শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

যেসব শর্ত পালন করতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে

ডেস্ক নিউজ:
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি।

 

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খুলছে। দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরিসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই খুলছে। তবে এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পালন করতে হবে বিশেষ কিছু শর্ত।

আবার খোলার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব শর্ত ঠিক মতো পালিত হচ্ছে কিনা বা স্কুল খোলার পর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি কেমন হয় তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে কর্তৃপক্ষ।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক উইং এর পরিচালক মোঃ বেলাল হোসাইন বলেছেন, “আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবো এবং প্রতিটি স্কুলের ওপর প্রতি সপ্তাহে রিপোর্ট দেয়া হবে। যেখানে পর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষ নেই সেখানে বিকল্প দিনে ক্লাস হবে।”

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড: সৈয়দ মোঃ গোলাম ফারুক বলেছেন, তিনটি বিষয় অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে – তাপমাত্রা পরীক্ষা করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের ব্যবস্থা করা, প্রবেশের পর স্বাস্থ্যবিধি মানা বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মোটা দাগে এগুলো অবশ্য করণীয়। এরপর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী বিষয়গুলো বলব আমরা। স্কুলগুলো ইতোমধ্যেই এগুলো জানে এবং তারা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন রবিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হবে মন্ত্রণালয়ে এবং সেখানেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয় চূড়ান্ত করা হবে।

কী ধরনের নির্দেশনা গেছে?

কর্মকর্তারা বলছেন সরকারিভাবে স্কুলগুলোতে ইউনিসেফের সহায়তায় তৈরি করা একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে তাতে বলা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানের সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাইকে সবসময় মাস্ক পরতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের তিন ফুট শারীরিক দূরত্বে রাখা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার কথা আছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রেণি কক্ষে ৫ ফুটের চেয়ে ছোট আকারের বেঞ্চিতে একজন ও এর চেয়ে বড় আকারের বেঞ্চিতে দুজন শিক্ষার্থী বসানো যাবে।

কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দিকে পাবলিক পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরাই বেশি আসবে। বাকিদের স্কুলে আসার জন্য রোটেশন সিস্টেম অর্থাৎ আজ যারা আসবে তারা কাল আসবেনা-এই নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ১২ই সেপ্টেম্বরের আগেই স্কুলগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত করা ছাড়াও স্কুলে কোভিড সংক্রান্ত ব্যবস্থা অর্থাৎ হাত ধোয়া, তাপমাত্রা পরীক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

শিক্ষকরা কতটা প্রস্তুত?

বরিশালের শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া জেসমিন বলেছেন, আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এনেছি। হাত ধোয়ার আলাদা ব্যবস্থা করেছি। স্কুল ঘর পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। মাস্ক ও তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থাও হয়েছে।

অন্যদিকে ওই এলাকাতেই পূর্ব কর্ণকাঠী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন নাহার শিখা বলছেন তারাও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

গত বছর মার্চে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে বা সরাসরি ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েক দফা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত কভিড সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় ছুটি ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এখনো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলেও ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি সংক্রমণের হার কমে আসায় কভিড কারিগরি পরামর্শক কমিটির সাথে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছে। আগামী দিনে আরো কমবে। এ ছাড়া ধীরে ধীরে করোনার টিকা পাওয়া নিশ্চিত হওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সাপেক্ষে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে মতামত দিয়েছে কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে আগামী অক্টোবর থেকে আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তারা আপাতত সেখান থেকে সরছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে আমরা একটা রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলাম। সে রোডম্যাপ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস খোলা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর এবং মধ্য নভেম্বরে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেওয়ার কথা।

তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্কুল-কলেজের সঙ্গেই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কিন্ডারগার্টেনও একই দিন থেকেই খুলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

সূত্র-কালেরকণ্ঠ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102