বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

যেকোন সময় জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫০০৮ বার পড়া হয়েছে

গঠনতন্ত্র মতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগে। কয়েকদফা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল নেতাদের অসহযোগিতার কারণে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম। সাংগঠনিক অচলাবস্থা দুর করতে কক্সবাজারে নতুন কমিটি গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটি গঠন নিয়ে ইতিমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের সাথেও কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতারা।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সভায়ও আলোচনা হয়েছে।

এদিকে নতুন কমিটি গঠনের খবরে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে চাওয়া নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত হতে দেখা গেছে। তারা তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন।

তবে, অনেকে আবার কমিটি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নতুন কমিটির আসার খবরটি নিছক গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তাদের মতে, অনেকবার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা প্রচার হয়েছিল। কিন্তু তা প্রচারেই সীমাবদ্ধ ছিল। বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারাও বর্তমান কমিটি বহাল রাখতে কেন্দ্রে তদবির শুরু করেছেন।

জেলা ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মেয়াদ উত্তির্ণ হওয়ার পর কেন্দ্র থেকে বেশ কয়েকবার সম্মেলনের তারিখ ঘোষনা করা হয়। কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষনেতাদের অসহযোগিতা আর অনিচ্ছায় সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের বছরের ২০ সেপ্টম্বর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষনা করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজুয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ নির্দ্দিষ্ট তারিখে সম্মেলন করতে ব্যর্থ হলে কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব থেকে শোভন, রাব্বানী অব্যাহতি নেয়ার কারণে সেবারও সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় ছাত্রলীগের তরুন নেতৃত্ব একদিকে যেমন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে, তেমনি অন্যদিকে সাংগঠনিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। মাঠে কার্যক্রম না থাকায় জেলা ছাত্রলীগের তার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক নির্ভর হয়ে পড়েছে।

তাদের দাবি গেল ৫টি বছর জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাচারিতা আর অগঠনতান্ত্রিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। নিজেদের ইচ্ছে মতো প্রেস বিজ্ঞপ্তি নির্ভর কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বিভিন্ন উপজেলায় কমিটি গঠনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে অনৈতিক লেনদেনের বিষয়টিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ঝিমিয়ে পড়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে এবং গঠনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ১০ ধারার (খ) উপ-ধারা মতে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, নেতৃত্ব সংকটের কারণে জেলা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও তৈরি হয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে চেইন অব কমান্ড। দীর্ঘদিন পর হলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে নতুন কমিটি ঘোষণা দিয়েছেন। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চলতা ফিরে এসেছে।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দেয়া তথ্য মতে, জেলা ছাত্রলীগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক মারুফ আদনান, আপ্যায়ন সম্পাদক কায়সার চৌধুরী রুবেল, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক মঈন উদ্দিন, ওয়াসিফ কবির এবং ছাত্রলীগ কর্মী আনোয়ার হোসেন। এর বাইরেও কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন যারা লবিংএ অনেক পিছিয়ে রয়েছেন বলে জানান তারা।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য বলেন, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। তাই মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এবাবরে বিতর্কিত কাউকে কমিটির দায়িত্ব দেয়া হবে না।
জেলা আওয়ামী লীগ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে কথা বলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি গঠন করা হবে।

জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সেল থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ২০১৪ সালের ১৩ই ডিসেম্বর কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জেলা ছাত্রলীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের এক মাস পর ২০১৫ সালেল ১০ জানুয়ারি ইশতিয়াক আহমেদ জয়কে সভাপতি ও ইমরুল হাসান রাশেদকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি ঘোষনা করা হয়। সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান রাশেদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মোর্শেদ হোসেন তানিম।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102