সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

মেজর (অব:)সিনহা হত্যা মামলার আরজিতে যা আছে……

ওয়াহিদ রুবেল:
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০
  • ২৯৫ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের টেকনাফ শামলাপুর পুলিশের তল্লাসি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে অবসর প্রাপ্ত সাবেক মেজর সিনহা মো: রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে নিহত সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদি হয়ে ৯জনকে আসামী করে কক্সবাজার সিনিয়ার জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-৩ টেকনাফ এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং সিআর ৯৪/২০২০।

বিজ্ঞ আদালত এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে আগামি ৭ দিনের মধ্যে আদালতকে অবগত করতে টেকনাফ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে মামলাটি তদন্ত করতে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫) এর কমান্ডারকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

আলোচিত হত্যাকান্ডের এজাহারে যা লিখেছেন তা পাঠকের সুবিধার্থে তুলে ধরা হলো–

মামলায় যা আছে—

বাদি একজন উচ্চ শিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত এবং জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক। পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা। মামলার আসামীরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ও বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য হয়েও বিভিন্ন ধরনের অন্যায়, অপকর্ম করে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে আসতেছে।

মামলায় বাদি উল্লেখ করেন, নিহত মেজর (অব:) সিনহা মো: রাশেদ খান তার শিক্ষা জীবনে কৃতত্বের স্বাক্ষর রেখে ২০০৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ৫১ তম বিএমএ লং কোর্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং সাফল্যের সাথে প্রশিক্ষণ শেষ করে সেকেন্ড লেফটেনেন্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। সাবেক মেজর সিনহা রাশেদ ২০০৯ সালের ৪ জুলাই হতে ২০১২ সালের ২ নভেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) এর সদস্য হিসেবে অত্যান্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্য হিসেবে আিইভোরি কোস্ট এ জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা বাহিনীতে অন্তভূক্ত হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কর্তব্য পালন করেন। জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় মেজর হিসেবে পদোন্ততি প্রাপ্ত হন।

২০১৮ সালে একান্ত ব্যক্তিগত কারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকুরি হতে স্বোচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর থেকে তিনি বিভিন্ন রকমের শৈল্পিক, সাংস্কৃতিক, ভুমণ ও পর্যটন বিষয়ে নানা প্রকার সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। এছাড়াও দেশীয় সংস্কৃতি ও িঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যে ‘জাস্ট গো’ নামক একটিট ইউটিউব চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই ইউটিউব চ্যানেল এর ডকুমেন্টারি কনটেন্ট তৈরি করতে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি ভিডিও চিত্র ধারণ করে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্টপকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এরই ধারবাহিকতায় নিহত মেজর (অব:) সিনহা মো: রাশেদ খান চলতি গত ৩ জুলাই হতে তার সহকর্মী সাহেদুল ইসলাম ওরফে সিফাতসহ মোট ৪ জনকে সাথে নিয়ে ভিডিও চিত্র ধারণ করার নিমিত্তে কক্সবাজারে আসেন। এবং হিমছড়িস্থ নীলিমা রিসোর্টে অবস্থান করেন। গত ৩১ জুলাই বিকেল ৪ টার সময় নিহত সিনহা ও সিফাতসহ ভিডিও চিত্র ধারণ করতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড রাস্তা সংলগ্ন পাহাড়ের কাছে যান।

দিনের ভিডিও চিত্র ধারন শেষে সন্ধ্যাকালীন দৃশ্য ধারণ করার জন্য রাত আটটা পর্যন্ত তারা উক্ত স্থানে অবস্থান করেন। উক্ত স্থান হতে ফেরার পথে আনুমানিক রাত সাড়ে ৯ টার সময় নিহত সাবেক মেজর সিনহা নিজস্ব প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-০৯৭৯) চালিয়ে শামলাপুর পুলিশের চেক পোস্ট অর্থাৎ ঘটনাস্থলে আসার পর আসামিরা গাড়ির গতিরোধ করলে সিনহা তার পরিচয় ‘অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা’’ বলে জানান। একই সময় আসামীরা সিফাতকে গাড়ির সামনের বাম দিকের দরজা খুলে টেনে হিঁছড়ে বাহির করে। এ সময় তিনি হাত তুলে তাদের পরিচয় দেন। এতে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ড্রাইভিং সীটে বসে থাকা নিহত মেজর (অব:) সিহনাকে অথ্য ভাষায় গালি গালাজ করতে থাকে। এ সময় সিনহা দুই হাত উপরে তুলে গাড়ি থেকে বের হয়ে নিজের পরিচয় দিতে থাকেন। কিন্তু ১নং আসামি শামলপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত গালি গালাজ করতে করতে সিনহার উদ্দোশ্যে বলে, তোর মতো বহুত মেজরকে আমি দেখছি, এইবার খেলা দেখামু’। এ সময় ১ নং আসামি লিয়াকত আলী ২ নং আসামী টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশকে ফোন করেন এবং নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলেন। এক পর্যায়ে লিয়াকত বলেন, ‘ঠিক আছে শালারে শেষ করে দিতাছি’। কিছু বুঝে উঠার আগেই লিয়াকত ঠান্ডা মাথায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাদীনির ভাইকে হত্যার উদ্দোশ্যে শরীরের উর্ধ্বাংশে কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। এতে সিনহা রাশেদ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায়। নিজের জীবন রক্ষা করতে ব্যর্থ চেষ্টা করেন। এ সময় অন্যন্য আসামীরা এসে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেন। তারা সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করতে আরো কয়েক রাউন্ড গুলি করেন লিয়াকত। পরে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ। তিনি যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা মেজর সিনহার শরীরে লাথি দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত হন।

এ সময় স্থানীয় লোকজনকে অস্ত্র উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেন।প্রায় পৌনে বারোটার দিকে সিনহাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে আমি (বাদী) ভাইয়ের মৃত্যু সম্পর্কে অবগত হই। তার দাপন কাপন শেষে ও ভাইয়ের শোক কাটিয়ে আজ ৪ জুলাই ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বাক্ষি ও আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি।

হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে টেকনাফ থানায় মিথ্যা, বানোয়াট ঘটনা সৃষ্টি করে মাদকদ্রব্য এবং সরকারী কাজে বাধদানের অভিযোগ এনে নিহত সিনহার সহযোগি সিফাতের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন। তাকে উক্ত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। আসামীরা নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড সংগঠিত করার পর তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সালাপরামর্শে হত্যাকান্ডটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন বলে বাদী জানতে পারেন।

১ নং আসামী লিয়াকত ২ নং আসামী প্রদীপ কুমার দাশের প্ররোচনা ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নির্দেশিত হয়ে মেজর (অব:) সিনহা রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন বাদী।

মামলার আসামীরা হলেন, লিয়াকত আলী, ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এস,আই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কং সাফানুর করিম, কং কামাল হোসেন, কং মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, এ,এস,আই লিটন মিয়া, এস,আই টুটুল, কং মোঃ মোস্তফা।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102