রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ১২:১৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

‘মোটরসাইকেল ছিনতাই করতে মুবিনকে হত্যা করা হয়েছে’

ওয়াহিদ রুবেল:
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১
  • ২৩৫ বার পড়া হয়েছে

মোটরসাইকেল ছিনতাই করতে মুবিনকে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে হত্যাকারীরা চকরিয়ার নোনাছড়ি সুইচ গেইট নামক স্থানে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং ধারালো অস্ত্র সরবরাহ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ মে মাগরিবের নামাজের পর রাত অনুমান সাড়ে নয়টার দিকে মুবিনকে তার ভাড়ায় চালিত মটরসাইকেল নিয়ে ফাইতং এর দিকে রওয়ানা হয়। পরে সুযোগ বুঝে গাড়ি থেকে নামিয়ে চুরি দিয়ে হত্যা করে পাহাড়ের নিচে ফেলে দেয়া হয়। এরপরে মোটরসাইল নিয়ে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মুবিন হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আটক আসামি আব্দুল্লাহ (১৬) এর বরাত দিয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আটক আব্দুল্লাহ চকরিয়ার হারবাং নোনাছড়ি এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে।

আসামি আব্দুল্লাহ চকরিয়া উপজেলার হারবাং নোনাছড়ি এলাকার আব্দুর রশিদ এর ছেলে। ২৫ মে মঙ্গলবার রাত অনুমান আটটার দিকে চট্টগ্রাম বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এরপরে হত্যার পরিকল্পনাসহ পুরো ঘটনার বর্নণা দিয়ে হত্যায় অংশ নেয়া তার অপরাপর সহযোগিদের তথ্যও র‌্যাবকে জানান আব্দুল্লাহ।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২১ মে লামা থানাধীন ফাইতং ইউনিয়নের অলিকাটা নামক স্থানে পাহাড়ের ঢালে স্থানীয় সাবেক আবু মেম্বারের লেবুর বাগানের পাশে অর্ধগলিত অবস্থায় লামা থানার মইজপাড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মুবিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কে বা কারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তার সঠিক তথ্য দিতে পারেননি কেউ। এ অবস্থায় র‌্যাব-১৫ এর একটি চৌকস আভিযানিক দলটি উক্ত হত্যাকান্ডটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করে। র‌্যাব জানতে পারে যে, এ ধরনের অনেক হত্যাকান্ড পূর্বেও সংগঠিত হয়েছে। যেখানে হত্যার পর মোটর সাইকেল নিয়ে পালিয়ে যেত হত্যকারীরা।

র‌্যাব-১৫ এর গোয়েন্দা টিম দিন/রাত পরিশ্রম হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী আব্দুল্লাহকে মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম বাকলিয়া থানা এলাকা হতে আটক করা হয়।

আটককৃত আব্দুল্লাহ র‌্যাবের কাছে জানায় যে, তার সহযোগী নোনাছড়ি এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে কায়সার এবং ইলিয়াসের ছেলে আব্দুর রহিম (১৮) মুবিনকে হত্যা করে তার মালিকাধীন মটর সাইকেল ছিনতাই করার পরিকল্পনা করেন। এ উদ্দেশ্যে ১৮’মে মাগরিবের নামাজের পর আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহিম ও কায়সারসহ নোনাছড়িতে কায়সারের বোনের চা’র দোকানে একত্রিত হয়ে চুড়ান্ত পরিকল্পনা করেন। এবং বোনের বাড়ি থেকে একটি স্টিলের চাকু সংগ্রহ করেন। রাত অনুমান সাড়ে নয়টার দিকে আসামীরা তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের পরিচিত মটরসাইকেল চালক মুবিনকে ফাইতং এ এক বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ভাড়া করেন। ফোন করে তাকে নোনাছড়ি সুইচ গেইট আসতে বলে। ভিকটিম মুবিন তাদের কথামতে তার মটরসাইকেলটি নিয়ে রাত অনুমান পৌনে দশটার দিকে নোনাছড়ি সুইচ গেইট আসে এবং আব্দুল্লাহ, কায়সার ও আব্দুর রহিম এবং ভিকটিম মুবিনসহ চার জন মটরসাইকেলে করে ফাইতং যাওয়ার উদ্দেশ্যে বড়ইতলী হতে চিউবতলী রোডে অলিকাটা নামক স্থানে পৌঁছায়। তখন আব্দুর রহিম সু-কৌশলে প্রসাব করার জন্য মুবিনকে মটরসাইকেল থামাতে বলে। মুবিন মটরসাইকেল থামালে আব্দুর রহিম প্রসাব করে এসে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনজন মিলে ভিকটিম মুবিনকে মটরসাইকেল থেকে টেনেহিছড়ে গলায় চেপে ধরে রাস্তার পাশে মাটিতে ফেলে নৃশংসতম হত্যার উদ্দেশ্যে চাকু দিয়ে বারংবার ভিকটিমের গলায় প্যাঁচাতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে স্ক্রু ড্রাইভারের সাহায্যে মুবিনের অন্ডকোষসহ শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে জখম করতে থাকে। তারপরও মৃত্যুর ব্যাপারে সন্ধিহান হলে নিকটস্থ পাহাড় থেকে মুবিনকে ছুড়ে ফেলে দেয় তারা।

আটক আব্দুল্লাহকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লামা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে পালাতক আসামীদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102