সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

শামলাপুর নৌকার ঘাট থেকে লিয়াকতের মাসে আয় ছিল ৩০ লাখ টাকা !

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৭১ বার পড়া হয়েছে

এবার মেজর সিনহা হত্যা মামলার প্রধান আসামী লিয়াকতের বিরুদ্ধে মুখ খোলতে শুরু করেছেন কক্সবাজারের টেকনাফ বাহারছাড় ইউনিয়নের ১৬ টি ঘাটের জেলেরা। এসব ঘাটের সহস্রাধিক নৌকার মালিকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকা আদায় করা হতো। টাকা না দিলে ধরে নিয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানের ভয় দেখাতেন লিয়াকত।

জেলেদের দেয়া তথ্য মতে, শামলাপুর উত্তর-দক্ষিণ দুইটি নৌকার ঘাট ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ শীলখালি, চৌকিদার পাড়া, হলবনিয়া, জাহাজপুরা, হাজামপাড়া, বড়ডেইল, নোয়াখালী পাড়াসহ প্রায় ১৬ টি নৌকার ঘাট রয়েছে। এসব ঘাটে প্রায় সহ¯্রাধিক মাছ ধরার ফিশিং বোট রয়েছে। শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আইসি হিসেবে যোগ দেয়ার পর হতে এসব ঘাটে নৌকার মালিক থেকে টাকা উত্তোলন শুরু করেন আইসি লিয়াকত। নৌকায় মাছ ধরা পড়ুক বা না পড়ুক সাগরে গেলেই প্রতিটি নৌকার মালিককে ১’শত টাকা দিতে হতো তাকে। এমন কি টাকা দিতে অস্বীকার করলে ধরে নিয়ে ফাঁড়িতে আটকে রাখতেন। পরে ইয়াবার ভয় দেখিয়ে লাখ টাকাও আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া শামলাপুরের ২০/২৫ টি মাছের আড়ত থেকে বিনা মূল্যে মাছ নিয়ে যেতেন। কোন আড়তদার মাছ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ভাগ্যে নেমে আসতো অত্যচার। পাশাপাশি আড়তের সব মাছ রাস্তায় ফেলে দিতেন লিয়াকত। অসাধু এ কর্মকর্তার অত্যচারের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারেন নি।
আড়তদাররা জানিয়েছেন, পুলিশ ফাঁড়ির ক্যাশিয়ার নামে পরিচিত আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব মাছ নিতেন। পুলিশ মেসের জন্য প্রয়োজনীয় মাছ বরাদ্ধ রেখে অতিরিক্ত মাছগুলো বাজারে বিক্রি করে দিতেন ক্যাশিয়ার মামুন।

দক্ষিণ শীলখালি নৌকা ঘাটের সভাপতি সিকদার আলীর পুত্র নুরুল ইসলাম বলেন, আমার ঘাটে নৌকা রয়েছে ৪০টির মতো। সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকা অবস্থায় ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছিলো। এছাড়া প্রতিমাসে প্রতিটি নৌকার জন্য ১০০ টাকা করে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য দিতে হতো। আর এসব টাকার জন্য মামুন নামে এক কনস্টেবল আসতেন।

শামলাপুর উত্তর ঘাট নৌকা সমিতির সভাপতি ছৈয়দুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনের টাকা ছাড়াও মাছ ধরা বন্ধের সময় একটি নৌকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন লিয়াকত। তার ইচ্ছের বাইরে কোন নৌকা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারতো না। কারণে অকারণে লোকজনকে ধরে নিয়ে ফাঁড়িতে আটক রাখতেন তিনি। পরে চাহিদা মতো টাকা আদায় করতেন।

লিয়াকতের মতো একজন অফিসারদের কারণে পুলিশ বাহিনী আজ প্রশ্নবিদ্ধ। অত্যচারে এতদিন আমরা কোন কথা বলতে পারিনি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারেনি। আজ আমাদের মনের প্রার্থণা আল্লাহ শোনেছেন বলে তার শাস্তি হচ্ছে।

অপর একটি ঘাটের সভাপতি বেলাল উদ্দিন জানান, মাছ ধরা বন্ধের সময় যেসব নৌকা সাগরে গেছেন তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে বলে শুনেছি। এছাড়াও মাঝে মাঝে মেসের জন্য মাছ আর চাল সহযোগিতা চাইতেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই টেকনাফ বাহারছড়া শামলাপুর মেরিন ড্রাইভ সড়কে তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অব: মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। যেখানে শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক আইসি লিয়াকতকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। ২ নং আসামী করা হয়েছে টেকনাফের সাবেক আলোচিত ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102