সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০২:১০ অপরাহ্ন

দুই যুগ ধরে উপেক্ষিত ঈদগাঁওবাসীর দাবী

দুই যুগ ধরে উপেক্ষিত ঈদগাঁওবাসীর দাবী

অনলাইন বিজ্ঞাপন

এম আবু হেনা সাগর,ঈদগাঁও

দীর্ঘ দুই যুগ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু  এখনো বাস্তবায়ন হয়নি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওকে উপজেলা বাস্তবায়ন। একই সাথে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্থাপন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ থানা।  এ সংক্রান্ত অগ্রগতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, সমৃদ্ধ ইতিহাসের স্বাক্ষী ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক ঈদগাহ জনপদ। প্রাচীনকাল থেকে এই জনপদ সম্পদ ও প্রাচুর্য্যের পরিচয় বহন করে আসছে। ভৌগোলিক অবস্থান,আর্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট,শিক্ষা সংস্কৃতি,অর্থনৈতিক অগ্রসরতা বিবেচনায় ঈদগাহ জেলার সর্বাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ফুলেশ্বরী নদীর অববাহিকা জুড়ে গড়ে উঠে এ জনপদের জীবন ও জীবিকার লড়াই। সভ্যতার ক্রম বিকাশের ধারাবাহিকতায় ও প্রয়োজনের তাগিদে নদী নির্ভর বাণিজ্য প্রসারে ফুলেশ্বরী তীরের ঈদগাহতেই বিস্তৃত হয় গ্রামীণ হাট। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আবাসন ও বাণিজ্য প্রসার।

জেলা শহর থেকে বত্রিশ কিলোমিটার উত্তরে চকরিয়া পৌর শহর, বত্রিশ কিলোমিটার দক্ষিণে ঈদগাঁও বাজারের অবস্থান। ভৌগোলিক অবস্থান,বাণিজ্যিক, নাগরিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ঈদগাহ উপজেলা দাবীদার। আদি পুরুষদের প্রবাদ বচন ধীরে ধীরে সত্য রুপে প্রমাণিত হচ্ছে। অ-পথ-পথ, অ-ঘাট-ঘাট হচ্ছে। শেওলা ভাসা জলাশয়ে স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে নয়নাবিরাম দালান ঘর। দূর্গম পাহাড়ী ঢল বেয়ে যৌবনের ঢেউ নিয়ে দূর থেকে দূরে চলে গেছে কাল পিচ ঢালা রাস্তা। ফলে উন্নত হয়েছে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা। আবার পাহাড়ী ঢলে ভেস্তে যাওয়া অনেক অযোগ্য ইউনিয়ন যোগ্যতার সন্ধান পেয়ে উপজেলা বা পৌরসভায় উন্নতি হয়েছে। সেসব এলাকার নতুন নতুন স্থাপত্যে টিকরে পড়েছে চোঁখ বাধানো সৌন্দর্য্যর। অথচ এত কিছুর মাঝে ও চির অবজ্ঞায় পতিত আছে,ঈদগাঁও নামক অবহেলিত জনপদটি।

পর্যটন নগরী কক্স বাজারের প্রবেশদ্বার খ্যাত বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত বৃহত্তর ঈদগাঁও বাজার। এই বাজারটি একটি বহুমুখী বাণিজ্য কেন্দ্র। এই ঈদগাঁও বাজারে পশ্চিমের মহেশ খালীর লোকজন চৌফলদন্ডী হয়ে প্রতিদিন না হলেও অন্ততঃ প্রতি শনি-মঙ্গলবার তথা (বাজার বার বা হাট বার) নানান প্রকার পন্য সামগ্রী ক্রয়/বিক্রয়ের লক্ষ্যে ছুটে আসে।

গজালিয়া, বাইশারী, ঈদগড়, ঈদগাঁও এবং নাইক্ষ্যংছড়ির লোকজনও বিভিন্ন পণ্য ক্রয়/বিক্রয়ের জন্য এই বাজারে অন্তত ২ বার আসে। উত্তরে ডুলহাজারা,খুটাখালী, ইসলামপুর ও দক্ষিণে রামু,রশিদনগর,জোয়ারিয়ানালার লোকজন কেও নিয়মিত বাজারে যাতায়াত করতে দেখা যায়। আর বৃহত্তর এলাকার আশপাশের লোক জন তো প্রতিদিন লেগেই আছে। সব মিলিয়ে হিসাব করলে দেখা যায় যে, সপ্তাহে দুইদিন ঈদগাঁও বাজারে কমপক্ষে ৩/৪ লাখেরও বেশি লোক নিয়মিত ভাবে ব্যবসার লক্ষে যাতায়াত করে থাকে।

যার কারণে গোটা দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই ঈদগাঁও বাজারটি পরিণত হয়েছে একটি জনবহুল ও ব্যস্ততম বাজার হিসেবে। অথচ এই বাজার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা মুনাফা অর্জন করেছে সরকার। বাজারের চিত্র ধারণ করলে বুঝা যায় যে,এটা যে বর্তমান উন্নত ব্যবস্থার চিন্ত-ভাবনা থেকে কতটুকু পিছিয়ে আছে। তা অতি সহজে অনুমান করা যায়।

পোকখালী যুবলীগ আহবায়ক আমজাদ হোসেন জানান,এ তিন দাবী যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে ঈদগাঁওর পরিবেশ বদলে যাওয়ার পাশাপাশি  মানোন্নয়ন হবে বিশাল এলাকার।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM