বুধবার, ২৪ Jul ২০২৪, ০১:০০ পূর্বাহ্ন

ভারতে চালু হচ্ছে পানিবিহীন শৌচাগার

ভারতে চালু হচ্ছে পানিবিহীন শৌচাগার

অনলাইন বিজ্ঞাপন

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স॥
নিজের নকশা করা বিশেষ শৌচাগারের সামনে ড. কিশোর মুন্সী- ছবিটি এনডিটিভি থেকে নেওয়া
ভারতের প্রায় ছয় কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদন অনুসারে দেশটিতে নিরাপদ শৌচাগারের ধারণাটি এখনো বিলাসিতা হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রতিবছর ভারতে ডায়ারিয়ায় সাত লাখ শিশুর মৃত্যু হয়। স্বামীর বাড়িতে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা না থাকার কারণে দেশটিতে তালাকের ঘটনাও ঘটেছে। ভারত সরকারের হিসেব মতে, দেশটিতে এখনো ১০ কোটি স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ প্রয়োজন।
এসব কারণে অস্বাস্থ্যকর পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা আর খোলা স্থানে মলত্যাগ বিশেষ করে ভারতের গ্রামাঞ্চলের এক বড় সমস্যা। মেয়েদের স্কুলে না যাওয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধের অন্যতম কারণ ভারতের শৌচাগারের সীমাবদ্ধতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন বক্তৃতায়ও বিষয়টি উঠে এসছে। এসব কারণে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার তৈরির লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পও রয়েছে বিজেপি সরকারের।
এই লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে এসেছেন দেশটির ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মুম্বাইয়ের (আইআইটিবি) এক অধ্যাপক। ড. কিশোর মুন্সী নামের ওই ব্যক্তি আইআইটিবি’র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক  ও সাবেক ডিন। তিনি আবিষ্কার করেছেন ‘ড্রাই সান হাইজেনিক রুরাল টয়লেট’ নামের এক শৌচাগারে যাতে পানির প্রয়োজন হয় না। ভারতের অনেক গ্রামাঞ্চলে পানি স্বল্পতার বিষয়টি মাথায় রেখে শৌচাগারটি পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দেশটির পানি ও পয়নিষ্কাশন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন এবং সিটেক ও আইআইটিবি’র তত্ত্বাবধানে শৌচাগারটি নকশা করা হয়েছে। ২০১১ সালে এক কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১৪ সালের শেষের দিকে। শৌচাগারটির বিশেষত্ব হলো, এটি ব্যবহারে পানির দরকার হয় না এবং তা মানুষের মলকে  সারে পরিণত করে। মলের এই সারে রূপান্তর প্রক্রিয়াটি হয় সম্পূর্ণ অরাসায়নিক ও প্রাকৃতিক উপায়ে। তাছাড়া প্রথাগত শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস উদগিরণের সম্ভাবনাও নেই এতে।
এ বিষয়ে ড. মুন্সী বলেন, ‘প্রথাগত পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থায় অনেক পানি ব্যবহার করতে হয়। নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় অনেক খরচ করার পরও পরিষ্কার ও নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা দিতে পারে না এসব শৌচাগার। কোনো কারণে পদ্ধতিটি ব্যর্থ হলে তা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের গ্রাম ও আধা-শহুরে অঞ্চলগুলোতে এধরনের ঘটনা হরহামেশাই হয়ে থাকে। অথচ পাঁচ জনের একটি পরিবার ড্রাই সান হাইজেনিক রুরাল টয়লেট আট থেকে দশ বছর ব্যবহারের পর একবার খুলে পরিষ্কার করলেই চলে। ততদিনে অবশ্য বিশেষ ওই শৌচাগারে  থাকা মল সারে পরিণত হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথাগত শৌচাগারগুলোতে সাধারণত সিরামিকের টাইলস ব্যবহার করা হয়; এক সময় সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিপরতীতে আমাদের নকশা করা শৌচাগারে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয় যা খুব সহজেই রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়।’ তাদের নকশা করা একটি ড্রাই সান শৌচাগার নির্মাণে সবমিলে ৭০ হাজার রূপির মোত খরচ হতে পারে বলেও জানান ড. মুন্সী। সূত্র: এনডিটিভি


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Desing & Developed BY MONTAKIM