শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

বাংলাদেশে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং আওয়ামী বিরোধীদের রাজনীতি

সুলতান আহমদ:
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১
  • ১৬০ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের বিরোধী অন্যান্য দলগুলোর মুখে প্রায় প্রতিনিয়ত যা শুনি, তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে- তাদের রাজনীতির একটি বিশেষ সিলেবাস এই ‘র’। বাংলাদেশে ‘র’-এর কার্যক্রম সম্পর্কে তারা এতবেশি জ্ঞাত ও অভিজ্ঞ যে, ওদের এসএসসি বা দাখিল পাশ করা কোনো সমর্থকের সাথেও আমি প্রায় তর্কে হেরে যেতে বসি। আর এর চেয়েও বেশি যারা পড়ালেখা করেছে, তাদের সঙ্গে তো সম্পূর্ণই পরাজিত হই। তাদের রাজনৈতিক শিক্ষা ও দীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্ট- এই ‘র’। আমার যতটুকু সন্দেহ- যদি সত্যিই ‘র’ বাংলাদেশে কোনো কার্যক্রম চলমান রাখে, তবে এই আওয়ামী বিরোধীদের সাথে শলা-পরামর্শ করেই তারা সমস্ত কাজ করে। নয়ত ‘র’ সম্পর্কে তারা এত তথ্য দেয় কী করে?
নিখোঁজ ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান সম্পর্কে সকালেও ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছি। সেটি ছিল তার পক্ষেই। কারণ, তার বক্তব্যগুলো ইউটিউবে দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছি। কিন্তু সন্ধ্যার পরে একটি ভিডিও দেখলাম- যেখানে সে বলছে, ‘বর্তমান বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কোনো বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বা নেন না। সব সিদ্ধান্ত আসে ঐখান থেকে, সব রেজুলেশন পাশ হয়ে আসে ঐখান থেকে। একটি সিদ্ধান্তও এখানে তৈরি হয় না।’
মানুষ মাত্রই ভুল করে। জনাব আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান মাত্র একত্রিশ বছরের যুবক। আমার এখানে মনে হয়েছে, এটি তার ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত ভুল। যদি ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে সে সরকার বিরোধী কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে এসব বলেছে। এবং এটিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে মেনেও নিতে পারলাম না। কারণ, বর্তমান যুবসমাজকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশের মুসলমানদের ধর্মাচার সম্পর্কে তার বক্তব্যসমূহ সময়োপযোগী। কিন্তু ‘র’ এর কাহিনী সেটা ব্যাকডেটেট বিষয় বা সেকেলে কৌশল। সম্ভবত সে যখন যুব সমাজের কাছে সেলিব্রেটি পর্যায়ে মর্যাদা পাওয়ার পথে, তখনই তাকে দিয়ে সরকার বিরোধীরা এই বক্তব্য প্রদানে উৎসাহিত করেছে বলে মনে হয়। যেন বর্তমান যুব সমাজকে সেই পুরাতন স্টাইলে রাজনীতিতে বিভ্রান্ত করে দিতে পারে। ‘র’ সম্পর্কে তার বক্তব্যগুলো একেবারে হুবহু আওয়ামী বিরোধীদের স্টাইলে আলোচিত হয়েছে।
স্বাধীন বাংলাদেশকে যারা স্বাধীন দেশ হিসেবে ভালবাসেন বা ভালবাসার দাবী করেন, তাদের কাছে আমার একটি কথা- একাত্তরের যুদ্ধ এমনি এমনি হয়নি। দীর্ঘ চব্বিশ বছরের বঞ্চনার পুঞ্জিভূত ক্ষোভ থেকে এটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছিল। যেখানে পাকিস্তান ছিল অত্যাচারীর ভূমিকায়, আর পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ ছিল মজলুম বা অত্যাচারের শিকার। মাত্র নয় মাসের সংগ্রামে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এবং দুই লক্ষ বা তারও অধিক নারীর সম্ভ্রম বা সতীত্ব হানির বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশ। যারা ভারত বিরোধীতা করেন, বা ভারত সম্পর্কে মজার মজার গল্প দিয়ে রাজনীতি করেন, তাদের বলছি- যদি সেই নয় মাসের যুদ্ধে ভারত সর্বেসর্বা আমাদের পাশে না থাকতো, আমরা আজ পর্যন্তও স্বাধীন হতাম কিনা, তার সহজ উত্তর পাকিস্তানের অন্যতম প্রদেশ বর্তমান বেলুচিস্তান; যারা আমাদের অনেক আগে থেকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হওয়ার সংগ্রামে আছে, এখনও স্বাধীন হতে পারেনি। সেই যুদ্ধকালীন সময়ে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে আমাদের আজও পরাধীন করে রাখতো যদি ভারত তৎকালীন বিশ্ব পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার সহায়তা না পেত। সেই সময় আরেক পরাশক্তি আমেরিকা পাকিস্তানের পক্ষে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল, যদি রাশিয়া হুমকি না দিত পাকিস্তান আমেরিকার সহায়তায় আমাদেরকে আজও পরাধীন জাতি হিসেবে শাসন করতো। সর্বোপরি- বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা যুদ্ধের অস্ত্র বা যুদ্ধ প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের সরঞ্জামাদি পেয়েছে এই বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের কাছ থেকেই। এমনকি তাদের সতের হাজার সৈন্যও আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে। তাদের এত অবদানের পরও আপনারা দিন-রাত ভারত বিরোধী রাজনীতি করে দেশকে খুবই শান্তির দেশে পরিণত করছেন, না অশান্তি সৃষ্টির-ই আগুন জ্বালাতে থাকেন? ভারত আমাদের প্রতিবেশী শক্তিধর রাষ্ট্র, যতই বিরোধীতা করেন না কেন, বেহায়ার মতো তাদের দেশে বা মাটিতে চাষ করা পেঁয়াজ আমাদের দেশে রপ্তানী বন্ধ করে দিলেই আপনারা অসহায় হয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন। ভাই পেঁয়াজের মতো সাধারণ জিনিস নিয়ে যারা এত অসহায়, তারা আবার ভারত বিরোধীতা করেন কোন্ আক্বেলে? প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র ভারত বিরোধীতা বন্ধ করেন, দেশকে শান্তিতে থাকতে দেন। আর যদি একাত্তরের অত্যাচারী পাকিস্তান আপনাদের খুবই পিয়ারা পাকিস্তান হয়ে থাকে, তবে আমি আর কিছু বলতে অক্ষম।
লেখক-সহকারী অধ্যাপক,কক্সবাজার সরকারি কলেজ।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102