বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

`মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান; রোহিঙ্গাদের প্রতিক্রিয়া নেই’

ওয়াহিদ রুবেল:
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৮২ বার পড়া হয়েছে

হঠাৎ করে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান নিয়ে বাস্তুচুত্ত্য রোহিঙ্গাদের মাঝে কোন প্রতিক্রিয়া নেই। উল্টো ক্ষমতাচুত্ত্য অন সাং সুচীকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করছেন তারা। এছাড়াও মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানে তাদের জীবনের কোন পরিবর্তন আসবে না বলেও দাবি করেছেন তারা। সেনা অভ্যুত্থানের পর প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন জট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উপর আস্থা রাখছেন তারা।

এদিকে হঠাৎ মিয়ানমারের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সর্তক অবস্থায় রয়েছে।

সোমবার সরেজমিনে উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে, ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গারা দলে দলে ভাগ হয়ে বড় গাছের ছায়ায়, চায়ের দোকানে এবং রাস্তার ধারে বসে মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানের বিষয়ে আলাপ আলোচনায় মেতে আছেন। সেনা অভ্যুত্থানের কারণে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন বা প্রত্যাবাসন নিয়ে বেশির ভাগ রোহিঙ্গা সন্দিহান। তবে কেউ কেউ বলছেন সেনাবাহিনী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতেও পারে।

টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের নেতা মোহাম্মদ আলম জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি। এ অবস্থায় তারা আবার প্রত্যাবাসনে এগিয়ে আসবে তা কখনো মানতে পারছি না। আমার মনে হয় নতুন সেনা অভ্যুত্থান প্রত্যাবাসনে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের যে তৎপরতা সেটা অব্যাহত থাকুক আমরা সেটি প্রত্যাশা করছি।

রোহিঙ্গা নাগরিক আব্দু শুক্কুর নামে এক রোহিঙ্গা জানান, অন সাং সূচী সরকারে থাকা অবস্থায় আমাদের জন্য কিছুই করতে পারেন নি। উল্টো আমাদের বিপক্ষে অবস্থান করেছে সেখানে আমরা নতুন কিছুই দেখছি না। বরং মুদ্রার এপিটওপিট।

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শাকের আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন। বাংলাদেশ সরকারও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সে অবস্থায় মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান আমাদের ফেরার পথ কি হবে জানি না। মূলত আমাদের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপর নির্ভর করছে। তারা যদি চাপ প্রয়োগ করতে না পারেন তবে সুন্দর সমাধান আসবে না।

তাজনিম্মার খোল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বৃদ্ধ রোহিঙ্গা নারী আনজুম আরা জানান, আমার চোখের সামনে আমার পুত্রবধুকে ধর্ষণ করেছে সেনা বাহিনীর সদস্যরা। আমাদের ঘরবাড়ি জালিয়ে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের কাছে আমাদের কোন চাওয়া নেই। যদি বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে না আসেন মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া আমাদের জন্য অলিক স্বপ্নের মতো।

রোহিঙ্গাদের দাবি, মিয়ানমারে ফেরার ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের কিছু শর্ত রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের নাগিরকত্ব প্রদান ও ভিটেমাটি ফেরত এ দুটি শর্ত সেনাবাহিনী মেনে নেবে না। আর শর্ত না মান মানেই রোহিঙ্গাদের ফেরার পথ বন্ধ করে দেয়া। এ অবস্থায় সেনা অভ্যুত্থান তাদের জন্য সুখবর বলে কিছুই নয়। তারা অন সাং সূচীকেও অযোগ্য আর সেনা বাহিনীর আজ্ঞাবহ বলে দাবি করেছেন তারা। এ বিষয়টি নিয়ে তাদের কোন প্রতিক্রিয়া নেই বলে জানান তারা। অনেকে আবার বাংলাদেশ সরকারের দিকে চেয়ে রয়েছেন।

এদিকে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সর্তক অবস্থান নেন এপিবিএন এর সদস্যরা। তারা যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ১৬ এপিবিএন’র কোম্পানী কমান্ডার তরিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ক্যাম্পে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায়  আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সচেষ্ট রয়েছে। তবে,রোহিঙ্গাদের মাঝে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102