বাংলাদেশ, , রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২

অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিসিবি

আলোকিত কক্সবাজার ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৫-০৯-৩০ ১৭:১৬:২৪  

স্পোর্টস ডেক্স॥

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে দিনভর কৌতূহল। কোনো খবর কি এল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) থেকে? সফরটি তারা বাতিলই করে দেয়নি তো? নাকি বাংলাদেশের দেওয়া সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থায় আশ্বস্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত দল পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া!
উত্তর মেলেনি কোনো প্রশ্নেরই। বরং কাল সন্ধ্যায় গুলশানে নিজের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত পেতে সময় লাগতে পারে আরও দু-এক দিন। বাংলাদেশে ঘুরে যাওয়া নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দলের গতকাল অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর কথা। দেশে ফিরে তারা কথা বলবে সিএ, ক্রিকেটার ও সরকারের সঙ্গে। বোর্ড সভাপতি বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত তারা (সিএ) এ রকম কিছু বলেনি যে সফরে আসবে না। আমরা অপেক্ষা করছি। আজ (গতকাল) ওনাদের পৌঁছানোর কথা। এরপর দুই দিনের মতো সময় লাগতে পারে রিপোর্ট উপস্থাপন করতে। উত্তর জানার পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব।’
নাজমুল হাসানের বিশ্বাস, সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়া ইতিবাচক সিদ্ধান্তই নেবে। আর তা না হলে সেটি হবে দুঃখজনক, ‘দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা যাঁরা দেখেন…স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ, ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা—সবার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকেরা মাত্র দেড় দিনের মধ্যে দেখা করেছেন। প্রত্যেকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন, এখানে কোনো গন্ডগোল হবে না। প্রায় চার স্তরের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি তারা না আসে, আমি মনে করি সেটা নিরাপত্তার জন্য নয়।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাতেই অস্ট্রেলিয়া দলকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ না থাকলে দেড় দিনের মধ্যে সবাই মিলে, সব ফেলে শুধু তাদের নিয়ে সভা করত না। তাদের যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, এটা পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টাতে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। তারপরও যদি তারা না আসে, সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।’
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘তখন এর চেয়েও খারাপ অবস্থায় ছিলাম আমরা। অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য তখন আমরা ছিলাম তিনে (ভ্রমণের ক্ষেত্রে ঝুঁকির স্তর), এখন দুইয়ে। তখনো তো আমরা খেলেছি! আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখে সবাই আসতে রাজি হয়েছিল। এখন আমরা তারচেয়েও ভালো নিরাপত্তা পরিকল্পনা দিচ্ছি।’ এটাকে নাজমুল হাসান বলছেন ক্রিকেট বিশ্বের মধ্যেই সর্বোচ্চ, ‘এটা সর্বোচ্চ। কোনো দেশে কোনো দলকে এর আগে এ ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি। এরপর আর বাংলাদেশে না আসার কোনো কারণ থাকতে পারে না।’
যে তথ্যের ভিত্তিতে হঠাৎ সফর স্থগিত করে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল পাঠাল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, সেটিকেও ক্রিকেটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন তিনি, ‘বাংলাদেশে যাঁরা অস্ট্রেলিয়ান আছেন, প্রতিবছর অক্টোবরে তাঁরা কোনো একটা হোটেলে ব্যক্তিগত পর্যায়ের একটা অনুষ্ঠান করেন, যা আনুষ্ঠানিক কিছু নয়। ওখানে গন্ডগোল হতে পারে, এ রকম তথ্যের ভিত্তিতেই নিরাপত্তা দল পাঠানো হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলা নিয়ে কোনো গোলমাল হতে পারে।’
এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর নিয়ে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনেরও প্রসঙ্গ টানেন তিনি। পরশু এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। এমনকি ওই দিনই সন্ধ্যায় গুলশানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক ইতালিয়ান নাগরিকের নিহত হওয়ার ঘটনাকেও সভাপতি রাখছেন ক্রিকেটের বাইরে, ‘সন্ধ্যার পর যেকোনো দেশেই নির্জন জায়গায় যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এর সঙ্গে নিরাপত্তার মধ্যে থাকা একটা দলের তুলনা হয় না।’ তবে তিনি স্বীকার করেছেন, ওই ঘটনার পর অন্যান্য দেশ থেকেও তাদের নাগরিকদের উদ্দেশে জারি করা সতর্ক বার্তা বাড়তি শঙ্কায় ফেলে থাকতে পারে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
                                       
ফেইসবুকে আমরা