রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ০১:৩৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করলে নাগরিক অধিকার পাবে মিয়ানমার প্রবাসি সরকারের নীতি

ডেস্ক নিউজ:
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ৫ জুন, ২০২১
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমারে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন, পরিমার্জন বা বাতিলের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিয়ানমারের ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ (প্রবাসী সরকার)। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মিয়ানমারে অং সান সু চির সরকারকে সামরিক বাহিনী উত্খাত করার পর গত ১৬ এপ্রিল প্রবাসে ওই সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারে স্টেট কাউন্সেলর হিসেবে আছেন অং সান সু চি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন উইন মিন্ট। তাঁরা দুজনেই এখন মিয়ানমারে বন্দি, কিন্তু তাঁদের নেতৃত্বে প্রবাসে সরকার পরিচালিত হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের ওই ‘প্রবাসী সরকার’ তার ‘রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের বিষয়ে নীতি’ প্রকাশ করে। ওই নীতিতে বলা হয়েছে, তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ সমাধান করবে। রাষ্ট্রের সব নৃগোষ্ঠী পূর্ণ অধিকার পাবে। মিয়ানমার রাষ্ট্রের প্রতি যারা আনুগত্য স্বীকার করবে তারা যে গোষ্ঠীরই হোক না কেন, পূর্ণ নাগরিক অধিকার পাবে।

মিয়ানমারের ‘প্রবাসী সরকার’ আরো বলেছে, তারা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত শিবিরের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলবে এবং সবার মঙ্গলের জন্য উদ্যোগ নেবে। তারা রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত অতীতের নৃশংসতাগুলোর জবাবদিহিই শুধু নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর উদ্যোগ নেবে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সব অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগকে তারা সক্রিয়ভাবে সমর্থন করবে।

মিয়ানমারে সু চি সরকারের সময় গঠিত কফি আনান কমিশনের ৮৮ দফা সুপারিশের কথা উল্লেখ করে ‘প্রবাসী সরকার’ বলেছে, রাখাইন রাজ্যে সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানে ওই সুপারিশগুলো তারা কাজে লাগাবে। গত চার বছরে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে উল্লেখ করে ওই সরকার বলেছে, আনান কমিশনের সুপারিশগুলোর পাশাপাশি এসংক্রান্ত অন্যান্য সুপারিশও তারা আমলে নিয়ে রাখাইন রাজ্যে সবাইকে নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য তারা কাজ করবে।

মিয়ানমারের ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ আরো বলেছে, ২০০৮ সালের সংবিধান পরিবর্তন করে মিয়ানমারে নতুন সংবিধান প্রণয়নে তারা রাখাইন রাজ্যের সব পক্ষসহ দেশের সবার মতামত নেবে। নতুন সংবিধানের আলোকে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনসহ অন্যান্য আইন সংশোধন, পরিমার্জন বা বাতিলের কথাও বলেছে ওই সরকার। তারা বলেছে, নাগরিকত্ব আইনে মিয়ানমারে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের বা যেকোনো স্থানে মিয়ানমারের নাগরিকের সন্তানদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে ‘প্রবাসী সরকার’ নাগরিকত্ব যাচাইকরণ কার্ড বিলোপ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রোহিঙ্গারা ওই কার্ডের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে ‘প্রবাসী সরকার’ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের চুক্তি মেনে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেবে তারা। প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া বাস্তবায়নে অন্য কোনো পক্ষকেও যুক্ত করতে তারা প্রস্তুত। ‘প্রবাসী সরকার’ মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং সেই লড়াইয়ে রোহিঙ্গাদেরও যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র-কালেরকণ্ঠ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102