বাংলাদেশ, , বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

কর্ণফুলী টানেলের কাজ পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্ব পাবে’

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-০৩ ১৮:৫১:৫৩  

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স॥
চলতি বছরের ডিসেম্বরে বহুল প্রতিক্ষিত কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি জানান, চার বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। অর্থাৎ আগামী ২০২০ সালের মধ্যে নিমার্ণ কাজ শেষ হবে। ডিপিপি অনুমোদনের বিষয়টি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে চলমান আছে। নভেম্বরের শেষ দিকে চীনের রাষ্ট্রপতী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে এই প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন।

শনিবার দুপুরে নৌ-বাহিনীর ঈসা খাঁ ঘাটির ট্রেনিং ব্লকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।

এরআগে যোগাযোগ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বহুলেন বিশিষ্ট টানেল নির্মাণ’ প্রকল্প রিপোর্ট শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

টানেল নিমার্ণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে টানেল নিমার্ণ কাজ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানী লিমিটেড(সিসিসিসি) সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এরমধ্যে সাড়ে ৫ হাজার কোটি চীন সরকার অর্থায়ন করবে। বাকি টাকা বাংলাদেশ সরকার দিবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ২০২০ সাল ধরা হলেও ২০১৯ সালের মধ্যেও শেষ হতে পারে বলে আশা করছেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, চীনের যে প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে তারা অনেক প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ করেছেন এমন নজির আছে।

‘তবে ২০২০ সালে শেষ হলেও আমরা খুশি থাকবো। কারণ এদেশে টাইম দিয়ে টাইম রাখে না অনেকে। সেদিক থেকে টাইমটা ঠিক থাকলে সেটাও ঠিক আছে।’

কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্ব দেওয়া হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রী অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব কমাতে পায়রা বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের এক আওয়ামী লীগ নেতাও এমন অভিযোগ করেছেন। না জেনে কোন মন্তব্য করা উচিত নয়।

কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সবার আগে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব। তার মানে এই না যে আমাদের একটা বন্দর দিয়ে চলবে। আমাদের আরো বন্দর দরকার।সিঙ্গাপুরের মতো ছোট্ট একটা দেশে কয়টা বন্দর সেটা আপনারা সবাই জানেন।

মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম শহরে নিরবিচ্ছিন্ন ও যুযোগপযোগী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীর ঘেষে গড়ে ওঠা শহরের সঙ্গে ডাইন টাউনকে যুক্ত করা, চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিত এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার’র মধ্যে নতুন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করা হয়।

৩ হাজার ৪০০ মিটার দৈর্ঘে্যর এই টানেল বিমানবন্দর থেকে কর্ণফুলী নদীর দুই কিলোমিটার ভাটির দিকে নেভাল একাডেমির কাছে প্রবেশ এবং সিইউএফএল’র কাছে বাহির পথ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর টানেল নির্মাণে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানী লিমিটে ‘র(সিসিসিসি) সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হয়।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি কমার্শিয়াল প্রস্তাব দেয় সিসিসিসি। প্রস্তাবের কারিগরি দিক পরীক্ষা ও সিসিসিসি’র সঙ্গে নেগোসিয়েশনের জন্য দুইজন বিদেশি ও একজন দেশি পরামর্শক নিয়োগ করা হয়। চলতি বছরের ২৪ জুন সরকারি অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা (একনেক) সিসিসিসি’র সঙ্গে ৭০৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি অনুমোদন করে। এরপর ৩০ জুন কমার্শিয়াল চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে জিউলজিক সার্ভে ও সাব সয়েল ইনভেসটিগেশনের কাজ শুরু করেছে বলে জানান মন্ত্রী।

এদিকে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সহ্য করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এসময় উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সপারকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা বিষয়টি দেখবেন। নির্ধারিত ভাড়া অতিরিক্ত যেন আদায় করতে না পারে। গাড়িতে ভাড়ার তালিকা টানাতে হবে।

আগামী তিন দিনের মধ্যে হিউম্যান হলারের ভাড়া নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, থ্রি হুইলার মহাসড়কে চলতে পারবে না। এটা আদালতের নির্দেশ। বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা