বাংলাদেশ, , শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

নিষেধাজ্ঞার পর সাগরে গেলো শত শত ফিশিং বোট

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-১১ ২০:৩০:৩১  

আমিরুল ইসলাম মো.রাশেদ

ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে ১৫ দিন পর সাগরে ইলিস ধরতে গেলে জেলেরা। প্রজননের সময় সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ঘোষনার সময় শেষ হওয়ায় জেলেরা শত শত ট্রলার নিয়ে সাগরে রওয়ানা দেয়। এতে কষ্টের দিন শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জেলে পরিবারের সদস্যরা।
জানা যায়, মাছ সংরক্ষণ সরকারি বিধি অনুযায়ি ২৫ সেপ্টম্বর থেকে ৯ অক্টোবর মৎস্য আরোহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। যার ফলে ১৫ দিন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারেনি জেলেরা। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে জেলেদের।

এদিকে,সাগরে নিম্নচাপ বহাল থাকলেও গতকাল আবহাওয়া ভালো থাকায় বাঁকখালীর মোহনা থেকে প্রায় তিন শতাধিক ফিশিং বোট মাছ আহরনের জন্য সাগরে বের হয়েছে।মালিকরাও আশা করছেন,পনেরদিন মাছ আহরন বন্ধ থাকায়্ সাগরে দেখা মিলবে প্রচুর মাছের।আর তাই যদি হয়ে থাকে  তাহলে সাগরে জেলেদের জালে আটকা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিপুল পরিমান মাছ।এতে করে আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠবে কক্সবাজার শহরের মৎস্য আহরন কেন্দ্রগুলো।

শহরের সমিতি পাড়া এলাকার হামিদ নামের এক জেলে বলেন,জেলেদের প্রতি কারো মায়া নেই।মাছ আহরন বন্ধ থাকার সময় আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এক মুঠ চালও পায়নি।শুধু পেপার-পত্রিকায় শুনি সরকার নাকি জেলেদের চালসহ অনেক সহযোগিতা করেছেন।অথচ আমরা কিছুই পাইনি।তাই বউ-বাচ্চাদের নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য জেলে পেশা ছেড়ে এখন রিক্স চালায়।

পেশকার পাড়া এলাকার বোট মালিক মো.মিজানুর রহমান বলেন, এমনিতে সারা বছর আমরা লোকসানে থাকি তার মধ্যে আবার বোটে ডাকাতি যা আমাদের পথে বসানোর উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে।প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর আবেদন চিহিৃত ডাকাতদের গ্রেফতার করে মাঝি-মাল্লাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হউক।

বোট মালিক সমিতির সিনিয়র সভাপতি আলহাজ নুরুল ইসলাম চিশতী বলেন,সাগরে আগের মতো এখন আর মাছ নেই ,তারপরও পূর্বের ওই ব্যবসাকে ঠিকিয়ে রাখার জন্য লোকসান দিয়ে সাগরে বোট পাঠায়।অথচ এখানকার মৎস্য খাত থেকে সরকার প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব পাই,তারপরও এইখাতের প্রতি সরকারের কোনো ধরনের সুদৃষ্টি নেই।এছাড়া ওই যে ক’দিন মাছ আহরণ বন্ধ ছিলো সরকার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পায়নি আমাদের স্থানীয় জেলেরা।ফলে এসব জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে ছিলো। তিনি আরো বলেন,ইতোমধ্যে সাগরে বোট বের হওয়ার সাথে সাথে সোনাদিয়ার কুখ্যাত জাম্বু ও আরজু ডাকাত বোট মালিকদের ফোন করে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এদের ভয়ে অনেক মালিক এরইমধ্যে তাদের দাবিকৃত টাকা বিকাশে পাঠিয়ে দিয়েছে।ওই ডাকাতের অত্যাচার বন্ধ না হলে এক সময় মালিকরা সাগরে আর বোট পাঠাবেনা।যার কারনে ওই পেশার সাথে জড়িত হাজার হাজার জেলেরা বেকার হয়ে যাবে।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা