বাংলাদেশ, , রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২

চিলির কাছে ব্রাজিলের হার

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-০৯ ১০:২০:৩৭  

স্পোর্টস ডেস্ক

দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে গত বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ব্রাজিল আর কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চিলি মাঠে নামে। হাইভোল্টেজ এ ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে চিলি। ২-০ গোলের ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারায় স্বাগতিকরা। দলের হয়ে গোল করেন ভারগাস এবং অ্যালেক্সিজ সানচেজ।

স্বাগতিক হিসেবে নিজেদের মাটিতে এস্তোদিয়ো ন্যাসিওনাল জুলিও মাঠে ব্রাজিলকে আতিথ্য দেয় কোপা আমেরিকার ৪৪তম আসরের চ্যাম্পিয়ন চিলি। শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫ টায় শুরু হয় ম্যাচটি।

ব্রাজিল কোচ কার্লোস দুঙ্গা এ ম্যাচে দলের সেরা তারকা নেইমারকে মাঠে নামাতে পারেননি। নিয়মিত অধিনায়ক নেইমার চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে এ ম্যাচে দর্শক হয়ে থাকেন। ৪-২-৩-১ ফরমেশনে শুরু থেকে খেলতে থাকে সেলেকাওরা। ম্যাচের প্রথম একাদশে ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামেন জেফারসন, দানি আলভেজ, মিরান্ডা, ডেভিড লুইজ, মার্সেলো, গুস্তাভো, ইলিয়াস, উইলিয়ান, অস্কার, দিয়েগো কস্তা এবং হাল্ক।

চিলির কোচ জর্জ সামপাউলি তার শিষ্যদের প্রথম থেকে ৩-৪-২-১ ফরমেশনে খেলাতে থাকেন। কোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হয়ে শুরুর একাদশে মাঠে নামেন ক্লদিয়ো ব্রাভো, সিলভা, মেদেল, জারা, ইসালা, ডিয়াজ, ভিদাল, বেসাজোর, ভালদিভিয়া, ভারগাস এবং অ্যালেক্সিজ সানচেজ।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে সানচেজের দারুণ ক্রস থেকে জোরালো শট নেন ভারগাস। ডিফেন্স গুছিয়ে উঠতে সময় নেওয়া ব্রাজিলের পোস্টে ভারগাস গোলবারের ২০ গজ দূর থেকে শটটি নেন। ব্রাজিল গোলরক্ষক জেফারসন ঝাঁপিয়ে পড়লেও বল গোলবারের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ২৪ মিনিটের মাথায় অস্কারের নেওয়া শট চিলির গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়।

মাঝমাঠের খেলায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে দুই দল। ছোটছোট পাসে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে উঠে ম্যাচ। নিজেদের রক্ষণ সামলে দুই দলের স্ট্রাইকাররা আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় ম্যাচের আধাঘণ্টা পার হতেই।

ম্যাচের ৩৫ মিনিটের মাথায় ডানপাশ দিয়ে আক্রমণ শানে ব্রাজিল। ডেভিড লুইজের দারুণ ক্রস থেকে বল লুফে নেন উইলিয়ান। সেখান থেকে পা ঘুরে বল চলে যায় হাল্কের কাছে। আবারো উইলিয়ান ফিরতি বল পেয়ে চিলির গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন। তবে, চেলসির তারকার নেওয়া শটটি রুখে দিতে বেশি বেগ পেতে হয়নি বার্সেলোনার গোলরক্ষক ব্রাভোর।

৩৬ মিনিটে দুঙ্গা মাঠ থেকে ডেভিড লুইজকে তুলে নেন। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মারকুইনহোস। হাঁটুতে ব্যাথা অনুভব করায় উঠে যান লুইজ। ৪১ মিনিটে চিলির ফ্রান্সিসকো সিলভার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মার্ক গঞ্জালেজ।

৪২ মিনিটে সানচেজের দারুণ বাঁকানো শটেও গোলের দেখা পায়নি চিলি। ভিদালের ডিফেন্স চেড়া পাসে বল পান সানচেজ। সেখান থেকে তিনি বল বাড়িয়ে দেন গঞ্জালেজকে। ফিরতি বল পেয়ে আর্সেনাল তারকা সানচেজ ব্রাজিলের জাল লক্ষ্য করে বাঁকানো শট নেন। ব্রাজিল গোলরক্ষক জেফারসনের কিছুই করার ছিল না চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া। তবে, সানচেজের সামনে জেফারসন বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারলেও ভাগ্য আর ব্রাজিলের গোলবার তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

পরের মিনিটে আক্রমণ চালায় ব্রাজিল। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা মার্সেলো বল বানিয়ে দেন জেনিথের তারকা স্ট্রাইকার হাল্ককে। তবে তার নেওয়া শট রুখে দেন চিলিয়ান গোলরক্ষক ব্রাভো।

প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা না পেলে বিরতিতে যায়।

বিরতির পর ম্যাচের ৫০ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ভিদাল রিয়াল তারকা মার্সেলোকে অবৈধ বাধায় ফেলে দিলে চিলির পেনাল্টি এরিয়ার অল্প দূরে ফ্রি-কিক লাভ করে সেলেকাওরা। তবে, অস্কারের নেওয়া শট চিলির ডিফেন্স চিড়ে বেরুতে পারেনি।

৫৫ মিনিটে ফের চিলিকে হতাশায় পড়তে হয়। ইসালার দূরপাল্লার শট ব্রাজিলের গোলবারে লেগে ফিরে যায়। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে স্বাগতিকদের তারকা ভালদিভিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মাতি ফার্নান্দেজ।

ম্যাচের  ৬৬ মিনিটে সেরা সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি সানচেজ। ব্রাজিলের ডি-বক্সে থাকা ভিদালের অসাধারণ এক ক্রসে পা ছোঁয়াতে পারলেই গোলের দেখা পেতেন আর্সেনাল তারকা। এ যাত্রাতেও বেঁচে যায় দুঙ্গার ছাত্ররা।

ম্যাচের ৭২ মিনিটে গুস্তাভো ফেলে দেন ফার্নান্দেজকে। এ কারণে ফ্রি-কিক লাভ করে চিলি। ফ্রি-কিক নেন ফার্নান্দেজ নিজেই। তার উড়ন্ত শটে ব্রাজিলের জালে বল জড়িয়ে দেন ভারগাস। ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক রাইটউইং থেকে ব্রাজিলের ডি-বক্সে উড়ে এলে পা ছোঁয়াতে ভুল করেননি ভারগাস। আর তাতে জেফারসনের হাত স্পর্শ করে জালে জড়িয়ে যায় বল। ফলে, ১-০তে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

এরপর থেকেই গোল শোধ দিতে মরিয়া হয়ে পড়ে ব্রাজিল। আক্রমণভাগের শক্তি বাড়াতে কিছুটা উপরে এসে খেলতে থাকে সেলেকাওরা। ৭৭ মিনিটে হাল্কের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন রিকার্ডো অলিভেইরা।

মাঠে নামার এক মিনিটের মধ্যেই গোলের দেখা পেতেন অলিভেইরা, যদি উইলিয়ানের দারুণ এক ক্রস থেকে বলে পা ছোঁয়াতে পারতেন। ৮১ মিনিটে আবারো সুযোগ নষ্ট করেন অলিভেইরা। এবারো উইলিয়ানের পাস থেকে বল পান চিলির গোলবারের সামনে দাঁড়ানো অলিভেইরা। তবে, তার নেওয়া শটটি স্বাগতিকদের গোলবারের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

ম্যাচের ৮২ মিনিটে দুঙ্গা মাঠ থেকে গুস্তাভোকে তুলে নিয়ে লুকাস লিমাকে পাঠালে চিলির কোচ সামপাউলি ডিয়াজকে তুলে নিয়ে ভিলচিসেজকে মাঠে নামান।

৯০ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুন করেন সানচেজ। ভিদালের দারুণ এক পাস থেকে বল পান আর্সেনাল তারকা। এর আগেই ভিদাল ব্রাজিল গোলরক্ষক জেফারসনকে বোকা বানান। সানচেজের আলতো টোকা সেলেকাওদের এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে আরেকবার আলতো টোকা দেন গানার তারকা। বল জালে জড়ালে ২-০তে এগিয়ে যায় চিলি।

ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চিলি।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা