বাংলাদেশ, , শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

কক্সবাজারের পিটিআইতে অতিরিক্ত ফি: আদায়ের অভিযোগ

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-১১ ১৯:৩৯:১১  

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

কক্সবাজারের পিটিআইতে নামে বেনামে আদায় করা হচ্ছে ভর্তি ফি:সহ অতিরিক্ত টাকা।  প্রতিষ্টানের সুপার, অফিস সহকারী এবং কয়েকজন ইনেস্ট্রাকটর যোগসাজসে অনিয়মের মাধ্যমে এ ফিঃ আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। এ অবস্থায় তাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি এভাবে চলতে থাকলে দ্রুত এ প্রতিষ্টানটি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সুনাম ধরে রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযোক্ত সুুপার কামরুন নাহার।
তবে বেশ কিছু প্রশিক্ষণার্থীর অভিযোগ সুপারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রধান অফিস সহকারী প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে এসব টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাথমিক শিক্ষকদের আরো দক্ষ ও বাস্তব শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে সরকার প্রতিষ্টা করেন পিটিআই(প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট)। এসব প্রতিষ্টানে প্রতি দেড় বছর প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে শিশুদেরতোলা হয়। কক্সবাজারে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে প্রতি দেড় বছর অন্তর অন্তর ১৬০ জন প্রশিক্ষণার্থী ট্রেনিং নিতে ভর্তি হন পিটিআইতে।
কিন্তু বর্তমানে সকল নিয়ম শিক্ষার এ প্রতিষ্টানটি আজ অনিয়মে ভরে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। তাদের দাবি প্রতিষ্টানের প্রধান ও তার একটি সিন্ডিকেট এ প্রতিষ্টানকে অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করেছেন। এখানে তাদের স্বেচ্ছাচারিতাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। নিজের ইচ্ছামতভাবে পরিচালনা করছেন প্রতিষ্টানটি। প্রতিনিয়ত অনিয়মের মাধ্যমে চললেও তার বিরুদ্ধে কেউ সহজে কথা বলতে সাহস করে না। ফলে দ্বিগুণ উৎসাহে তিনি অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। এ অবস্থায় দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে প্রতিষ্টানের কার্যক্রম। এসব বিষয় প্রশিক্ষণার্থীরা সুপারের সাথে কথা বলেও কোন সুফল পায়নি বলে দাবি করেছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশিক্ষণার্থীরা জানিয়েছেন, সরকারী নিয়ম মতে পিটিআইতে ভর্তি ফিস ৮৫০টাকা। কিন্তু এবারে ভর্তির সময় প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হযেছে। এ নিয়ে অনেকবার প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে বাকবিতান্ডে জড়িয়ে পড়েছেন প্রধান অফিস সহকারী। চলতি ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে ভর্তির ৬ মাস পর আরো ১৫০ টাকা জোর করে আদায় করা হয়েছে বলে প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ। তাদের দাবি সরকারী কোন ধরনের নোটিশ না দিয়ে সরকারী নির্দেশনার কথা বলে তাদের কাছ থেকে এ টাকা আদায় করা হয়েছে। তাদের হিসেব মতে এবারে ১৬০ জনের কাছ থেকে ভর্তির অতিরিক্ত ১৫০ টাকা আদায় করে আত্মসাত করেছেন সুপার সিন্ডিকেট ও তাঁর সিন্ডিকেট। এছাড়া নানা সময় তাদের কাছ থেকে নামে বেনামে টাকা আদায় করে আসছে এ চক্র। তাদের দাবি অতীতে কোন সময় এমন অনিয়ম দেখা না গেলেও এবার এ টাকা আদায় করা হয়েছে।
প্রতিষ্টানের সুপার কামরুন নাহার বলেছেন, সব কিছু সরকারী নিয়মমত হচেছ। তিনি বলেন, চলতি ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের মার্চ মাসে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী’র এক সিদ্দান্তে ভর্তি ফি: বৃদ্ধি করার ফলে অতিরিক্ত ১৫০ টাকা প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে। আর যেসব টাকা অফিস সহকারীকে দিচ্ছে তা তিনি অবহিত নন বলে জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশিক্ষণার্থীরা জানিয়েছেন, প্রতিমাসের ট্রেনিং ভাত থেকে  প্রতিজনের কাছ থেকে ৭০ টকা, নির্ধারিত বেতন থেকে ৩০ টাকা, ঈদ বোনাস থেকে ২০, স্কুল প্লেইচমেন্ট’র টাকা, ফিক্সেশন থেকে ২৫০ টাকা, বার্ষিক ক্রিড়া ৬০ টাকসহ বিভিন্ন অনুষ্টানের নামে ১০ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। আর এসব টাকা নিজেরা আত্মসাৎ করছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি দেয় সুপার এমন অভিযোগ তাদের। ফি: দিতে দিতে অনেকটা হাঁফিয়ে উঠছেন এমন দাবি করে আরো বলেন, বিভিন্ন অনুষ্টানের নামে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয় প্রতিনিয়ত।
এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রধান অফিস সহকারী তবারক হোসেন জানান, প্রশিক্ষণার্থী তাদের কাজ করার জন্য আমাকে খুশি করতে এসব টাকা দেয়। অনেক সময় আমি নিজেও খুশিমনে তাদের কাছ থেকে চেয়ে নিই বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
প্রশিক্ষণার্থীদের দাবি ভর্তির সময় তাদের কাছ থেকে ম্যাগাজিন, ক্রীড়া ও খেলাধুলা, অভ্যন্তরীণ পরিক্ষা ফি: টাকা আদায় কারা হলেও বিভিন্ন সময় তাদের কাছ থেকে এসব টাকা কেন আদায় করা হচ্ছে তার কোন সুদোত্তর নেই।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা