মঙ্গলবার, ১৮ Jun ২০২৪, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

টেকনাফে পৌরসভা আগাম নির্বাচনী উত্তাপ

টেকনাফে পৌরসভা আগাম নির্বাচনী উত্তাপ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নুরুল হোসাইন , টেকনাফ
দেশের সর্ব দক্ষিনে উপজেলা টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। প্রায় সব ওয়ার্ডে তাদের পদাচরণের ফলে সাধারন ভোটারদের মনেও আগ্রহ জন্মেছে। আর এতে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মাঝে। তবে এবারে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সমর্থন দেয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে সচেতন মহলের দাবি। এতে নির্বাচনী পরিবেশ কি হতে পারে তা নিয়ে সঞয় দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় টেকনাফে ঝিমিয়ে থাকা রাজনৈতিক অঙ্গনে মুুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনের উত্তাপ।
স্থানীয়দেও সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচন হবে সরকারী দলের প্রেস্টিজ ইস্যু এবং বিরোধী দল সমূহের টিকে থাকা। এ অস্থায় উভয় দলের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। বর্তমানে টেকনাফের চায়ের দোকান, অফিস ও পাবলিক প্লেসে বইছে নির্বাচনের হাওয়া। এছাড়া চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদে তা আরও জোরদার হয়েছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে মেয়াদ উর্ত্তীণ পৌরসভা নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্টিত হবে। এ খবরে পৌর শহরে নির্বাচনের হাওয়া শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীগণ ঈদ, পুজো পার্বণকে ঘিরে ভোটারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শহর-গ্রাম ও হাটবাজারে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবি সংবলিত নানা রঙের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয়েছে চোখে পড়ার মতো। অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী চলমান হালনাগাদ ভোটার তালিকায় ভোট ব্যাংক করার উদ্দেশ্যে ভোটার প্রত্যাশীদের অর্ন্তভূক্ত ও গেল ঈদে ভোটারদের মন জয় করার জন্য সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন। কেউ দিচ্ছেন নগদ অর্থ, আবার কেহ দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের কাপড়, কেহ দিয়েছেন সেমাই-চিনি ইত্যাদি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ পৌরসভার (স্থাপিত ২০০০ সাল) নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছিল ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারী। গেজেট প্রকাশের হয় ২ ফেব্র“য়ারী ২০১১ইং। শপথ গ্রহণ করেছিল ৯ মে ২০১১ ইং। ১ম সভা অনুষ্টিত হয়েছিল ২৯ মে ২০১১ ইং। মেয়াদ শেষ হবে ২৯ মে ২০১৬ ইং। এ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোন আয়তন বেড়ে নাই। পৌর এলাকা গুলো এখনও গ্রামের মতো। পৌর সুবিধা সেখানে পৌঁছেনি। যে কারণে এলাকার ভোট নিয়ে প্রার্থীরা বেশ চিন্তিত। এবারের নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর হওয়া তার এমন মন্তব্য অধিকাংশ প্রার্থীর। তারপরও মাঠে প্রার্থীর সংখ্যা যে কোন বারের চেয়ে এবার যে বেড়ে যাবে সেই আলামত ¯পষ্ট। মেয়রপ্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে একই দলের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী মেয়র হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আবার কাউন্সিলরের ক্ষেত্রে তরুণদের সংখ্যাই বেশি।  এছাড়াও বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছেন মাঠে।
সূত্র মতে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় ভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষনায় অনেক দলীয় প্রার্থী স্ব-স্ব দলের সিনিয়র-জুনিয়র নেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। যাতে আগামীতে দলীয় নমিনেশন পান।
স্থানীয় লোকজনদের ভাষ্য মতে, এবার রাজনৈতিকভাবে প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্তের কারণে পৌর নির্বাচনে আলাদা মাত্রা যোগ হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দেনদরবার শুরু করেছেন ইতোমধ্যে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পেতে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে দলীয় নেতাদের কাছে তদবির শুরু হয়েছে।
আগামী স্থানীয় নির্বাচনে সীমান্ত এলাকায় তরুন প্রার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি চলবে টাকার খেলা। প্রার্থীরা চাইবে টাকার জোরে বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রশ্ন ভিন্ন। টাকা থাকলে সবকিছু নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে আসতে পারবে এটা স¤পূর্ণ ভূল। তাঁদের মতে নির্বাচন এমন একটি বিষয়, এখানে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার প্রশ্ন রয়েছে। যারা দেশ, জাতি ও এলাকার উন্নয়ন সাধন করতে পারবে তাদেরকে আমরা ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করব। এদিকে বর্তমান যাঁরা জন প্রতিনিধি রয়েছেন, তাঁরা যদি আবার প্রার্থী হন, তাঁদের ব্যাপারে ভোটারেরা চুলচেরা বিশ্লেষন করবেন। জনগণ ও এলাকার কতটুকু অতীতে কাজ করেছেন তা খতিয়ে দেখবেন। এর উপর ভিত্তি করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে তত সম্ভাব্য প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের কাতারে সামিল হওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সকলের মন রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। লোকজনের মুখে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হল, বর্তমান মেয়র হাজী মো. ইসলাম (আওয়ামীলীগ), মো. ইসমাইল (জামায়াত), নুরুল বশর  (আওয়ামীলীগ), মো. হাসান কমিশনার (বিএনপি), আবদুর রাজ্জাক (বিএনপি), আবদুল আমিন (আওয়ামীলীগ) , আব্দুল্লাহ মনির (স্বতন্ত্র প্রার্থী) হেলাল উদ্দীন মুন্সী( জাতীয় পাটি), সাবেক কাউন্সিলর নজির আহমদ কালু, বাছা মিয়া, মোহাম্মদ মিয়া।
কাউন্সিলর এর যাদের নাম শুনা যাচ্ছে। ২নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আবু হারেছ, ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর একরামুল হক, জাহেদ হোসেন, ব্যবসায়ী জুয়েল, দিদার হোসেন ও ফয়েজ কো¤পানী। ৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর হাসান আহমদ, মে. হোসেন, মে. সেলিম, আবদুল হক ও তারেক। ৫নং  ওয়ার্ডের মো. আলম বাহাদুর, জাফর আলম। ৬নং ওয়ার্ডের আব্দুস শুক্কুর, জাহাঙ্গীর আলম, শেখ হায়দার সাবেক কাউন্সিলর ইউছুপ । ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মুজিবুর রহমান, ছৈয়দ হোছন, ৮নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মো. রফিক, সাংবাদিক আবুল আলী, ৯নং ওয়ার্ডের মো. আমিন ভূলু, গফুর মেম্বার, ফরিদ আহমেদ, নুরুল বশর প্রকাশ নুরশাদ, রেজাউল করিম রেজা, ফজলুল কবির, রেজাউল করিম শরীফ, আবুল হাশিম প্রকাশ বায়নবলি ও মো. হোছাইন।
এছাড়া সংরক্ষিত ১,২,৩ নং বর্তমান কাউন্সিলর রুবিনা আক্তার, কহিনুর আক্তার, সাজেদা আক্তার, রিনা আক্তার, হালিমা আক্তার, ফিরুজা আক্তার। ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডে দিলরুবা আক্তার, মুন্নী বেগম। ৭,৮,৯ ওয়ার্ডে নাজমা আলম, রশিদা আক্তার।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM