বাংলাদেশ, , শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সাংসদকে আসামি করে মামলা

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-০৫ ০০:০৩:০১  

আলোকতি কক্সবাজর ডক্সেঃ
গুলি করে শিশুকে আহত করার ঘটনায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সাংসদ মন্জুরুল ইসলাম ওরফে লিটনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আহত শিশুটির বাবা সাজু মিয়া গতকাল শনিবার রাতে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গতকাল রাত সোয়া নয়টার দিকে সুন্দরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিন্নাত আলী প্রথম আলোকে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাংসদ মামলার একমাত্র আসামি। বিধিবিধান অনুসরণ করে তাঁকে গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় সাংসদ তাঁর এক সমর্থকের মাধ্যমে একটি পিস্তল ও একটি শটগান সুন্দরগঞ্জ থানায় পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে সাংসদ বাসায়, না অন্য কোথাও আছেন, তা জানা যায়নি। গত শুক্রবার রাত থেকে এলাকায় সাংসদকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। গতকাল তাঁর বাড়িতে তালা ঝুলছিল। মুঠোফোনও বন্ধ।
গুলিবিদ্ধ শিশু শাহাদাত হোসেনের (সৌরভ) পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, শুক্রবার সকালে বাড়ি-সংলগ্ন সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়কে চাচা শাহজাহান আলীর সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছিল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শাহাদাত। সকাল পৌনে ছয়টার দিকে সাংসদ মন্জুরুল ওই সড়কের ব্র্যাক মোড়ে গাড়ি থামিয়ে শাহজাহানকে ডাকেন। শাহজাহান ভয়ে দৌড় দিলে সাংসদ আগ্নেয়াস্ত্র বের করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন। এতে শিশুটির ডান পায়ে দুটি ও বাঁ পায়ে একটি গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে বামনডাঙ্গা এলাকায় সাংসদের লোকজন অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেয়। পুলিশ সেখান গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়িয়ে নেয়। রংপুর মেডিকেলের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছে।
গতকাল সন্ধ্যার দিকে রংপুর মেডিকেল থেকে পুলিশি পাহারায় সুন্দরগঞ্জ থানায় যান শাহাদাতের বাবা সাজু মিয়া। রাত নয়টার দিকে তিনি সাংসদ মন্জুরুলের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। তবে মামলা করার পর তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাত আটটার দিকে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) আশরাফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মামলার আগে থানায় সাংসদ যে দুটি অস্ত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন, তা লাইসেন্স করা। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়ক-সংলগ্ন গোপালচরণ গ্রাম। এই গ্রামে একটি টিনশেডের ঘরে পরিবারের সঙ্গে থাকে শাহাদাত। ঘরটি এখন তালাবদ্ধ। কারণ, পরিবারের লোকজন এখন রংপুর মেডিকেলে। পাশের ঘরের বাসিন্দা শাহাদাতের চাচি মোছলেমা বেগম বলেন, শাহাদাতের বাবা ফেরি করে গ্রামে গ্রামে হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করেন। যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোমতে চার সদস্যের পরিবারের সংসার চলে। ধার-দেনা করে এখন ছেলেটির চিকিৎসা চলছে।
শাহাদাতের ফুফু নূর বানু বলেন, ‘এমপিরা ভোটোত হচে মানসের সেবা করার জন্যে। আর হামারঘরে এমপি ছোল পোলোক গুলি করে।’
সাংসদের গুলির ঘটনা নিয়ে পুরো গ্রামেই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এখানকার কয়েকজন গুলির ঘটনাসহ সাংসদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ জানান। শিশু শাহাদাতের গোপালচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা। শাহাদাতের এক সহপাঠী প্রথম আলোকে বলে, ‘শাহাদাত খুব শান্ত। তাকে গুলি করা হয়েছে শুনে খারাপ লাগছে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আমরা মর্মাহত।’
বিকেলে বামনডাঙ্গায় সাংসদের দোতলা বাড়ির প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা গেল। কোনো লোকজন নেই। দেখা যায়নি তাঁর নিত্য ব্যবহৃত পাজেরো গাড়িটিও। সাংসদ এবং তাঁর স্ত্রীর মুঠোফোনও বন্ধ। আশপাশের লোকজন বললেন, শুক্রবার রাত থেকে তাঁরা কেউ বাড়িতে নেই।
অস্ত্রোপচার: গতকাল সকালে রংপুর মেডিকেলে শিশু শাহাদাতের পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে। রংপুর মেডিকেলের শিশু সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক বাবলু কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, শাহাদাতের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচে একদিক থেকে গুলি লেগে আরেক দিকে বের হয়ে গেছে। ডান পায়ের হাঁটুর নিচে দুটি গুলির ক্ষত আছে। শাহাদাত এখন আশঙ্কামুক্ত। শিগগিরই সুস্থ হয়ে সে বাড়ি ফিরতে পারবে।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা