শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

স্বরূপে ফিরছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

করোনার সংক্রমণ রোধে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর গত ১৯ আগস্ট পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের সমস্ত পর্যটন কেন্দ্র। শর্তসাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয় কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁগুলি।

পর্যটন কেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেওয়ার সপ্তাহের মধ্যে বিপুল সংখ্যক পর্যটকদের আগমনে কক্সবাজারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব পর্যটকরা এসেছে।
এতে ফিরে এসেছে কক্সবাজারের চিরচেনা রূপ। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত।

সংশ্লিষ্টরা বলছে,প্রথম দিকে পর্যটকদের আগমন একটু কম হলেও এখন প্রতিদিন কক্সবাজারে পর্যটক বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার ছুটির দিনে কক্সবাজারে লক্ষাধিকের বেশি পর্যটকদের আগমন ঘটেছে। শনিবার পর্যন্ত বুকিং হয়েগেছে কক্সবাজার বেশির ভাগ হোটেল – মোটেলের কক্ষ। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০% শতাংশ কক্ষ বুকিং দেয়া যাবে।

জেলা প্রশাসন ও টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সৈকতে আসা পর্যটকদের মাস্ক পড়া নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

সৈকতে বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখাগেছে, পর্যটকরা সৈকতে আনন্দ হৈ-হুল্লোড় করে সময় পার করছে। সমুদ্রস্নান, বালিয়াড়িতে দৌড়ঝাঁপ, সূর্যাস্ত দেখাসহ আনন্দমুখর সময় পার করছেন তারা। সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলী ও কবিতা চত্বরে আনুমানিক লক্ষাধিক পর্যটকদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
শুক্রবার বিকেলে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে এ দৃশ্য দেখাগেছে।

পর্যটক জানান, করোনা একেবারে আর শেষ হবে না। এর সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত হতে হবে। মন ভালো রাখতে গেলে বিনোদন প্রয়োজন। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন।

সিলেট থেকে বিয়ের পর হানিমুনে কক্সবাজারে এসেছেন ফয়সাল আহমেদ ও তার স্ত্রী নাহিদা আক্তার। তারা জানান, করোনার কারনে ভয় পেয়ে কক্সবাজারে আসলেইও এখানে বিপুলসংখ্যক পর্যটক দেখে তাদের ভয়টা কিছু কেটে গেছে। তারা আগামী সোমবার পর্যন্ত কক্সবাজারে অবস্থান করবেন এবং জেলার সমস্ত পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখবেন বলে জানান।

রাজধানী ঢাকার মিরপুর ৩ থেকে স্বপরিবারে আসা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী শামসুল আলম বলেন, করোনাকালে দীর্ঘদিন ধরে কোথাও ভ্রমণে যাওয়া হয়নি। করোনা সংক্রমণ কমে আসায় স্বপরিবারে কক্সবাজারে এসেছি।মনে হচ্ছে অনেক দিন পর বিশুদ্ধ ও উন্মুক্ত বাতাসের স্বাদ গ্রহণ করছি। পরিবারের সবাই একই কথা বলছে।

একইভাবে সৈকতের পাড়ের বার্মিজ মার্কেট ও ঝিনুকের দোকান গুলোতেও পর্যটকদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।

হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউজ, কটেজ, রেস্তোরাঁ মালিকদের সাতটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায়,পর্যটকদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা বান্দরবান চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা, ও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলা থেকে পর্যটকরা কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছে। এ কারনে সৈকতে পর্যটকদের উপস্থিতি একটু বেশি দেখা গেছে।

তিনি আরো বলেন,পর্যটকদের জন্য হোটেল ভাড়ার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দেয়া হচ্ছে।এখন পর্যটকরা কক্সবাজারে আসলে অল্প খরচের মধ্যে ভ্রমণ সম্পন্ন করতে পারবে।পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী মাস থেকে পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় প্রশাসনের দেওয়া সব শর্তই কঠোরভাবে মানা হচ্ছে বলে দাবি করেন আবুল কাশেম সিকদার।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের (এসপি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসন ও আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে সচেতন করা হচ্ছে।

শুক্রবার ছুটির দিনের বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনের কারনে বাড়তি পুলিশ সদস্যরা পর্যটন এলাকার সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, মাস্ক ছাড়া কোন পর্যটক কে সৈকতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম সৈকতের টহল দিচ্ছে।একইভাবে হোটেল মোটেল ও রেস্তোরাঁ গুলোতে নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান ডিসি।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102