শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

৫ বছরে ২০ পর্যটকের মৃত্যু: দুর্ঘটনা রোধে ১০নির্দেশনা

জসিম উদ্দিন:
  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বিধিনিষেধ না মেনে সাগরে নামার কারণে সৈকত কেন্দ্রিক প্রাণহানি কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। গত ৫ বছরে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে মৃত্যু হয়েছে ২০ পর্যটকের। একই সময়ে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৫৪ জনকে।

সাঁতার জানা না থাকার পরেও সৈকতের পানিতে নেমে হাঁটু পানির সীমা অতিক্রম করে গভীরে যাওয়া, সৈকতে লাগানো লাল এবং লাল-হলুদ পতাকার সংকেত না বোঝা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

এসব দুর্ঘটনার কারণ চিহৃত করে এবার দুর্ঘটনা রোধে সৈকত নামার আগে লাইফ জ্যাকেট পরাসহ নতুন করে ১০ নির্দেশনা দিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

নির্দেশনা গুলো হলো- সাঁতার না জানলে সমুদ্রের পানিতে নামার সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করতে হবে, লাল পতাকা চিহ্নিত করা পয়েন্টে কোনোভাবে নামা যাবে না, সৈকত এলাকায় সর্বদা লাইফগার্ডের নির্দেশনা মানতে হবে, বিকেল ৫টার পর সমুদ্রে নামা যাবে না, সমুদ্রে নামার আগে জোয়ার-ভাটাসহ আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা জেনে নিতে হবে, লাইফগার্ড নির্দেশিত নির্ধারিত স্থান অন্য কোনো পয়েন্ট থেকে সমুদ্রে নামা যাবে না।

 

এ ছাড়াও সমুদ্রে যেকোনো মুহূর্তে তীব্র স্রোত এবং গুপ্ত গর্ত সৃষ্টি হতে পারে, তাই ভাসমান বস্তু পানিতে নামার আগে বাতাসের গতি সম্পর্কে জেনে নিতে হবে শিশুদের সৈকতে সব সময় সঙ্গে রাখতে হবে,এবং একা সমুদ্রে নামতে দেওয়া যাবে না, এবং অসুস্থ অথবা দুর্বল শরীর নিয়ে সমুদ্রে হাঁটু পানির বেশি নাম যাবে না।

এ ছাড়াও সৈকতের গুপ্ত গর্ত ও গণস্রোতপ্রবণ এলাকা চিহৃত করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে সমুদ্র স্নানে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন দুই শিফটে মাত্র ২৭ জন কর্মী। হাজার হাজার পর্যটকের সমুদ্র স্নানে নিরাপত্তায় লাইফ গার্ড কর্মীর যেমন রয়েছে স্বল্পতা পাশাপাশি উদ্ধার সরঞ্জামাদির সংকট রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার সী সেইফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, কর্মী ও উদ্ধার সরঞ্জামাদির সীমাবদ্ধ পাশাপাশি লাল পতাকা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই কিন্তুু নির্দেশনা না মেনে গোসল করতে নামছে। এক্ষেত্রে পর্যটকদেরও অনেক বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। না হলে দুর্ঘটনা ঘটনা রোধ করা কঠিন।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানা যায়, বিধিনিষেধ অমান্য করে সৈকতে পানিতে স্নানে নামার কারনে গত ৫ বছরে অন্তত মৃত্যু হয়েছে ২০ পর্যটকের। একই সময়ে সমুদ্র থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৩৫৪ জনকে।

এদিকে সৈকতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১০ নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। পানিতে নামার আগে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতামূলক ১০দিন ব্যাপী এ ক্যাম্পেইনের উদ্ধোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহিদ ইকবাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানব সম্পদ) নাসিম আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিভীষণ কান্তি দাশ, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মুরাদ ইসলামসহ ট্যুর অপারেটর, ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তারা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো:মামুনুর রশিদ বলেন, সৈকত কেন্দ্রিক দুর্ঘটনা রোধে ১০টি নির্দেশনার পাশাপাশি সৈকতে আগত পর্যটক মাঝে সচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১০ দিনব্যাপী ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন চায় না সৈকতে আর কোন দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটুক। এ কারনে যেসব পর্যটকরা এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সৈকতে নামবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ডিসি।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102