বাংলাদেশ, , বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ পুতিনের উত্তরণ

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-০৮ ১৬:১৯:৪৩  

আর্ন্তাজাতিক ডেক্স॥

এই মুহূর্তে বিশ্ব রাজনীতিতে ভ্লাদিমির পুতিনকে বলা হচ্ছে ‘ওয়াইল্ড কার্ড’। কিন্তু এ দাপট একদিনে গড়ে ওঠেনি। অনেকে বিশ্লেষকের মতে, তার ক্ষমতার উত্তরণের পথ গুপ্তচরবৃত্তি, অস্ত্রের সংঘাত, গোষ্ঠীশাসন, তেল ইত্যাদিতে পরিপূর্ণ। কিভাবে একজন অচেনা মানুষ ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করেছেন তা বেশ আগ্রহের বিষয়। এখানে জেনে নিন এই মহা ক্ষমতাধর ব্যক্তিটি সম্পর্কে দারুণ কিছু তথ্য।

১. ১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর লেলিনগ্রাদে জন্ম হয় পুতিনের। তার পুরো নাম ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন। তার বাবা একজন শ্রমিক এবং সম্মানিত যোদ্ধা ছিলেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ম-কানুনে পরিচালিত এক পরিবেশে বেড়ে ওঠেছেন তিনি। এই পরিবেশ সেই সময় খুবই সাধারণ বিষয় ছিল।

২. টিনএজ থাকা অবস্থায় পুতিন তার স্কুলের রেডিও স্টেশনে কাজ করেছেন। সেখানে তিনি বিটলস এবং অন্যান্য পশ্চিমা ব্যান্ডের রক গানে পারফর্ম করতেন। তবে পুতিন তখন সোভিয়েত ধাঁচের গানই বেশি গেতেন।

৩. ১৯৭৪ সালে পুতিন জুডোতে চ্যাম্পিয়ন হন। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। রাশিয়ার সাবেক উপ অর্থমন্ত্রী এবং সেন্ট্রাল ব্যাংকের ডেপুটি চেয়ারম্যান সের্গেই আলাক্সাশেনকো বলেছিলেন, জুডোর প্রতি ভালোবাসা তার কূটনৈতিক কৌশলে প্রভাব রাখে। তিনি কখনোই প্রতিপক্ষের আঘাতের অপেক্ষায় থাকেন না।

৪. স্পাই উপন্যাস এবং টেলিভিশন শো তার দারুণ পছন্দ। বিশেষ করে সোভিয়েতের ডাবল এজেন্টকে নিয়ে নির্মিত একটি শো তার সবচেয়ে পছন্দের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক নাৎসি এলিট গুপ্তচরের কাহিনী তিনি মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখতেন।

৫. জীবনের একটা সময় পুতিন কেজিবি’র হয়ে কাজ করেছেন। ১৯৮৫ সালে কেজিবি’র এক এজেন্ট পুতিনকে গোপন কাজে পাঠান পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে। সেখানে সফলভাবে কাজ সম্পন্ন করেন তিনি। ফিরে আসার পর তাকে ‘ব্রোঞ্জ মেডেল’ প্রদান করা হয়।

৬. ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর ভেঙে ফেলার এক বছরের মধ্যে পুতিন লেলিনগ্রাদে ফিরে আসেন এবং সেখানকার মেয়রের অধীনে চাকরি নেন।

৭. সেন্ট পিটার্সবার্গের ডেমোক্রেট দলের একটি অংশ মনে করে, পুতিনকে মেয়রের অফিসে চাকরির ব্যবস্থা করেছিল কেজিবি। তবে পুতিন কখনোই কেজিবি’র কাজ করার কথা স্বীকার করেননি।

৮. মেয়রের অধীনে কাজ করা অবস্থায় তিনি ‘গ্রে কার্ডিনাল’ উপাধি পান। যেকোনো কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে একমাত্র মানুষ ছিলেন পুতিন।

৯. ১৯৯০-এর দশকে পুতিনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ উত্থাপিত হয়। তাতে বলা হয়, সেন্ট পিটার্সবার্গের মানুষের খাদ্যের অভাব পূরণ করতে তিনি ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের কাঁচামাল রপ্তানি করেছেন। পরে খুব দ্রুত সেই অভিযোগ থেকে খালাস পান তিনি।

১০. পুতিন যে মেয়রের অধীনে কাজ করতেন তিনি নির্বাচনে হেরে যান। বিজয়ী প্রার্থী পুতিনকে তার অধীনে কাজ করার প্রস্তাব নেন। তখন পুতিন তাকে বলেন, ‘বিশ্বাসঘাতকতার জন্যে পুরস্কৃত হওয়ার চেয়ে বিশ্বস্ততার জন্যে ফাঁসিতে ঝোলা অনেক ভালো’।

১১. ১৯৯৬ সালে পুতিন স্বপরিবারে মস্কোতে চলে যান। সেখানেই তিনি এফএসবি-এর শীর্ষে চলে যান। এফএসবি-কে বলা হয় কেজিবি’র উত্তরসূরী।

১২. অদ্ভুত হলেও সত্য যে পুতিন মস্কো পছন্দ করতেন না। তিনি বসবাসের জন্যে ইউরোপিয়ান দেশগুলোই বেশি পছন্দ করতেন।

১৩. সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট মাইনিং ইনস্টিটিউট-এ অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছেন বলে অনেকেই জানেন। কিন্তু এই ডিগ্রি তিনি গ্রহণ করেছিলেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

১৪. ১৯৯৯ সালে প্রেসিডেন্ট বোরিস ইয়েলৎসিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুতিনকে নিয়োগ দেন। বলা হয়ে থাকে, যখন পুতিনকে প্রধানমন্ত্রী বানানো হয়, তখন ইয়েলৎসিনকে কেউ-ই বিশ্বাস করতেন না।

১৫. এক সময় রহস্যময়ভাবে ইয়েলৎসিনের পতন ঘটে এবং পুতিন স্থলাভিষিক্ত হন।

১৬. প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম ভাষণে পুতিন বাক স্বাধীনতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং প্রেসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন।

১৭. প্রথম মেয়াদে পুতিন অভ্যন্তরীন বিষয়ে নজর দেন। বিশেষ করে চেচনিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ এবং ইয়েলৎসিনের শাসনামলের নানা সমস্যা মোকাবেলায় মনোযোগ ঢালেন।

১৮. পুতিন বুঝতে পারেন, ইয়েলৎসিনের অনুসারীরাই তাকে আরো শক্তিশালী করতে পারে। তাই তাদের সঙ্গে নানা চুক্তিতে যান তিনি।

১৯. চেচনিয়ার যুদ্ধে তার শক্ত অবস্থানের জন্যে ‘ম্যান অব অ্যাকশন’ হিসেকে খ্যাতি পান তিনি।

২০. ২০০৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্যে পুতিনকে বেছে নেয় জনগণ। তিনি অভ্যন্তরীন বিষয়েই নজর রাখেন।

২১. সব মিলিয়ে পুতিনকে পছন্দ করে নেন জনগণ। তার দুই মেয়াদে রাশিয়ার অর্থনীতি বিস্ময়করভাবে এগিয়ে যায়।

২২. ২০০৮ সালে দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি পুতিনকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। আবারো রাশিয়া অর্থনৈতিক মন্দার দিকে এগোতে থাকে।

২৩. একই বছরে রাশিয়া ৫ দিনের জন্যে জর্জিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। দক্ষিণ ওসেশিয়া এবং আবখাজিয়া নামের দুটো অঞ্চল স্বাধীনতা দাবি করে আসছিল। তাদের এ দাবি মেনে নেয় রাশিয়া। এতে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনায় পড়তে হয় রাশিয়াকে।

২৪. ২০১২ সালে পুতিন তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ৬৩.৬ শতাংশ ভোট তার পক্ষে পড়ে। এবার ৬  বছরের মেয়াদকাল পান তিনি।

২৫. দুই বছর পর ২০১৪ সালে মার্চে পুতিন ক্রিমিয়ার ভূ-খণ্ড বর্ধন করেন যা ছিল ওই বছরের সবচেয়ে জটিল এক সিদ্ধান্ত।

২৬. সর্বসম্প্রতি পুতিন চীনের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রয়াস চালিয়েছেন। পশ্চিমা অংশের বাইরে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাশিয়ার বড় উৎস দরকার।

২৭. এখন কেউ বলতে পারেন না, পুতিনের পরবর্তী কাজ কি হবে। ইতিমধ্যে তার চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা