শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

ব্যক্তিগত স্বার্থ তাদের কাছে মূখ্য, দলীয় নয় ! বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ১১ নেতাকর্মী বহিষ্কার

আনিস নাঈম, রামু:
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১১০ বার পড়া হয়েছে

 

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ থেকে যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

‘ভোট আসলে দলের মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়ন না পেলে দলের বিরুদ্ধে ভোট করবেন। এটি তার স্বভাবে পরিণত হয়েছে। যদি দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হতো তবে এমনটি করার সাহস দেখাতো না’। টেকনাফ উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেনকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকতো না বলে মনে করেন তারা। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ নুর হোসেনকে নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী করে প্রচারনা চালাচ্ছেন। যেখানে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা নৌকা বিরোধী প্রচারণায় নেমেছেন বলেও দাবি তাদের।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, নুর হোসেন গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে বহিষ্কার হয়েছিলেন। ২০২১ এসেও নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আবারো ভোটের মাঠে নেমেছেন তিনি। এবারও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে তাকে।

দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলে হয়তো এমনটি দেখতে হতো না বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।

শুধু নুর হোসেন না এবারে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন হ্নীলা, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক নেতাকর্মী। টানা ক্ষমতায় থাকায় দলের ত্যাগীদের অনেকে চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ফলে মনোনয়ন না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন। বিষয়টি এমন যে সবাইকে চেয়ারম্যান হতে হবে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। এসব নেতাদের কাছে ব্যক্তিগত স্বার্থই মূখ্য, দলীয় নয়। এভাবে চলতে থাকলে দলের পরাজয় নিশ্চিত বলে মনে করেন তৃণমূলের কর্মীরা। তবে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া অনেকে মনে করেন, অযোগ্য ও জনবিচ্ছিন্নদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যা কখনো কাম্য নয়।

এদিকে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়ায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ থেকে ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নৌকার বিজয় নিশ্চিত ও দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ এগারো জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক এম এ মঞ্জুর ।

তিনি বলেন, যারা দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তারা সবাই যোগ্য। যোগ্যদের মাঝে দলের প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একজনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল দল। আশা করছি দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া বহিষ্কৃত নেতারা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন।

 

টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নে নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন যুবলীগ টেকনাফ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন।

 

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছেন, সাবরাং ইউনিয়নে গেল বারেও বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর হোসন। উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি চক্র তাকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মদদ দিয়ে আসছে শুরু থেকে। গেলবার তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলে এবারে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সাহস দেখাতো না। কিন্তু তা না করে উপজেলা আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন পাইয়ে দিতে জেলা আওয়ামী লীগকে সুপারিশ করেছেন। আর জেলা আওয়ামী লীগ তার নাম ঢাকায় পাঠিয়েছেন।

এদিকে গত বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ যে ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে তারা হলেন, টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জাফর আলম, হ্নীলার কামাল উদ্দিন আহমেদ, হোয়ানক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম জুহুর, কুতুবজোমের মোশাররফ হোসেন খোকন, মাতারবাড়ির চেয়ারম্যান মাস্টার মাহমুদুল্লাহ, সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এনামুল হক রুহুল, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছাত্তার, হোয়ানক ইউনিয়নের মীর কাশেম চৌধুরী, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ওয়াজেদ আলী মুরাদ, কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের সিরাজদৌল্লাহ, পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নের মো শজিদুল্লাহ বিএ।

একই সাথে তাদের কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবেনা তা জানতে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জানাতে কারণ নির্দেশনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর জেলার ১৪ টি ইউনিয়ন ও ২ টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102