বাংলাদেশ, , রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২

কক্সবাজারের মানবপাচারকারীরুস্তম আলী মাঝি গ্রেফতার

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-১০ ২১:০৬:০৫  

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

কক্সবাজারের শীর্ষ মানবপাচারকারী রুস্তম আলী মাঝিকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১০ অক্টোবর শনিবার সকালে উখিয়ার সোনারপাড়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার রুস্তম আলী উপজেলার সোনাইছড়ি জালিয়াপালং এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে অন্তত অর্ধডজন মানবপাচার মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। ইতোমধ্যে এসব মামলার বেশীর ভাগই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে অর্গানাইজড ক্রাইম ( সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়ার্ড) বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডি। তবে এসব মামলার আসামীরা অধরাই রয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসি আরো জানান, উখিয়া উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জালিয়াপালং এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে রুস্তম আলী, রেবি ম্যাডাম দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার করে আসছিল। এলাকায় তাদের রয়েছে ২০ জন দালাল। এসব দালালের মধ্যে অন্যতম সহযোগি হিসেবে ইসলামপুর মধ্যম নাফিতখালীর নুরুল আজিম, সোনারপাড়া পরিষদ পাড়া এলাকার ছৈইয়্যা ও সোনারপাড়াস্থ পশ্চিম সোনাইছড়ি এলাকার মোঃ ছৈয়দ, মোঃ জমির, ছেপটখালীর মানবপাচারের উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ন্ত্রক আবুল কালাম, মনখালীর ফয়েজ, জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এক জনপ্রতিনিধি,সহযোগী কাদের, মুজিবুল হক, লাল বেলাল, মৌলভী আবদুল্লাহ সহ অর্ধশতাধিক দালালেরা দেশের বিভিন্ন জেলায় সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ নিরীহ লোকজনদেরকে অল্প টাকায় কোটিপতি স্বপ্ন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে জড়ো করত।
সেখান থেকে সিএনজি বা অন্য যানবাহনের মাধ্যমে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের অস্থায়ী এয়ারপোর্ট নামে খ্যাত বাদামতলী, রাজাপালং ইউনিয়নের সিকদার বিল, জুম্মাপাড়া আস্তানায় মজুদ করে স্থানীয় থানা পুলিশের কথিত কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নামধারী একশ্রেণীর দালালদেরকে ম্যানেজ করে রেজু মোহনে তীরে অপেক্ষাকৃত বোট দিয়ে কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে স্বল্প টাকায় অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করে আসছিল। তারা সবাই সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য বলে এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়। এসব আদমপাচারকারীরা হঠাৎ করে গাড়ী-বাড়িসহ বিত্তবৈভবের মালিকও হয়ে গেছে।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, রুস্তম আলী মাঝিসহ তার সহযোগী মোঃ কাদের, মুজিবুল হক, মাহাদ প্রকাশ মাদু, লাল বেলাল, মৌলভী আবদুল্লাহ ও ইসলামপুর মধ্যম নাফিতখালীর নুরুল আজিম এর বিরুদ্ধে ( উখিয়া থানার মামলা নং-২০, জিআর-৬০/১৫) গত ২৪ জুলাই আদালতে চার্জসীট দাখিল করেছেন অর্গানাইজড ক্রাইম ( সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়ার্ড) বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডি তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন চন্দ্র সরকার।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান বলেন, রুস্তম আলী তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারী। তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৪টি মানবপাচার মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে অর্গানাইজড ক্রাইম ( সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়ার্ড) সিআইডি। সেখানে দুই মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
ওসি জহিরুল ইসলাম খান আরো বলেন, রুস্তম আলী জেলার আলোচিত মানবপাচারকারীদের অন্যমত। কৌশলে সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। গোপন সংবাদে তাকে সোনারপাড়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার সহযোগী চাজসীটভুক্ত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহ রয়েছে।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা