয় প্রকৌশলী, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কক্সবাজার টেলিকম সহকারী প্রকৌশলী বরাবর প্রেরণ করা হয়। অভিযুক্ত শহীদ উল্লাহ বলেন, টিএন্ডটির জমিতে স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়নি। এটি তাদের জমি বলে দাবী করেন তিনি।
Pic 12.10.15তবে এএসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, হোয়াইক্যং ফাঁড়ী পুলিশের এসআই স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করায় আমি দুই দিনের দায়িত্বে ছিলাম। উখিয়া বিটিসিএল অফিস যে দিনই অভিযোগ করেছিল,  ওই দিনই বিটিসিএলের প্রকৌশলী ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছাউনি ব্যতীত ঘরটি দেখতে পাওয়া যায় এবং  নির্মাণকারীদের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অফিসে বিষয়টি সমাধান করার জন্যও বলা হয়। সরেজমিন দেখা যায়, জরাজীর্ণ টিএন্ডটি বর্তমান বিটিসিএল অফিসটি অবহেলা ও অনাদরে পড়ে রয়েছে। কোন ধরণের দেখা শুনার চিহ্ন নেই। ক্রয়কৃত জমির উপর অনেকে ধানের চাষ করা হয়েছে। কেয়ার টেকারের পরিবার ওই ভবনে অবস্থান করে। পাশাপাশি দেখা যায়, ভবনটির সম্মুখে ও কক্সবাজার টেকনাফ মহাসড়ক ঘেষে প্লাস্টিকের ঘেরা দিয়ে একটি ঘড় গড়ে তোলা হয়। কেয়ার টেকার নুরুল ইসলাম ও তার পিতা আবুল মন্জুর বলেন, জমিটি টিএন্ডটি ভবনের আওতায় দেখা শুনা করা হতে। কিন্তু সম্প্রতি অভিযুক্তরা রাতারাতি স্থাপনাটি গড়ে তোলে।

হোয়াইক্যং ইউপির গ্রাম পুলিশ কবির আহমদ জানান, ওই অভিযানের সাথে আমিও সাথে ছিলাম। ঘরটি নির্মাণ করার জন্য খুটি স্থাপন করে। পর দিন পরিপূর্ণ বাড়ি দেখা যায়।

উখিয়া টেলিকম অফিসের  উপ সহকারী প্রকৌলী মোঃ নাছির উদ্দিন জানান, দেশ ও জনগণের স্বার্থে অচিরেই হোয়াইক্যং ভিএইচএফ পিসি ও স্টেশনকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে যা পক্রিয়াধীন। অবিলম্বে ওই ভবনে কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে  টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আতাউর রহমান খোন্দাকার জানিয়েছেন, তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদের  পক্রিয়াধীন রয়েছে। এএসআইয়ের অবহেলার বিষয়ে  জানতে চাইলে তিনিও অভিযোগটি পেয়েছেন বলেন জানান, জেলা পুলিশ সুপার বরাবর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা