শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

সিনহা হত্যার এক বছর : শাস্তি নির্ভর করবে স্বাক্ষীদের উপর

ওয়াহিদ রুবেল/বাপ্পী শর্মা;
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১
  • ২০৫ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি।

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফ বাহারছড়া শামলাপুর মেরিন ড্রাইভ সড়কে এপিবিএন চেক পোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এ হত্যাকান্ডের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শামলাপুর বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সাবেক এ সেনা কর্মকর্ত।

এ ঘটনায় টেকনাফ থানা পুলিশের তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ক্রসফায়ারের ঘটনা উল্লেখ করে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সিনহা হত্যাকান্ড দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিনের মাথায় ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকতকে প্রধান আসামী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ দুই নাম্বার আাসমী করে মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর : এসটি-৪৯৩/২০২১, জিআর মামলা নম্বর : ৭০৩/২০২০ ও টেকনাফ মডেল থানা মামলা নম্বর : ৯/২০২০।

বিজ্ঞ আদাল মামলাটি তদন্তের জন্য র‌্যাব-১৫কে নির্দেশ দেন।

ফাইল ছবি।

মামলা দায়েরের একদিন পর ২০২০ সালের ৬ আগস্ট ৬ আসামী আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যান। ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করে আদালতে আনা হয়। ঔদিনই ৭ জন আসামী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে মামলার তদন্তভার পেয়ে র‌্যাব শুরুতে গ্রেফতার করেন ঘটনার দিন চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা এপিবিএনের সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ এবং পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিনকে।

মামলার মোট ১৫ আসামীদের মধ্যে ওসি প্রদীপ এবং কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া অন্যসব আসামীরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

চার মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দেন তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। তদন্তে ৮৩ জনকে সাক্ষীর জবানবন্দি নেয়া হয়েছে।

ফাইল ছবি।

মামলায় অভিযুক্ত ও কারাগারে আটক থাকা ১৫ আসামি হলেন-বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

এদিকে গত ২৭ জুন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল ফৌজদারী দন্ডবিধির ৩০২/২০১/১০৯/ ১১৪/১২০-খ/ ৩৪ ধারায় সকল আসামীর উপস্থিতিতে মামলাটির চার্জ গঠন করে ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই একটানা ৩ দিন বাদীসহ ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনের দিন ধার্য্য করে আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে হাইকোর্টের নির্দেশে সারাদেশের মতো কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পূর্ব নির্ধারিত ধার্য্য দিনে সাক্ষ্য গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

২৬ জুলাই রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট ফরিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফলে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে যাচ্ছে।

ফাইল ছবি।

সিনহা হত্যা মামলার বাদী পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী এডঃ মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, মেজর সিনহা হত্যাকান্ডটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগ পত্রেও এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে উল্লেখ করেছেন।

মামলাটি বর্তমানে সাক্ষীর পর্যায়ে বিচারাধীন আছে। মামলার চুড়ান্ত রায় কি হবে তা নির্ভর করছে স্বাক্ষীদের জবানবন্দির উপর। সাক্ষীরা যদি ঠিকমত ঘটনার বিবরণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেন তাহলে আসামীদের বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি হতে পারে। আমি মনে করি পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক পিপি এডঃ নুরুল মোস্তফা মানিক বলেন, এ মামলার অভিযোগপত্রে মোট ১৫ আসামীর মধ্যে ১৩ জন আসামী ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মতে আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দিয়েছে। এই মামলার প্রত্যক্ষদর্শীরাও গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষী।

আদালতে প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষীরা যথাযথ স্বাক্ষী দিতে পারলে এবং আসামীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করলে আসামীদের নিশ্চি শাস্তি হবে।

পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলার তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় আদালত কতৃক খারিজ হয়েছে, সেহেতু মামলা দুটি সিনহা হত্যা মামলায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কোন সুযোগ নেই বলে মনে করেন এ দুই আইনজীবী।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102