বাংলাদেশ, , বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

স্থগিত অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর-বাংলাদেশের সমব্যথী স্মিথ–ক্লার্ক

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-১০-০৩ ০৯:২৩:০৪  

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স॥

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন আগেও। কিন্তু সেটা মাইকেল ক্লার্কের অনুপস্থিতিতে, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে। বাংলাদেশ সফরই হওয়ার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণকালীন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে স্টিভেন স্মিথের প্রথম সিরিজ। আর সেই সফরটাই কিনা স্থগিত হয়ে গেল! নিরাপত্তার কারণে সিরিজ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় তাই বাংলাদেশের সঙ্গে স্মিথও হতাশ। বাংলাদেশের প্রতি সমব্যথী অস্ট্রেলিয়ার তরুণ অধিনায়ক। একই রকম সমব্যথী সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কও। অ্যাশেজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলা ক্লার্ক আশা করছেন, অচিরেই দুই দেশের বোর্ড সিরিজের জন্য একটা নতুন সূচি ঠিক করবে।
ক্লার্কের অবসরের পর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব পাওয়া স্মিথের প্রথম পরীক্ষা ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ। সেই চ্যালেঞ্জ নিতে উদ্গ্রীব অপেক্ষায় ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কও। কিন্তু ‘সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি’র কারণে আপাতত বাংলাদেশে সফর না করার সিদ্ধান্ত নেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে স্মিথের শুরুটাও তাই পিছিয়ে গেল। তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জটা নিতে যে উন্মুখ ছিলেন সেটা স্পষ্ট করেই বলেছেন স্মিথ, ‘এ সফরটা খুব ভালো একটি সুযোগ ছিল আমাদের জন্য। নতুন সব খেলোয়াড় এবং প্রায় নতুন এক দল নিয়ে সফরে যাওয়ার কথা ছিল আমাদের। আমরা সবাই খেলার জন্য উন্মুখ ছিলাম।’
তবে হতাশ হলেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তকেও যৌক্তিক বলছেন স্মিথ, ‘অবশ্যই খেলোয়াড়দের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের ব্যাপার। এক সপ্তাহ ধরে ডিএফএটি এবং এএসআইওর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া উপসংহারে পৌঁছায়, এই সময়ে আমাদের জন্য বাংলাদেশ সফর নিরাপদ নয়।’
সিরিজ স্থগিত হওয়ায় খেলা দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক। তাঁদের অনুভূতিটাও বুঝতে পারছেন স্মিথ। খুব দ্রুতই তাই এই সিরিজটি মাঠে গড়াবে বলে আশাবাদী অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক, ‘বাংলাদেশের সকল ক্রিকেটপ্রেমীর জন্য ব্যাপারটি হতাশাজনক। আমিও তাঁদের সমব্যথী। তাঁরা সবাই বাংলাদেশে আমাদের খেলতে দেখতে চেয়েছিল। আশা করছি শিগগিরই আমরা সেখানে গিয়ে খেলতে পারব।’
শুধু স্মিথ নন, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সহমর্মিতা সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের কণ্ঠেও। কাল টুইটারে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ক্লার্ক বলেছেন, ‘আমিও বাংলাদেশের দর্শকদের সমব্যথী। বিশেষ করে যাঁরা নিজের টাকা খরচ করে দুটি দুর্দান্ত টেস্ট দেখার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। আমি জানি, বাংলাদেশের মতো অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়েরাও হতাশ। আমার ক্যারিয়ারে আমরা সব সময় উপমহাদেশ সফরের জন্য আগ্রহভরে অপেক্ষা করতাম, সেটা বাংলাদেশ হোক, কিংবা ভারত অথবা শ্রীলঙ্কা। ক্রিকেট খেলার জন্য দারুণ পরিবেশ সেখানে।’
আর সে কারণেই ক্লার্ক আশাবাদী, ‘আশা করছি সিরিজটা শুধু স্থগিত হলো, বাতিল নয়। দুই দেশের বোর্ড অচিরেই সুবিধামতো নতুন সূচি বের করবে।’
বাংলাদেশ সফর স্থগিত ঘোষণার পর টেস্ট ক্রিকেটারদের রাজ্য দলে ফেরত পাঠিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। যাঁর যাঁর দলের হয়ে আগামী পরশু থেকে শুরু হতে যাওয়া ম্যাটাডোর বিবিকিউ ওয়ানডে কাপে খেলবেন তাঁরা। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ভাবনাজুড়ে এখন আগামী মাসে প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। ইতিহাসের প্রথম দিবারাত্রির টেস্ট হবে এই সিরিজে। ঘরোয়া ক্রিকেটের মাধ্যমে সেই সিরিজের জন্যই প্রস্তুতি নিতে চান স্মিথ, ‘আমরা গ্যাবায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য সব প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাই। দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি সাগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ এএফপি।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা