সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন

দখল-দূষণে বাস অনুপযোগী হচ্ছে কক্সবাজার

দখল-দূষণে বাস অনুপযোগী হচ্ছে কক্সবাজার

অনলাইন বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার ১৭ এপ্রিল ১৯

দখল আর দূষণের মাত্রা রোধ করা সম্ভব না হলে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়বে কক্সবাজার এমনটি শংকা করছেন পরিবেশবিদরা। এতে হ্রাস পাবে কক্সবাজারে পর্যটক আসা। তাই কক্সবাজারের পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত ভাবে দ্রæত উদ্যোগ নেয়া দরকার।

মঙ্গলবার কক্সবাজারের একটি হোটেলে ‘কক্সবাজারের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক সেমিনারে এমনটি শংকা প্রকার করেন আলোকরা। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. সুলতান আহমদ এসব কথা বলেছেন।

সেমিনারে বলা হয়, পরিকল্পনা ছাড়া স্থাপনা গড়ে উঠায় দূষণের কবলে পড়েছে হোটেল মোটেল জোন। ৩২৫টি হোটেলের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েছে মাত্র ৪৮টি। স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান (এসটিপি) বাস্তবায়ন করেছে মাত্র ছয়টি হোটেল। কক্সবাজারে প্রতিদিন কঠিন ও তরল বর্জ্য সৃষ্টি হয় ৫০ থেকে ৭০ টন। ১২ টন বর্জ্য শোধানাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু শোধানাগারে বর্জ্য আসে মাত্র দুই টন। এই তথ্য থেকে বুঝা যায়, কক্সবাজার পর্যটন শহরের পরিবেশ দূষণের ভয়াবহ অবস্থা।

আরো জানানো হয়, দিন দিন পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এরমধ্যে পানি ব্যবহারের চেয়ে অপচয় হয় বেশি। পাহাড় কাটার মাটি, হ্যাচারির বর্জ্য ও হোটেল মোটেলের বর্জ্য সরাসরি যাচ্ছে সাগর ও নদীতে। বাঁকখালী নদী ভরাট, দখল হওয়ার কারণে শহরের লবণাক্ত পানি বেড়ে গেছে।

সেমিনারে পরিবেশ ডিজি বলেন, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটনের আকর্ষনীয় অঙ্গ। এখানে যেতে চান কক্সবাজারে আসা প্রায় পর্যটক। কিন্তু জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখানে লোক সমাগম কমাতে হবে। এখানে প্রতিদিন এক হাজার ২৫০ জন পর্যটক যাওয়ার বিধান করার উদ্যোগ চলছে। আগে থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করে এখানে যেতে হবে। সেন্টমার্টিনের অস্তিত্ব রক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণে এখানে রাত্রিযাপনের ওপরও বিধি নিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, অনলাইনে নিবন্ধন করে নির্দিষ্ট সংখ্যক পর্যটকের সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাওয়ার নিয়ম চলতি বছরই করার কথা ছিল। কিন্তু তা কার্যকর করা যায়নি। আগামী পর্যটন মৌসুমে এটি অবশ্যই কার্যকর করা হবে।

ডিজি বলেন, সেন্টমার্টিন দেশের বড় সম্পদ। প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষা করা সম্ভব না হলে অচিরে সেন্টমার্টিন নিশ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

সেমিনারে বলা হয়, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে বর্তমানে সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া ও সমুদ্র সৈকত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ জন্য মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে আগের পরিবেশ।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানব সম্পদ উন্নয়ন) এস এম সরওয়ার কামালের সভাপতিত্বে সেমিনারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) লে. কর্নেল আনোয়ার উল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবেদিল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও রিও প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম পরিচালক মো. ফেরদৌস হোসেন খান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান প্রমূখ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে খুরুস্কুলে পরিবেশবান্ধব ২২৫ পরিবারের জন্য আবাসন ভবন তৈরি করবে বলে সেমিনারে জানানো হয়।

W/R/S


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM