সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

মা’ আক্রান্ত হলে গর্ভের শিশুরাও আক্রান্ত হতে পারে’ কক্সবাজার হামের রেড জোন...

ওয়াহিদ রুবেলঃ
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৫১ বার পড়া হয়েছে

গর্ভবতী মহিলা হাম-রুবেলায় আক্রান্ত হলে গর্ভের শিশুরাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পর্ভপাত বা গর্ভের শিশুর মৃত্যুও হতে পারে। জন্মের পরও শিশুর নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। মনে রাখতে হবে হাম-রুবেলা ভাইরাসজনিত দুটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে অন্যদের মাঝে দ্রুত এ রোগ ছড়ায়। শিশু ছাড়াও যেকোনো বয়সের মানুষের হাম-রুবেলা হতে পারে। তবে, শিশুদের মাঝে হাম-রুবেলার প্রকোপ, জটিলতা ও মৃত্যুর হার বেশি। হামের কারণে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এনকেফালাইটিস, অন্ধত্ব ও বধিরতা দেখা দিতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৭ডিসেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা ইপিআই সেন্টারে কক্সবাজার জেলা সির্ভল সার্জন আয়োজিত জাতিয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

‘মুজিববর্ষে স্বাস্থ্য খাত, এগিয়ে যাবে অনেক ধাপ’ এ স্রোগানে শনিবার ১৯ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এতে আরো জানানো হয়, ২০১৪ সালে দেশে সর্বশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। কিন্তু রোগ নিরীক্ষণ তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালে দেশে আবারো হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। যার কার্যকারিতা এখনো বিদ্যমান। কক্সবাজারে ২০১৯ সালে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাওয়া যায় ৩১২ জন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত ১৩৩ জন রোগী সনাক্ত হয়েছে। এসব বিবেচনায় কক্সবাজারকে হামের রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে খুবই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এবারে জেলায় ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৫২৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে । যেখানে ৯ মাস থেকে ৫ বছরের শিশু ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৬ জন এবং ৫ বছর থেকে ১০ বছরের শিশু ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬৩৯ জন শিশুকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে এ টিকা খাওয়ানো হবে। টিকাদান ক্যাম্পেইনে জেলায় ৯ টি নির্ধারিত এবং ৫ হাজার ৭৬০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রসহ মোট ৫ হাজার ৭৬৯টি কেন্দ্র থেকে এ সেবা দেয়া হবে। যেখানে স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন ১১ হাজার ৫৩৮ জন। তাদের সহযোগী হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী থাকবে ১৭ হাজার ৩০৭ জন।

ব্রিফিংয়ে আরো জানায়, হাম-রুবেলা টিকা সারা বছরই দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও ৩ থেকে ৪ শতাংশ অসচেতনতার কারণে গ্যাপ পড়ে যায়। এভাবে সংখ্যা বাড়লে রোগাক্রান্তও বাড়ে। তাই প্রয়াজন বিবেচনায় ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে সরকার। চলতি বছরের ফেব্রæয়ারিতে রোহিঙ্গা শিবিরের ৩ লাখ ১৫ হাজার শিশু হাম-রুবেলা টিকা পেয়েছে।
এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাববে বক্তারা বলেন, যদি শিশুদের মাঝে মাঝে জ্বর আসে, জ্বর আসার তিনদিনের মধ্যে শরীরে লাল লাল গুটি দেখা দেয়- তখন ধরে নিতে হবে শিশুটি হাম রেগে আক্রান্ত। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অবশ্যই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। জটিল এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে সঠিক সময়ে শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেয়া আবশ্যক। এব্যাপারে তৃৃৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার সৌনম বড়ুয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কক্সবাজারের সার্ভিল্যান্স এন্ড ইস্যুনাইজেশন মেডিকেল অফিসার সুরাইযা আকতার জেমি, ইমার্জেন্সি রেসফন্স প্লান কক্সবাজারের হেলথ কো-অর্ডিনেটর এসএম জামসেদুল হক, স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রাণালয়ের কো-অর্ডিনেটর সেন্টার কক্সবাজারের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. খায়রুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনের আগে স্থানীয়দের সচেতন করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102