বাংলাদেশ, , শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ছেলেকে ঋতুপর্ণা ‘হট সিনস দেখো, মা থাকলে দেখো না’

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-০৮ ১৬:০১:৫০  

বিনোদন ডেক্স॥
দুই বাংলার চলচ্চিত্র অঙ্গনে পরিচিত নাম ঋতুপর্ণা সেন। সম্প্রতি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘রাজকাহিনী’তে অভিনয় করে ফের আলোচনায় এসেছেন তিনি। ছবিতে রয়েছেন বাংলাদেশের নায়িকা জয়া আহসানও অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি ‘এই সময়’ পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাত্কারে ছবিটি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। পাঠকদের জন্য তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-
প্রশ্ন: ‘রাজকাহিনী’ ছবির আগে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ওপর তো আপনার রাগ ছিল!
ঋতুপর্ণা: ছিল। এদিক-ওদিক দেখা হতো। কিন্তু আমাকে তো কখনও ছবি অফার করেনি। অভিমান হবে, সেটাই তো স্বাভাবিক।
প্রশ্ন: কিন্তু সৃজিত আপনাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন… বড় কিছুর জন্য।
ঋতুপর্ণা: হিন্ট দিয়েছিল। তবে সেটা সত্যিই ঘটাবে বুঝিনি। যতক্ষণ না ঘটনাটা ঘটছে আপনি বুঝবেন কী করে? কিন্তু ‘রাজকাহিনী’ নিয়ে যখন আমার কাছে এল, আমি গলে জল হয়ে গেলাম৷ একটা তীব্র ভাললাগা অনুভব করলাম, যে সৃজিত ওর কথা রেখেছে৷ আমাকে বেগমজান অফার করেছে৷
প্রশ্ন: শুটিং ফ্লোরে সৃজিত আপনাকে সবার সামনে বারংবার বলেছেন-আপনি যে অভিনয়টা করছেন, সেটা কিচ্ছু হচ্ছে না! এরকম আরো কিছু কথা শোনা গেছে..
ঋতুপর্ণা: আমি কিন্তু প্রথমে ধরতে পারিনি, ও আমার থেকে ঠিক কী চাইছে৷ সেই সময় দাঁড়িয়ে মনে হতো, সৃজিত যেরকম বলছে, সেরকমভাবে আমায় পারতেই হবে৷ না হলে অপমানে মরে যাব! একটা কথা বলি, সৃজিতের সঙ্গে আমার যা মান-অভিমান, সব কিন্তু ‘বেগমজান’-এর জন্য৷
প্রশ্ন: চরিত্রটি তো রগরগে৷ কোঠিবাড়ির কর্ত্রী৷ চরিত্রের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন৷ মুখে অশ্লীল ভাষা…
ঋতুপর্ণা: পরিশ্রম, তীব্র পরিশ্রম করে এই বেগমজান আমি উতরেছি৷ বলতে দ্বিধা নেই সৃজিত আমায় দিয়ে করিয়ে নিয়েছে৷ কিন্তু আমার সবচেয়ে আকর্ষণীয় কোনটা লাগে জানেন? ছবি যখন দেখবেন, বুঝবেন, বেগমজান কিন্তু একটা মেটাফর৷ একটা রূপক৷ যাবতীয় রগরগে জিনিসের উর্ধ্বে সেটা যখন অনুভব করবেন, চোখে জল আসবে!
প্রশ্ন: তারপর?
ঋতুপর্ণা: সৃজিতই কিন্তু আমাকেই জড়িয়ে ধরে বলেছে, ইউ আর মাই বেগমজান৷
প্রশ্ন: পাখিপড়ার মতো করে যে ডাবিং সৃজিত মুখোপাধ্যায় আপনাকে দিয়ে করালেন, সেটা আর কেউ পারত?
ঋতুপর্ণা: আপনি দেখলেন, আমি গলা কীরকম পালটে ফেলেছি? (মুখে গর্বের হাসি) আমি তো কীরকম রাবীন্দ্রিক বলুন! ছোটবেলা থেকে নাচ করি৷ একটা অসম্ভব মেয়েলি ব্যাপার আছে আমার মধ্যে৷ ‘রাজকাহিনী’-তে সেই মেয়েলি ব্যাপারটা একেবারে ছুঁড়ে ফেলে করে দিতে হয়েছে৷ ডাবিংয়ের আগে আমি চিত্কার করতাম৷ যাতে গলা ভেঙে যায়৷ তারপর ডাবিং করতাম!
প্রশ্ন: আচ্ছা পরপর এতো ভাল ছবি করছেন, তাও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলে সার্চ দিলে কেন ‘ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত হট সিনস’ সবচেয়ে আগে আসে? আপনি নাকি ছেলেকে বলেছেন ওগুলো না দেখতে?
ঋতুপর্ণা: (খুব হেসে) আমি বলেছি, হট সিনস দেখো! তবে মা সেই হট সিনে থাকলে দেখো না!
প্রশ্ন: এই সাক্ষাত্‍কারে সৃজিতকে কি বলতে চান?
ঋতুপর্ণা: টেনশন মাস্টার, টেনশন করবেন না৷ সাক্ষাত্কারটা হয়ে গিয়েছে! (খুব হাসি) যোগ করি একটু? সৃজিতের সব ছবির জন্য আমার শুভেচ্ছা৷ আর এটা কোনো সাজানো লাইন নয়৷ একদম হূদয় ঠেলে বেরিয়ে আসা একটা লাইন৷

পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা