শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

বিধ্বস্ত জেটি: সেন্টমার্টিন যাওয়া নিয়ে শংকা !

ওয়াহিদ রুবেল:
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বপর্যটন দিবস। এটি পালনের মধ্য দিয়েই মূলত শুরু হবে বছরের আনুষ্ঠানিক পর্যটন বছর। সেই ভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন কক্সবাজারের পর্যটনসেবীরা। কিন্তু দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের জেটি বিধ্বস্ত হওয়ায় এ বছর সেন্টমার্টিন যাওয়া নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে।

পর্যটন শিল্প ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর দেশ বিদেশের লক্ষ লক্ষ পর্যটক কক্সবাজারে আসেন। কক্সবাজার আসলেই তারা ছুটে যান প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে। কিন্তু মৌসুম শুরুর আগেই জেটি ভেঙ্গে যাওয়ায় পর্যটকদের আসা যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এতে হয়তো ভ্রমন পিপাসুরা সেন্টমার্টিন যাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

তারা বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের ভ্রমণের আরাধ্য স্থান প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পূর্বের মতো পর্যটক আনা-নেয়া করতে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে জাহাজ নামানোর উদ্যোগ শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।

সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে চালানো একাধিক জাহাজের পরিচালক পর্যটন উদ্যোক্তা তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, গেল কয়েকটি বছরে বয়ে যাওয়া ঘুর্ণিঝড়-জ্বলোচ্ছ্বাসের তান্ডবে সেন্টমার্টিন জেটির অনেকাংশ ভেঙে পড়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে প্লটুন। সর্বশেষ গত ২৭ মে ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জেটিটি আরেক দফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেঙে গেছে জেটির পাশে ট্রলার ভিড়ানোর অংশটিও। যে কারণে অনেকটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জেটি। কিন্তু দ্বীপকে ঘিরে পর্যটন ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগ করেছে। তাই মৌসুমের সময়টাতেই ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষতি পুুষিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। কিন্তু জেটির বেহাল দশার কারণে বিনিয়োগকারিরা আজ দিশেহারা। এতে পর্যটন খাতে জড়িত অন্তত অর্ধলাখ মানুষের জীবন-জীবিকা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে।

জেটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে তোফায়েল আহম্মেদ আরো বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক পারাপারে ৮-১০টি জাহাজ, ২০০-৩০০ বাস-মিনিবাস, শতাধিক মাইক্রোবাস, ২০০ ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান, ৪০০ ট্যুরিস্ট গাইড এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ ৫০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা সেন্টমার্টিনকে ঘিরে পরিচালিত হয়। এছাড়া সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের জন্য দ্বীপে গড়ে ওঠেছে দুই শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ। রয়েছে শতাধিক রেস্তোরাঁ। শীত মৌসুমে দ্বীপবাসীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের একমাত্র আয়ের উৎস পর্যটন। তাই পর্যটনকে পুঁজি করে প্রচুর বিনিয়োগ রয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জেটি সংস্কার করা না গেলে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল রাজস্ব হারাবে। আর্থিক ক্ষতিরমুখে পড়বে এখাতে সম্পৃক্ত প্রায় অর্ধলাখ মানুষ।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, জেটি নষ্ট হওয়ায় দ্বীপের কোন মানুষ অসুস্থ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফে যাওয়া কঠিন। দ্বীপবাসী তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য আনা-নেওয়া করতে ভোগান্তিতে পড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞার কারণে সরকারি কাজগুলো করা না গেলেও রহস্যজনক কারণে বেসরকারি স্থাপনা ঠিকই গড়ে উঠছে দ্বীপে। অথচ এখানে নৌ-বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নানা দপ্তর এখানে কাজ করে।

কক্সবাজার জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহি হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, সেন্টমার্টিনের জেটিটি জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধিন। এটি প্রতি অর্থবছরে নিলামের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়। চলতি ১৪২৮ বঙ্গাব্দেও এটি নিলাম হয়েছে এক কোটি ২২ হাজার টাকায়। এর আগে ৭০-৮০-৯০ লাখ এভাবে নিলাম হয়েছে। জেটিটি অনেক আগেই ব্যববহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। অথচ এটি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় হলেও আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন জেটি স্থাপনে হাত দিতে পারছি না। এরপরও ৪২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে জেটি সংস্কারের অনুমতি চেয়ে চলতি মাসের ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। নির্দেশনা এলে দ্রুত সংস্কারে হাত দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে সেন্টমার্টিনে একটি অত্যাধুনিক জেটি নির্মাণের উদ্যোগ হাতে নেবো। এ সংক্রান্ত যতেষ্ট ফান্ড আমাদের হাতে আছে।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102