বাংলাদেশ, , শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সৌদিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান এক রাজপুত্রের, নিহতদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-৩০ ১৭:৫০:৫০  

আর্ন্তজাতিক ডেক্স॥

সৌদি আরবের মিনায় গত বৃহস্পতিবার পদপিষ্ট হয়ে নিহত ৭৬৯ জন হাজির মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন ২৬ জন। পবিত্র মক্কা নগরীর কেন্দ্রীয় লাশ সংরক্ষণাগারে এই বাংলাদেশিদের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নাম-পরিচয় জানা গেছে ১৩ জনের। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সর্বশেষ পাওয়া খবরের বরাত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। খবর বাসস ও ইউএনবির।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে ১৩ জন হাজির মরদেহ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তা শনাক্তে সহায়তা করার জন্য মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনের সঙ্গে (কক্ষ নম্বর ১০৭, টেলিফোন ০০৯৬৬-(০) ১২৫৪১৩৯৮০, ই-মেইল: (missionhajj@gmail.com) এই ঠিকানায় যোগাযোগের জন্য নিখোঁজ হাজিদের সফরসঙ্গী, আত্মীয়স্বজন ও হজ এজেন্টদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ মিনা দুর্ঘটনায় হতাহত হাজিদের সবার মরদেহের ছবি এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি। তবে নিহত হাজিদের শনাক্ত করতে সবার ছবি ও বিস্তারিত তথ্য খুব শিগগির প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে। বাংলাদেশি হাজিদের হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি হাজিদের সবার মরদেহ শনাক্তে এবং মক্কা ও জেদ্দায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত হাজিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনের কর্মকর্তা, হজবিষয়ক মেডিকেল ও প্রশাসনিক টিমের সঙ্গে কাজ করছেন জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া মিনা দুর্ঘটনায় আহত ৩৩ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাওয়া তথ্যমতে, মিনার দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হাজি মারা গেছেন ইরানের। দেশটির অন্তত ২২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মরক্কোর ৮৭ জন, মিসরের ৭৮, নাইজেরিয়ার ৬৪, ভারতের ৪৬, ইন্দোনেশিয়ার ৪৬, পাকিস্তানের ৪৪, মালির ৩০, নাইজারের ২২ ও ক্যামেরুনের ২১ জন হাজির মৃত্যু হয়েছে।
নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান: সৌদি আরবে ক্ষমতার পালাবদল ঘটানোর নজিরবিহীন এক আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির রাজপরিবারের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য।
সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে সৌদি আরবের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়া, তেলের দাম পড়ে যাওয়া এবং এবারের হজ ট্র্যাজেডি নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এ আহ্বান জানান ওই সদস্য। গত সোমবার প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানায়।
সৌদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ ইবনে সউদের অন্যতম নাতি ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই রাজপুত্র পত্রিকাটির কাছে দাবি করেন, সৌদি বাদশাহ সালমানের নেতৃত্ব নিয়ে রাজপরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যেও দেখা দিয়েছে এ উদ্বেগ। গত জানুয়ারিতে সিংহাসনে আরোহণ করেন বাদশাহ সালমান।
এই রাজপুত্র এ মাসেরই শুরুর দিকে বাদশাহ সালমানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দুটি চিঠিও লেখেন। গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, ‘বাদশাহ স্থিতিশীল অবস্থায় নেই। প্রকৃত অর্থে দেশ চালাচ্ছেন তাঁর ছেলে (মোহাম্মদ বিন সালমান)। তাই আমার চার বা খুব সম্ভব পাঁচ চাচা এসব চিঠি নিয়ে আলোচনায় বসবেন। তাঁরা এ নিয়ে কয়েকজন ভ্রাতুষ্পুত্রের সঙ্গেও আলোচনার পরিকল্পনা করছেন। এর মধ্য দিয়ে দরজা খুলবে। (বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে) দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকেই খুব চিন্তিত।’
রাজপুত্র আরও বলেন, ‘(নেতৃত্ব পরিবর্তনে) জনগণও প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছেন, বিশেষত উপজাতীয় নেতারা। তাঁরা বলছেন, এটা করতে হবে, নইলে দেশ বিপর্যয়ে পড়বে।’
দ্য গার্ডিয়ান-এর খবরে বলা হয়, বিভিন্ন বিষয়ে বাদশাহ সালমান, তাঁর উত্তরসূরি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ ও পরবর্তী উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। ইতিমধ্যে পবিত্র মক্কাকে ঘিরে পরপর দুটি ট্র্যাজেডি—ক্রেন ভেঙে শতাধিক মুসল্লি ও পদপিষ্ট হয়ে সাত শতাধিক হাজির মৃত্যুর ঘটনায় কেবল সামাজিক ইস্যুতেই প্রশ্ন ওঠেনি; বরং ইসলামের পবিত্রতম স্থানের দেখভালে রাজপরিবারের দায়দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মিনায় নিহত হাজিদের সংখ্যা
ইরান ২২৬
মরক্কো ৮৭
মিসর ৭৮
নাইজেরিয়া ৬৪
ভারত ৪৬
ইন্দোনেশিয়া ৪৬
পাকিস্তান ৪৪
মালি ৩০
নাইজার ২২
ক্যামেরুন ২১


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা