বাংলাদেশ, , বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

কচ্ছপিয়ার মানবপাচারকারী ইলিয়াছ ধরাছোঁয়ার বাইরে

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-১০ ২১:১৫:০৩  

নিজস্ব প্রতিনিধি, নাইক্ষ্যংছড়ি :
জেলার বহুল আলোচিত মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মৌলভীকাটা গ্রামের বাসিন্দা
ইলিয়াছ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তভূগী পরিবারের সদস্যরা।  অভিযোক্ত ইলিয়াছ স্থানীয় আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেলে।
বর্তমানে তিনি আবারো নতুনভাবে পাকিস্তান, ওমান, দোবাই, সৌদিআরব, ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ অত্যন্ত কূটকৌশলি হয়েই ইলিয়াছ নিজ এলাকা থেকে তাঁর অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। এ ক্ষেত্রে সে দিনের বেলায় বাড়িতে থাকলেও পুলিশের ভয়ে রাতে উধাও হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ইলিয়াছ তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিগত ৫ বছর আগে থেকে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার শুরু করেন। সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ডে গণকবরের সন্ধান লাভের পর মানবপাচার নিয়ে দক্ষিণ এশিয়াসহ বাংলাদেশে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়াও শুরু হলে নিজেকে রক্ষা করতে মানবপাচারকারী ইলয়াছ নানা কৌশল অবলম্বন করে চলেছে। এমনকি তার বড় ভাই মো.ইদ্রিস কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হওয়ার সুবাদে গুটি কয়েক পাতি নেতার সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলে এ জঘন্যতম অপরাধ থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি ইলিয়াছ সহ তাঁর সহযোগি কক্সবাজারের শীর্ষ মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম আরো দুই সদস্য রামু উপজেলার লিংক রোড ক্যইম্যার ঘোনার মৃত আলী আকবরের ছেলে সৈয়দ আহমদ মুন্সি ও মহেশখালী উপজেলার কুতুব জোমের পশ্চিম পাড়ার জাফর আহমদের ছেলে মো.আতাউল্লাহ আতিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়ার্টাসের মহাপুলিশ পরিদর্শক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ময়মসসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের কাকনহাট গ্রামের রুমি আক্তার।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিগত ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ইলিয়াছ, সৈয়দ আহমদ মুন্সি ও মো.আতাউল্লাহ তাঁর স্বামী নাজিম উদ্দিন তালুকদারের ছেলে মো.আল আমিনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ২ লাখ বিশ হাজার টাকা সহ ফুসলিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। এর পর থেকে সে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে সুসংগঠিত এসব মানবপাচারকারী হয়তো আল আমিনকে মুক্তিপণের আশায় কোথাও আটকে রেখেছে। নিখোঁজের পর থেকে রুমি আক্তার ছেলে-সন্তান নিয়ে মানবপাচারকারীদের কারণে মানবেতর জীবন পার করছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এরকম দেশের অসংখ্য পরিবারকে বাবা হারা, স্বামী হারা অথবা সন্তান হারা করেছে মানবপাচারকারী ইলিয়াছ সিন্ডিকেট।
এদিকে রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের সচেতন মহল চিহ্নিত মানবপাচারকারী ইলয়াছকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা